রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বাশার ছিলেন এর অস্বীকারকারী কাফির। তিনি তো নুরুল বাশার : | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

বিসমিল্লাহ হির রাহমানির রাহীম



রাসুলুল্লাহ () ‘জিনসে বশর’ জাতিতে মানুষ কিন্তু তিনি আমাদের মত সাধারন মানুষ নয় তার উপমা হল একমাত্র বেমিসাল মাখলুক, সৃষ্টিতে সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলুক। তিনি নুরুল বশর , নুরে মুজাসসাম। আল-কুুরআনের অনেক আয়াতে রাসূল (ﷺ) ও রাসুলগণ কে বাশার বলে সম্বোধন করা হয়েছে তাই ইহা অস্বীকার করলে আয়াতকেই অস্বীকার করা হবে। ফলে কেউ আর ইমানদ্বার থাকবে না।

Posted by : MASUM BILLAH SUNNY

বিস্তারিত জানতে সংগ্রহ করুন : হাকিকতে নুরে মুহাম্মাদী (দুরুদ)
লেখক : আব্দুল করিম সিরাজনগরী।

এই Topics গুলো মুতাশাবিহাত এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম। যা বুঝে না আসে আল্লাহ ও রাসুল সা. এর উপর ছেড়ে দিবেন। আর বলবেন আল্লাহ ও রাসুল সা. এ ব্যাপারে অধিক ভাল জানেন।

এই লেকচার এর উদ্দেশ্য হল word by word বিশ্লেষণ করে বুঝিয়ে দেয়া নয়ত অনেকে না বুঝে শিরিক (সুন্নীরা) এবং শিরিক+ কুফরে (ওহাবী সালাফীরা) লিপ্ত হতে পারে।


বিশেষ দ্রাষ্টব্য : অপ্র‍য়োজনে আমি কিছুই লিখি নি পড়লেই বুঝবেন তবে ১টা লাইনও বাদ দিতে পারবেন না।



★ সকল ঈমানদার মুসলমানের ঈমান সহিহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো, আল্লাহর হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম جنس بشر ‘জিনসে বশর’ জাতিতে মানুষ এবং তিনি ছিলেন আরবী এ জ্ঞান সকল মুসলমানের থাকতে হবে এবং মানতে হবে অন্যথায় নিঃসন্দেহে কাফির বলে সাব্যস্ত হবে।
(হাকিকতে নূরে মোহাম্মদী ১২৪ পৃষ্ঠা দ্র:)

যদি এই পোস্ট পড়ে যদি আবার সন্দেহে পতিত হন যে রাসুল (সাঃ) নুরের তৈরি না মাটির তৈরি তবে এই লিংকে গিয়ে হাদিস গুলো পড়ে ভিতর জুড়িয়ে নিবেন : (৫০+ পোস্ট)
https://sunni-encyclopedia.blogspot.com/2015/09/blog-post_48.html?m=0


♦ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ২/২৮২ পৃষ্ঠা নতুন ছাপা ২/৪১১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
 من قال لاادرى ان النبى صلى الله عليه وسلم كان انسيا اوجنيا يكفر كذا فى الفصول العمادى-
 অর্থাৎ- যে ব্যক্তি বলে যে, আমি জানি না নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষ ছিলেন না জিন ছিলেন, সে ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে। যেমন ফুসুলুল ইমাদীতে এরূপ বর্ণনা রয়েছে।

 ♦  ফাতাওয়ায়ে রেজভীয়া ৬ষ্ঠ খণ্ড ৬৭ পৃষ্ঠায় আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খাঁন আলাইহির রহমত ফতওয়া প্রদান করে উল্লেখ করেন-
 اور جو مطلقا حضور سے بشریت کی نفی کرے وہ کافر ہے- قال تعالی: قل سبحن ربى هل كنت الا بشرا رسولا অর্থাৎ যে ব্যক্তি মতলকান হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাশারিয়াত বা মানবত্ব অস্বীকার করবে, সে ব্যক্তি কাফের। 

