লাশ বহন, কবর যিয়ারত ও তাল্কীন এবং লাশ স্থান্তর ইত্যাদির বর্ণনা | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

লাশ বহন, কবর যিয়ারত ও তাল্কীন 
এবং লাশ স্থান্তর ইত্যাদির বর্ণনা
✍ কৃতঃ আল্লামা আজিজুল হক আল কাদেরী (رحمة الله) মুনিয়াতুল মুছলেমীন [১ম খন্ড]

❏ মাসয়ালা: (১৩২)
➠নেককারদের কবর যিয়ারতের আদাব: কবরকে পিঠ দিয়ে মৃতের চেহারার দিকে তাকাবে এবং পড়বে:
اللهم آنس وحشتهم و آمن روعتهم و لقن حجتهم و ارحم غربتهم و تقبل حسناتهم و كفر سيئاتهم.
বসে ডান হাত কবরের মাটিতে রেখে এই দু‘আ পড়বে:
اللهم اغفر له فإنه قد افتقر إليك 
যদি কোন বুযুর্গের কবর যিয়ারতের সুযোগ হয় তখন সালামের পরে যদি সম্ভব হয় তখন তার চুতুর্পাশে তিন চক্কর লাগাবে।
➥ [দসতুর:মুহাম্মদ তিবরিযী, পৃ:১৫২]

❏ মাসয়ালা: (১৩৩)
➠যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের কবর যিয়ারত করবে এবং এই দু‘আ পড়বে,
اللهم إنى أسألك بحق محمد و آل محمد ان لاتعذب هذا الميت
তখন আল্লাহ পাক সে কবর থেকে কিয়ামত পর্য়ন্ত শাস্তিকে মওকূফ করে দেবেন।
➥ [দসতুর:১৫২]

❏ মাসয়ালা: (১৩৪)
➠ফতওয়ায়ে হুজ্জত ও ওমদাতুল আবরারে এসেছে, হযরত জাবের (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, যখন কোন নেককার জান্নাতী লোক মারা যায়, তখন তার জানাযা বহনকারী ও তাঁর পেছনে যারা চলে এবং যারা জানাযাতে শরীক হবে এসকল লোককে আযাব দিতে আল্লাহ লজ্জাবোধ করেন।

❏ মাসয়ালা: (১৩৫)
➠হযরত আবু হুরাইরা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, 
রাসূল (ﷺ) ইরশাদ  করেন, যখন কোন মুসলমান কোন মুসলমানের কবরে দিয়ে গমন করে তখন সে এই দু‘আ পড়বে-

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِى وَيُمِيتُ وَهُوَ حَىٌّ لاَ يَمُوْتُ أَبَدًا بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ.

তখন মহান আল্লাহ পুরো কবরস্থান থেকে অন্ধকার ও ভয় দূর করে দিয়ে আলোকিত করে দেবেন এবং দু‘আ পাঠকারীর আমলনামায় এক লক্ষ নেকী লিখা হবে এবং তার আমলনামা থেকে একলক্ষ গুনাহ দূর করে দেওয়া হবে।

❏ মাসয়ালা: (১৩৬)
মৃতের পরিবারের নিকট খাবার পাঠানো কিছু মাশায়েখ মাকরূহ বলেছেন। কিন্তু বিশুদ্ধ মত হল তাতে দোষের কিছু নেই; বরং তা মুস্তাহাব।

❏ মাসয়ালা: (১৩৭)

➠হাদিসে এসেছে, 
لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ شَهَادَةَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وأن محمدا رسول الله .
এ হাদিস দ্বারা বুঝা যায়, মৃতকে তালকীন করা মুস্তাহাব। তা করা হবে মৃত্যুর যন্ত্রণা হওয়ার সময় ও দাফনের পরে। এ হাদিস দ্বারা উভয়টি বুঝা যায়। তাই ফুকহাগণ উভয়টি নিয়েছেন। তাই আমরা মৃত্যুর সময় ও দাফনের পরে তালকীন উভয়টি করি। সকল ইমামগণের মতে কবরে প্রশ্ন করা হক। তবে মুতাজিলা সম্প্রদায় ব্যতীত। তারা এটি স্বীকার করে না।

➠ফতওয়ায়ে বুরহানিয়াতে এসেছে, তালকীন দাফনের পরে। কিছু মাশায়েখ বলেছেন তা কিছু দেশে বিদ্যমান। শমসুল আয়িমা্যহ হালওয়াই থেকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছে, তখন তিনি বলেন, যেখানে মানুষের সে অভ্যাস গড়ে উঠেছে তাতে বাধা দেওয়া উচিত নয়, আর যেখানে তা নেই সেখানে করার আদেশ দেওয়া যাবে না।

❏ মাসয়ালা: (১৩৮)
যে ব্যক্তি প্রতিদিন ইশার নামাযের পরে সূরায়ে মূলক পড়বে, আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের আযাব থেকে ও মুনকার নকীরের প্রশ্ন থেকে মুক্তি দান করবেন।

