যুগশ্রেষ্ঠ ইমামগন মাযহাবের তাকলিদ সম্পর্কে তাগিদ দিয়েছেন : | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস



***ইমাম নববী (রহঃ) (মৃঃ ৬৭৬ হিঃ) ‘রাওযাতুত তালেবীন’ নামক গ্রন্থে লিখেনঃ “উলামাগণ বলেন, ইজতিহাদে মুতলাক ইমাম চতুষ্টয় পর্যন্ত খতম হয়ে গেছে। তাই তাঁরা ইমাম চতুষ্টয়ের কোন একজনের ‘তাক্বলীদ’ মুসলিম উম্মাহর জন্য ওয়াজিব সাব্যস্ত করে দিয়েছেন।

***ইমামুল হারামাইন জুয়াইনী (মক্কা-মদীনা শরীফের ইমাম সাহেব – রহঃ, মৃঃ ৪৭৮ হিঃ) মায্হাব চতুষ্টয়ের তাক্বলীদ ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ‘ইজমা’ উল্লেখ করেছেন। ” ( নুরুল হিদায়া হতে সংকলিত, পৃ – ১০; দেখুনঃ ফয়যুল কাদীরঃ পৃ – ১/২১০; শরহুল মুহায্যাব, নববীঃ পৃ – ১/৯১, আদাবুল মুস্তাফতী অধ্যায় )

***শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ  (মৃঃ ৭২৮ হিঃ) লিখেছেনঃ “ মুসলিম উম্মাহর ‘ইজমা’ উপেক্ষা করে মায্হাব চতুষ্টয়ের বিপরীতে কোন মায্হাব রচনা বা গ্রহণ বৈধ হবে না। ” ( ফাত্ওয়া-ইবনে তাইমিয়াহ পৃ –২/ ৪৪৬ )

***আল্লামা ইমাম ইবনে হাজার মক্কী (রহঃ) (মৃঃ ৯৭৩ হিঃ) তাঁর স্বীয় প্রসিদ্ধ কিতাব ‘ফাতহুল মুবীন’ এ লিখেনঃ “ আমাদের যুগের বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবু হানীফা, শাফেয়ী, মালেক ও আহমদ বিন হাম্বল (রহ) – এচার ইমাম ব্যতীত অন্য কারও তাক্বলীদ (অনুসরণ) জায়িয নয়। ”( ফাতহুল মুবীনঃ পৃ – ১৯৬ )

***মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহ্হাব নজদী এর মায্হাবঃ লা-মায্হাবীরা দাবী করে থাকে যে,মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওহহাব নজদীও লা-মায্হাবী ছিলেন। কিন্তু তিনি একজন হাম্বলী মায্হাবের অনুসারী ছিলেন এবং তিনি নিজেই স্বীয় মায্হাব সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন। -দেখুনঃ আল-হাদিয়াতুস্ সুন্নাহঃ পৃ – ৯৯ । সাথে সাথে চার মায্হাবের যে কোন একটির তাক্বলীদ করা যাবে এবং এই চার মায্হাব ছাড়া অন্য কোন মায্হাবের অনুসরণ করা যাবে না বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন। -তারীখু নাজদ-আলূসীঃ পৃ – ৫৪-৫৬;ছিয়ানাতুল্ ইনসানঃ পৃ – ৪৭১১

***শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী (রহঃ)(মৃঃ ১১৭৬ হিঃ), লা-মায্হাবীদের কাছেও যিনি গ্রহণযোগ্য, তাঁর সুপ্রসিদ্ধ কিতাব হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগায় লিখেনঃ “ সু-বিন্যস্ত গ্রন্থবদ্ধ এ চার মায্হাবের উপর সকল ইমামগণের ‘ইজমা’ তথা ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ” (হুজ্জাতুল্লাহি ল বালেগাঃ পৃ – ১/ ১২৩ )

***হযরত আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী (রহ.) আল’আরবাঈন নামক কিতাবের ব্যাখ্যা গ্রন্থ “ফতহুল’মুবীন” এর মধ্যে বলেন,
وأمافى زماننا فقال أئمتنا: لايجوزتقليد غيرالأئمة الأربعة; الشافعى ومالك وأبى حنيفة وأحمد بن حنبل : رحمهم الله تعالى *
অর্থঃ আমাদের ইমামগণ বলেছেন, চার ইমাম (১) ইমাম শাফেয়ী (রহ.) (২) ইমাম মালেক (রহ.) (৩) ইমাম আবু হানীফা (রহ.) (৪) ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) ছাড়া অন্য কোন ইমামের অনুসরণ করা জায়েয নেই