 Note : আল্লাহ জ্বীন বা ফেরেশতা জাতি থেকে রাসুল (সাঃ) কে প্রেরণ করেন নি তিনি কেবল মানব জাতি থেকে।

রাসুল (ﷺ) এর জাত মেবিসাল, বেনজীর। এই আকিদা নূর কিংবা মানুষ হওয়ার ক্ষেত্রে contradictory বা সাংঘর্ষিক নয়।
 ★ সৃষ্টির সর্বপ্রথম - নূরে মুহাম্মদী (ﷺ) - ঐ সময় রাসূলের জাত কি? নূর। (যে সৃষ্ট নূরের সাথে অন্য সৃষ্ট নূরের তুলনা ছিল না।)
 ★ রূহের জগতে - রূহে মুহাম্মদী (ﷺ) - ঐ সময় জাত কি? রূহ। (যেই রূহের সাথে অন্য রূহের তুলনা ছিল না)
 ★ মানব জগতে - জাত কি? নূরে মূজাচ্ছম (নুরুল বাশার) (নূরের মানব) [যেই মানবের সাথে অন্য কোন মানবের তুলনা ছিল না, হবেও না]
 ★ যখন তামাম মাখলুকাতের নিকট উপস্থিত ছিলেন - তামাম মাখলুকাতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলুক হিসেবেই ছিলেন।

অবগত উচিত যে,

★ মানুষ হওয়া অসম্মানের কোন বিষয় নয় বরং কেমন মানুষ ছিলেন তাই দেখুন।
★ সম্মানের দিক থেকে মানব জাতিই শ্রেষ্ঠ এটা কার উসীলায়? যার উসীলায় জগৎ সৃষ্টি।
★ সেই জাতের উসীলায় সমগ্র কিছু তথা সমগ্র মানব জাতি সৃষ্টি হয়েছে আর সকলে সম্মানের উচ্চ শিখরে আরোহণ করেছে। সুতরাং তাঁর বাশারিয়্যাতও বেমিসাল।
★ নূর তো কেবল আলো। তা হেদায়তও হতে পারে কিংবা সৃষ্টির উপকরণও হতে পারে।
★ যার সাথে যুক্ত হয়েছে রূহ। যাতে মানবীয় স্বত্ত্বার গঠনাকৃতি উপস্থিত থাকতে পারে নাও থাকতে পারে (পৃথিবীতে আগমনের পূর্বে, পৃথিবীতে থাকাকালীন ও পৃথিবী থেকে বিদায়ের পরের হাকিকত)।
★ যেমনটা দুনিয়ায় তশরীফ নেয়ার আগ পর্যন্ত সকল মানুষই আলমে আরওয়া বা রূহের জগতে থাকেন। আর যখন আগমন ঘটে তখন মানবের পরিপূর্ণ মানবীয় রূপে প্রকাশ ঘটে ।
★ অতঃপর ওফাতের পর রুহানী জগতে রূহ পুনরায় বিস্তার করেন।

  • এ নূর সম্পর্কে অতীত আলেমগনের আকিদা :

★ গাজ্জালীয়ে যমান আল্লামা সৈয়দ আহমদ সাঈদ কাজেমী রহমতুল্লাহ আলাইহি তাঁর ميلاد النبى صلى الله عليه وسلم নামক গ্রন্থের ১৩ পৃষ্ঠায় হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণিত হাদিস শরীফের মর্মে অনুরূপ ব্যাখ্যাই প্রদান করেছেন-