❏ মাসয়ালা: (১৩৯)
দাফনের পরে কবর থেকে ওযর শরয়ী ব্যতীত লাশ বের করা যাবে না।

❏ মাসয়ালা: (১৪০)
কবরে মাটি ঢালা জরুরতের ভিত্তিতে বৈধ। ছিদ্র বন্ধ করা নিষেধ নয়। নবী (ﷺ) একসময় নিজ ছেলে ইব্রাহীমের কবরে পাথর দেখলেন তখন তিনি তা ঠিক করে দেন।

❏ মাসয়ালা: (১৪১)
বিশেষ  করে আউলিয়ায়ে কেরাম ও বুযুর্গানে দ্বীনের কবর যিয়ারত করা  ও সাধারণ মুসলমানদের কবর যিয়ারত করা ওয়াজিব আমলী। যেমন নবী (ﷺ) ইরশাদ করেন, সব সময় কবর যিয়ারত কর এবং ময়দানে হাশরের অবস্থার ভয় অর্জন কর।  
➥ [তুহফাতুর রযীয়া:৯৫]

❏ মাসয়ালা: (১৪২)
মহিলাদেরকে করব যিয়ারত নিষেধ করেছেন এমনকি আউলিয়ায়ে কেরামের কবরও।  
➥ [তুহফাতুর রযীয়া:৯৫]

❏ মাসয়ালা: (১৪৩)
➠ফতোওয়ায়ে নাসাফীতে রয়েছে, মু’মিনদের রূহ প্রত্যেক দিনরাত নিজ ঘরের সামনে আসে সে ব্যথিত কন্ঠে ঘর বাসীদেরকে আওয়াজ দেয় যাতে তারা সদকা ও মেহেরবানী দ্বারা তাদের কল্যাণ পৌঁছায়। 
➥ [দসতুর:১৫৬]

যখন সে তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো দান খায়রাত পায়না তখন সে পেরেশান হয়ে ক্রন্দন করে বদ দোয়া দিতে দিতে চলে যায়।  
➥ [দসতুর:১৫৬]

❏ মাসয়ালা: (১৪৪)
➠ফতোওয়ায়ে সিরাজিয়াতে রয়েছে, নবীদেরকে কবরে আপন উম্মতের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে তারা তাদেরকে কোন অবস্থায় ছেড়ে এসেছে?

❏ মাসয়ালা: (১৪৫)
কোন মৃতকে দাফনের পূর্বে এক দু মাইল স্থানান্তর করা বৈধ।  
➥ [দসতুর:১৫৪]

❏ মাসয়ালা: (১৪৬)
এক শহর থেকে দ্বিতীয় শহরে মৃতকে স্থানান্তর করা বৈধ। ফতওয়ায়ে হুজ্জতে রয়েছে, ফকীহ আবু জাফর হিন্দওয়ানী বুখারায় ইন্তেকাল করেছেন, তখন তাকে উমদাতুল আবরার শহরে নেওয়া হল। যেমনঃ হযরত ইয়াকুব (عليه السلام) মিসরে ইন্তেকাল করেন তখন তাকে ফিলিস্তিনে নেওয়া হল, মুসা (عليه السلام) ইউসুুফ (عليه السلام) এর তাবুতকে মিসর থেকে  ফিলিস্তিনে নিয়েছেন যাতে তার হাড্ডি তার পূর্ব পুরুষের হাড্ডির সাথে থাকে। (দস্তুর:১৫৫) 
এ ইবারত দ্বারা বুঝা যায়, কোন লোক যদি কোন শহরে মারা যায় তখন তাকে তার পূর্ব পুরুষের কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া বৈধ।

❏ মাসয়ালা: (১৪৭)
কবর বা মাযারে কোরআন পড়া ইমাম আবু হানিফর নিকট মাকরূহ, আর ইমাম মুহাম্মদের নিকট বৈধ।  
➥ [দসতুর:১৬৭]

❏ মাসয়ালা: (১৪৮)
কবরে প্রশ্ন-উত্তর কবরের শাস্তি ও কবরের মাটির চাপ সত্য। মু’মিনদের কবরে রাসূলের হাযির সত্য। যেমন হাদিসে এসেছে মৃতকে প্রশ্ন করা হবে এর ব্যাপারে তুমি কি বল? এখানে  ইসমে ইশারা নিকবর্তীর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে যা দ্বারা চাক্ষুষ বস্তুর দিকে ইশারা করা হয়। তাই এখানে ব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন নেই এবং একসময় নবী (ﷺ) বিভিন্ন স্থানে তাশরীফ নেওয়া অসম্ভব নয়। তা চাই প্রতিচ্ছবি আকারে হোক বা শারীরিক আকারে হোক। কেউ বলে, এখানে অন্তর খেয়াল করা নিয়েছেন, অনেকে সরাসরি নবী (ﷺ)কে দেখা নিয়েছেন।