***হযরত মোল্লা’জিওন সাহেব (রহ.) তাফসীরে আহমাদিয়ায় লিখেছেন যে,
والإنصاف أن إنحصارالمذاهب فى الأربع فضل إلهى وقبولية من عندالله تعالى لامجال فيها للتوجيهات والأدلة ؛
অর্থঃ ইনসাফ হল, মাযহাব চারের মধ্যে সামীবদ্ধ হওয়া আল্লাহ পাকের দয়া ও তা কবুল হওয়ার দলীল এক্ষেত্রে দলীল ও ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ নেই।

***বিখ্যাত উসূলে হাদীস বিশারদ, ইবনি নুজাইম (রহঃ) (মৃঃ ৯৭০ হিঃ) লিখেনঃ
“ যে ব্যক্তি ইমাম চতুষ্টয়ের বিপরীত মতামত পোষণ করবে সে মুসলিম উম্মাহর ‘ইজমা’ তথা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত-বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত হবে। ”
( আল্-আশ্বাহ্ ওয়ান নাযাইরঃ পৃ – ১৩১ )

***আল্লামা শা’রানী (রহঃ) (মৃঃ ৯৭৩ হিঃ) তাঁর বিখ্যাত কিতাব আল্-মিযানে লিখেনঃ
“ নিজে পথভ্রষ্ট না হওয়া ও অপরকে পথভ্রষ্ট না করার জন্য নির্দিষ্ট মায্হাবের অনুসরণ জরুরী। ”
( ইনতেছারুল হক্ব হতে সংকলিতঃ পৃ – ১৫৩ )

***ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের উস্তাদ, হাদীসের জগতে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বজন স্বীকৃত ইমাম বিশেষত হাদীস যাচাই-বাছাই বা ইল্মুল্ জারহ্ অ-তা’দীলের অতুলনীয় ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্যাসাগর ইয়াহ্ইয়া ইবনে মঈন (রহঃ) অসীম জ্ঞানের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি বল্গাহীন পথ পরিহার করে ইমাম আবু হানীফার তাক্বলীদ করে চলতেন। “ আমার নিকট গ্রহণযোগ্য ক্বিরাআত হামযার ক্বিরাআত এবং গ্রহণযোগ্য ফিক্বহ ইমাম আবু হানিফার ফিক্বহ। সকল মানুষকেও আমি এর উপর ঐক্যবদ্ধ পেয়েছি। ” ( তারিখে বাগদাদঃ পৃ – ১৩/৩৪৭ )

কিন্তু ৪ মাযহাবের বিপক্ষে উম্মতের কোন পূর্ববর্তী গ্রহনযোগ্য আলেমের অবস্থান আমি অধমের চোখে পড়েনি

*******ইমাম বুখারী রহ. শাফেয়ী মাঝহাবে অনুসারী ছিলেন।
(শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ., “আল-ইনসাফ”, পৃষ্ঠা : ৬৭
আল্লামা তাজউদ্দীন সুবকী, “তবক্বাতুশ শাফেয়ীয়ার”, পৃষ্ঠা : ২/২
গাইরে মুকাল্লিদ আলেম নবাব ছিদ্দিক্ব হাসান খান, “আবজাদুল উলুম”, পৃষ্ঠা : ৮১০)

***ইমাম মুসলিম শাফেয়ী মাঝহাবে অনুসারী ছিলেন।
(গাইরে মুকাল্লিদ আলেম নবাব ছিদ্দিক্ব হাসান খান, “আল হিত্তার”, পৃষ্ঠা : ১৮৬)

***ইমাম তিরমিযী সম্বন্ধে শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দেহে দেহলভী “আল-ইনসাফের” ৭৯ পৃষ্ঠায় মুজতাহিদ 

তবে হাম্বলী মাযহাবের প্রতি আকৃষ্ট এবং এক পর্যায়ে হানাফী বলেও উল্লেখ করেছেন।

***ইমাম নাসাঈ
এবং ইমাম আবু দাউদ রহ. হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন।
(আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ. “ফয়জুল বারী”-এর ১/৫৮ পৃষ্ঠায় ইবনে তাইমিয়্যার উদ্বৃত্তি দিয়ে উল্লেখ করেছেন।
গাইরে মুকাল্লিদ আলেম নবাব ছিদ্দিক্ব হাসান খান, “আবজাদুল উলুম”, পৃষ্ঠা : ৮১০)

***ইমাম ইবনে মাজাহকে আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী “ফয়জুল বারী”-এর ১/৫৮ পৃষ্ঠায় শাফেয়ী বলে উল্লেখ করেছেন।