اس حدیث میں نور کی اضافت بیانیہ ہے اور نور سے مراد ذات ہے زرقانی جلد اول صفحہ٤٦ حدیث کے معنی یہ ہے کہ اللہ تعالی نے اپنے حبیب صلی اللہ علیہ وسلم کے نور پاک یعنی اپنی ذات مقدسہ سے پیدا فرمایا اس کے یہ معنی نہیں کہ معاذ اللہ اللہ تعالی کی ذات حضور علیہ السلام کی ذات کا مادہ ہے یا نعوذ باللہ حضور کا نور اللہ کے نور کا کوئ حصہ یا ٹکڑا ہے تعالی اللہ عن ذالک علوا کبیرا-
اگر کسی ناواقف شخص کا یہ اعتقاد ہے تو اسے توبہ کرنا فرض ہے- اس لئے کہ ایسا ناپاک عقیدہ خالص کفر و شرک ہے اللہ تعالی اس سے محفوظ رکھے-

অর্থাৎ উক্ত (হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত) হাদিসে নূর এর এজাফত এজাফতে বয়ানিয়া (বর্ণনামূলক সম্পৃক্ত) আর নূর দ্বারা ذات (যাত) বা সত্ত্বা বুঝানো হয়েছে। (জারকানী ১/৪৬ পৃষ্ঠা) এখন হাদিসের অর্থ এই যে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র নূর মোবারক স্বীয় যাত বা সত্ত্বা হতে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু তার অর্থ এ নয় যে ,(মা’য়াজাল্লাহ) আল্লাহ তায়ালার যাত বা সত্ত্বা হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যাত বা সত্ত্বার মাদ্দা বা মূল। অথবা এ অর্থও নয় যে, (নাউজুবিল্লাহ) হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূর মোবারক আল্লাহতায়ালার নূরের অংশ বা টুকরো। আল্লাহ তায়ালা তা হতে পবিত্র ও মহান।
যদি কোন অজ্ঞ লোকের এ বদ আকিদা থাকে, তবে তার উপর তাওবা করা ফরয। কেননা এরূপ নাপাক আকিদা নিরেট কুফুরি ও শিরক। মহান আল্লাহ তা’য়ালা যেন আমাদেরকে এ ধরনের বাতিল আকিদা থেকে হেফাযত রাখেন।’ 

★ হাকিমুল উম্মত মুফতি আহমদ ইয়ার খাঁন নঈমী আলাইহির রহমত তদীয়- رساله نور ‘রিসালায়ে নূর’ এর ৭ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন-

حضور صلی اللہ علیہ وسلم کے رب کا نور ہونے کے نہ تویہ معنی ہیں کہ حضور خدا کے نور کا ٹکرا ہیں نہ یہ کہ رب کا نور حضور کے نور کا مادہ ہے نہ یہ کہ حضور علیہ السلام خدا کی طرح ازلی ابدی ذاتی نور ہیں- نہ یہ کہ رب تعالی حضور میں سرایت کرگیا ہے تاکہ شرک وکفر لازم آے بلکہ صرف یہ معنی ہیں کہ حضور صلی اللہ علیہ وسلم بلا واسطہ رب سے فیض حاصل کرنے والے ہیں اور تمام مخلوق حضور واسطے سے رب کا فیض لینے والی-

অর্থাৎ ‘হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোদার নূর হওয়ার ,  অর্থ এ নয় যে,
১. হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোদার নূরের টুকরো বা অংশ। এর অর্থ ইহাও নয় যে, 
২. খোদার নূর হুজুরেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরের মাদ্দা বা মূল। এর অর্থ এটাও নয় যে, 
৩. হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোদা তা’য়ালার ন্যায় আজালী আবাদী জাতি নূর। এর অর্থ ইহাও নয় যে, 
৪. আল্লাহতা’য়ালা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে ‘ছরায়ত’ বা অনুপ্রবেশ করেছেন। এরূপ হলে শিরিক এবং কুফুর অবিবার্য হয়ে পড়বে। বরং শুধুমাত্র এর অর্থ এটাই হবে যে, 
৫. হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেলাওয়াছাতা বা মধ্যস্ততাবিহীন সরাসরি আল্লাহতা’য়ালার ফয়েজ অর্জনকারী এবং সমস্ত সৃষ্টি হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যস্ততায় খোদার ফয়েজ গ্রহণকারী।’


★ আল্লামা জারকানী আলাইহির রহমত ‘শরহে মাওয়াহিবে লাদুনিয়া’ নামক কিতাবে উল্লেখ করেছেন।

من نوره اضافة تشريف واشعار بانه خلق عجيب وان له شانا مناسبة ما الى الحضرة الربوبية على حد قوله تعالى ونفخ فيه من روحه وهى بيانية اى من نور هو ذاته لابمعنى انها مادة خلق نوره منها بل بمعنى تعلق الارادة به بلا واسطة شئ فى وجوده-

অর্থাৎ মিন নূরিহি তাঁর (আল্লাহর) নূর হতে বা নূর কর্তৃক ইহা ইজাফতে তাশরিফি বা সম্মানসূচক সম্বন্ধ (A)
এবং ইহা জানিয়ে দেয়া উদ্দেশ্য যে, ইহা সৃষ্টিজগতের এক আশ্চর্য বস্তু। ইহার একটি পৃথক শান রয়েছে আল্লাহতা’য়ালার দরবারে। এ শানটির একটি মুনাসিবত বা সাদৃশ্য হতে পারে আল্লাহতা’য়ালার ঐ বাণীর সাথে- ونفخ فيه من روحه আদম আলাইহিস সালামের দেহ মোবারকে তাঁর (আল্লাহর) রূহ ফুঁকলেন অর্থাৎ এখানে রূহের সম্বন্ধ আল্লাহতা’য়ালার দিকে সম্মানার্থে করা হয়েছে।

Note :

(A) দেওবন্দী ওহাবীরা এখানে আবার ভুল বুঝে। ইজাফতে তাশরিফি বা সম্মান সুচক সম্পর্ক মানে হল সেই জাতি নুরের সম্মান আর বৃদ্ধি পেয়েছে যে নুর আল্লাহর নুর থেকে সৃষ্ট বলে সম্পর্কিত বা সম্বন্ধ সুচক করা হয়েছে। যদি তাদের যুক্তি মত ধরে নেই সম্মান সুচক ১টা কথাই বলব।

নুর কয়েক অর্থে ব্যবহৃত :

(i) এক : সম্মান ও অনুভব অর্থে । Ex : ইজাফতে তাশরিফি নুর (যা কোনদিন দেখা যায় না),
নেক কাজ নুর, হেদায়াত নুর, কুরআন নুর, নবুওয়াত নুর।
(ii) দুই : প্রকাশ্য নুর । Ex : রাসুল (সা) এর নুরানী স্বত্তা যা দেখা যায় বুঝা যায়, (যা ইমাম যুরকানী থেকেও বিভিন্ন হাদিস ও উক্তি বর্নিত আছে),
চন্দ্র, সুর্য , নক্ষত্র।
(iii) তিন : গায়েবের মাধ্যমে বা কাশফের মাধ্যমে দেখা নুর। যা গায়েব হয়েও কতেকের কাছে প্রকাশ কতেকের কাছে বাতিন। Ex : স্বপ্নে কোন নুর দেখা।

ইত্যাদি ইত্যাদি।
Note : এখানে বুঝানোর জন্য উদাহরণ দেয়া হয়েছে অন্যন্য বস্তুকে রাসুল (সা) এর সাথে তুলনা করা হয় নি।


★ সপ্তম শতাব্দীর ষষ্ঠ মুজাদ্দিদ আল্লামা ইমাম ফখরুদ্দিন রাজী আলাইহির রহমত (ওফাত ৬০৪ হিজরি) তদীয় ‘তাফসিরে কবির’ নামক কিতাবের ১২ নম্বর জিলদের ২৩ নম্বর জুজ এর ২৩০ পৃষ্ঠায় ইমাম গাজ্জালি আলাইহির রহমত এর- مشكوة الانوار ‘মিশকাতুল আনওয়ার’ নামক কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেন-


والممكن لذاته يستحق العدم من ذاته والوجود من غيره والعدم هو الظلمة- ( ص ۲۳٠ جزء ۲۳)


ভাবার্থ : মুমকিন বিজ্জাত বা সত্ত্বাগত মুমকিন বলা হয় যা স্বয়ং অস্তিত্বশীল নয়, অন্যের দ্বারা অস্তিত্বশীল হয়, আর সকল عدم ‘আদম’ বা অস্তিত্বহীন হচ্ছে জুলমত বা অন্ধকার (যা নূরের বিপরীত)। অতঃপর বলেন-

الحاصلة والوجود هو النور- فكل ما سوى الله مظلم لذاته مستنير بانارة الله تعالى (ص ۲۳٠ جزء ۲۳)

ভাবার্থ: সারকথা হচ্ছে, আল্লাহতা’য়ালার ওজুদই হচ্ছে একমাত্র নূর (বা হাকিকী নূর বমা’না منور ‘মুনাওইর’ (স্রষ্টা যিনি) নূর সৃষ্টিকারী) অতএব আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছু সত্ত্বাগতভাবে জুলমত বা অন্ধকার এবং আল্লাহ প্রদত্ত নূরের দ্বারাই নূরান্বিত। এককথায় আল্লাহ হচ্ছেন ওয়াজিবুল ওজুদ যার আরম্ভ নেই, শেষও নেই যিনি বিজ্জাত মওজুদ অর্থাৎ নিজে নিজেই অস্তিত্বশীল। অতঃপর আরো বলেন-

وعند هذا يظهر ان النور المطلق هو الله سبحانه وان اطلاق النور على غيره مجاز اذ كل ما سوى الله (ص ۲۳٠ جزء ۲۳)

ভাবার্থ: দলিলভিত্তিক আলোচনার দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, নিশ্চয় নূরে মতলক হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালা।(A)
আল্লাহ ছাড়া অন্যের উপর নূরের এতলাক বা অন্য কাউকে নূর আখ্যায়িত করা মজাজ বা রূপক অর্থে প্রয়োগ হবে ।(B)
[হাকিকী নূর একমাত্র আল্লাহতা’য়ালা। (নিজে নিজেই তিনি স্বয়ং সম্পুর্ন।)
আল্লাহ তাঁর হাবিবের নূর মোবারক সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন (তাই ইহা হল সৃষ্টি নুর)]

Note : আমি (মাসুম) এর ব্যাখ্যায় বলছি :

(A) (যিনি প্রকৃতপক্ষেই নুর, যিনি আদি, যিনি অন্ত, যিনি অনাদি, অনন্ত, যিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, যে নুর নিজে নিজে স্বয়ং সম্পুর্ন নুর)

(B)  (আল্লাহ পাকের প্রকৃত হাকিকী নুরের থেকে রাসুল সা. এর সৃষ্ট নুর যা কোন প্রকার মাধ্যম ব্যাতীত,
অংশ ব্যাতীত সৃষ্ট। তাই এই দিকে আল্লাহর নুর এর হাকীকী বুঝাতে গিয়ে আসলে বলা হয়েছে রাসুলের নুর হল বেমিসাল মাখলুক এর রুপক নুর যার সৃষ্টি কিভাবে কোথা থেকে আগেই বলেছি। আর হাকিকতে নুরে নুজাসসম মানে হল গিয়ে রাসুল (সাঃ) এর নুরের প্রকৃত অবস্থা।)


★ অতঃপর আরো বলেন-

فثبت انه سبحانه هو النور- وان كل ما سواه فليس بنور الاعلى سبيل المجاز (ص ۲۳٠ جزء ۲۳)

ভাবার্থ: অতএব, স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালাই একমাত্র নূর। আল্লাহতা’য়ালা ছাড়া অন্য যা কিছুই রয়েছে কাউকে নূর বলে আখ্যায়িত করা যায় না কিন্তু তা হবে মজাজ বা রূপক অর্থে নূর।

আল্লামা ফখরুদ্দিন রাজী আলাইহির রহমত এর উপরোক্ত বক্তব্যকে পরবর্তী সুন্নী উলামায়ে কেরামগণও গ্রহণ করেছেন। যেমন-
★ আ’লা হযরত আল্লামা শাহ আহমদ রেজা খাঁন আলাইহির রহমত ‘সিলাতুছ ছফা ফি নূরিল মোস্তফা’ নামক কিতাবে আল্লাহর নূরকেই একমাত্র হাকিকী নূরে বলে অভিহিত করেছেন।


Note :

ওহাবীরা এখানে সুযোগ পেয়ে বসে বলে যে ইমাম রাযী (রহ),
ইমাম গাজ্জালী (রহ) তো এমন এমন বলেছেন। তাহলে দেখুন ওনারা নুর সম্পর্কে খাটি হাদিস দলিল হিসেবে ওনাদের বইয়ে লিখে গেছেন : ৩টি বইয়ের Picture এ নুরের আলোচনা :

কিতাব : দাখায়েকুল হাকায়েক (লেখক : ইমাম ফখরুদ্দিন রাযী রহ.)

কিতাব : দাখায়েকুল আখবার (লেখক : ইমাম গাজ্জালি রহ.)

কিতাব : ফেরেশতা সৃষ্টির ইতিবৃত্তি (লেখক : ইমাম আ'লা হযরত)

http://goo.gl/Uj12Jv

★ চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ আলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খাঁন বেরলভী আলাইহির রহমত 'সালাতুস সফা ফি নূরিল মোস্তফা’ নামক কিতাবে উল্লেখ করেছেন-

ھاں عین ذات الھی سے پیدا ہونے کے یہ معنی نہیں کہ معاذ اللہ ذات الھی ذات رسالت کے لۓ مادہ ہے جیسے مٹی سے انسان پیدا ہوا عیاذ باللہ ذات الھی کا کوئ حصہ یا کل ذات نبی ہوگیا اللہ عز وجل حصے اور ٹکرے اور کسی کے ساتہ متحد ہوجانے یا کسی میں حلول فرمانے سے پاک ومنزہ ہے حضور سید عالم صلی اللہ علیہ وسلم خواہ کسی شئ کو جزء ذات الھی خواہ کسی مخلوق کو عین ونفس ذات الھی ماننا کفر ہے-

(আলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খাঁন আলাইহির রহমত عین ذات الھی سے پیدا ہوا ‘আইনে জাতে এলাহী ছে পয়দা হুয়া’ এর ভাবার্থ উদঘাটন করতে গিয়ে উল্লেখ করেন)

ভাবার্থ: 
★ আইনে জাতে এলাহি বা আল্লাহর প্রকৃত জাত থেকে (নূরে হাকিকী আল্লাহর জাত কর্তৃক) হাবিবে খোদা সৃষ্টি হওয়ার অর্থ এই নয় যে, আল্লাহর জাত রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জাত সৃষ্টির জন্য মাদ্দা বা মূল ধাতু। (নাউজুবিল্লাহ)
★ যেমন মাটি দ্বারা মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে, অথবা ইহার অর্থ এই নয় যে, আল্লাহর জাতের কোন অংশ বা আল্লাহর কুল জাত নবী হয়ে গিয়েছেন। (নাউজুবিল্লাহ)
★ মহান আল্লাহ অংশ, টুকরো এবং কোন কিছুর সাথে একীভূত হওয়া অথবা কোন বস্তুর মধ্যে হুলুল হওয়া থেকে পবিত্র। (B)
হুজুর সাইয়িদে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনকি কোন বস্তুকে আল্লাহর জাতের অংশ এমনকি কোন সৃষ্টিকে প্রকৃত জাত ও নফসে জাতে এলাহি মানা বা আক্বিদা রাখা কুফুরি।’


Note :

(B) - (i) এর থেকে বুঝা যায় আল্লাহ ১ মুষ্টি নুর নিলেন এভাবে হাদিসের অনুবাদ করা ভুল তবে আল্লাহ কুদরতীভাবে সৃষ্ট নুর নিলেন এবং স্বীয় নুর থেকে কোন প্রকার খন্ড বা অংশ বা মাধ্যম ব্যাতীত রাসুল (সা) এর নুর মুবারক সৃষ্টি করলেন। যেমন :

→ বাইতুল্লাহ : আল্লাহর ঘর। (ঘরে তো মানুষ থাকে তার মানে কি বলবেন আল্লাহ ওই খানে থাকে বলে এর নাম এটা দিয়েছেন? নাউযুবিল্লাহ আল্লাহ স্থান, কাল, আকৃতি, দিক, সময় এসব থেকে পবিত্র)

→ ইসা রুহুল্লাহ।  (ইসা আ. অর্থ আল্লাহর রুহ এখন যদি ভাবেন যে এটা আল্লাহর রুহের অংশ তা স্পষ্ট শিরিক হবে। এটা সম্মানার্থে)

→ কিতাবুল্লাহ : আল্লাহর কিতাব। সম্মানার্থে ও নিজের বানী বলে সম্পর্কিত।

→ নুরিম মিন নুরিল্লাহ : যিনি আল্লাহ পাকের উজ্জ্বল জ্যোতি।
[এটা এমন যে -- কোন প্রকার মাধ্যম ব্যাতীত (লা শরীক) আল্লাহর (স্রষ্টার) স্বীয় নুর থেকে ★ সৃষ্ট (মাখলুক) এক নুর। যা প্রথম নুরে মুহাম্মদী, পরে রুহে মুহাম্মদী (সা) সব মিলিয়ে হাকিকতে মুহাম্মদী (সা)]

(B) - (ii) নুর খন্ড করে খন্ডাংশ নিলেন এই কথা গুলো শাব্দিক বিশ্লেষণে ভুলই নয় শুধু এটা স্পষ্ট শিরিক।


  • কুরআনের ভাষায় : (তফসীরে কাঞ্জুল ইমান)


আল্লাহ তায়ালা উম্মীদের (আরব জাতির মক্কা নগরীর মধ্য থেকে) একজন নবী প্রেরন করেছেন।
(সুরা জুমাহ ২)

Note : অনেক তফসীরকারকগন আবার বলে থাকে নবী আল উম্মী মানে নিরক্ষর অর্থে (নাউযুবিল্লাহ)
এ ব্যাপারে এখানে আলোচনা করেছি :

→ নবী আল-ওম্মী শব্দের সঠিক ব্যাখ্যা:- http://goo.gl/FcJVqK


  • সুন্নী আলেমদের আকিদা :



★ মাওলানা গাজী আকবর আলী রেজভী সুন্নী আলকাদেরী : তার লিখিত পুস্তকের মধ্যে



 নূরে খোদা রহমতে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা ঈমান ভাণ্ডার (১ম খণ্ড), ‘


‘নবী মানুষ জাতিতেই আসেন মানুষই হয়, জীন বা ফেরেস্তা নবী হয় না। ইহা এই দুনিয়ার নীতি বিধান।’ (ঈমান ও মারেফাত ভাণ্ডার বিংশ খণ্ড- ৮ পৃষ্ঠা)


‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানব সম্রাট।’ (গান-বাজনার পতন- ১৩ পৃষ্ঠা)


‘নবীজির মতো মানুষ দুনিয়ায় নাই।’ (ঈমান ও মারেফাত ভাণ্ডার বিংশ খণ্ড- ১৭ পৃষ্ঠা)


‘ফলকথা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষ কিন্তু বেমিছাল মানুষ। দুনিয়ার মানুষের সঙ্গে হুজুরের তুলনা হইতে পারে না।’ (ঈমান ভাণ্ডার ১ম খণ্ড- ২৩ পৃষ্ঠা)


(যারা) ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বাশার বা মানুষ না মানে তবে (তারা) কাফের হবে। আমাদের মত বললে কাতল করা ওয়াজিব হয়ে যায়।’ (আত্তাহিয়্যাতের রহস্য- ১৩ পৃষ্ঠা)