খাজা শেখ ফরিদুদ্দিন গঞ্জে শকর (রহ.) ও হযরত খাজা নিজাম উদ্দীন (রহ.) এর মতে মুয়াবিয়া (রা.) জান্নাতী | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস




আজকাল অনেকে আহলে বাইতের প্রতি অতি ভক্তি দেখাতে গিয়ে সাহাবে কেরামকে নিয়ে গালমন্দ করেন। তাদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশি আক্রমণের স্বীকার হচ্ছেন তিনি হলেন হযরত আমীরে মুয়াবিয়া (রা.)।

◼ মুসনাদে ইমাম আহমেদ থেকে বর্ণনা,
হযরত মাওলা আলী শেরে খোদা (রদি:) বলেন, আমাকে রাসূল (দ.) বলেছেন, হে আলী! তোমার অবস্থা হবে নবী ঈসা (আঃ) এর মত। ইহুদীরা তার সাথে শত্রুতা পোষণ করত। শেষ পর্যন্ত তার মাতার নামে কলঙ্ক লেপন করেছে। আর নাসারারা তাকে ভালবাসত। শেষ পর্যন্ত তারা নবী ঈসা (আঃ) কে এমন মর্যাদা দিতে শুরু করল, তিনি যে মর্যাদার অধিকারী ছিলেন না। 👉(মুসনাদে আহমদ)

অর্থাৎ, নবী ঈসা (আ.) এর শত্রুতাও মিত্রতায় যেমন ২ টি ফেরকা সৃষ্টি হয়ে গেল, ঠিক তেমনি তোমার শত্রুতা ও মিত্রতার ক্ষেত্রে পৃথক ২ টি দল সৃষ্টি হবে। একপক্ষ তাঁকে মন্দ বলবে এবং আরেকপক্ষ তাঁর সম্পর্কে অতিরঞ্জিত করবে। অবশেষে এরূপই হল। খারেজী ও নাছেবীয় ফেরকা হযরত আলীর প্রচন্ড বিরোধীতা করল এবং তাকে কাফের ঘোষণা দিল। পক্ষান্তরে রাফেজী-শিয়া ফেরকা ওনাকে এতটাই উপড়ে তুললেন বিশেষ করে কালেমায় নবীর নামের পাশাপাশি ওনাকে পরবর্তী খলিফা দাবী করে নাম লাগিয়ে দিল। একপক্ষ শত্রুতায় ধ্বংস হল অপরপক্ষ মিত্রতায় সীমালঙ্গন করে বিনাশ হল।


◼ হযরত খাজা নিজাম উদ্দীন আওলিয়া (রহঃ) স্বরচিত কিতাব "রাহাতিল কুলুব" এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন,
"যা বাবা শেখ ফরিদের ভাষণও বটে, এতে বলা হয়," একদিন রাসুলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণের সাথে বসা ছিলেন, এমন সময়ে মুয়াবিয়া (রা.) তার পুত্র এজিদকে কাঁধে নিয়ে সেখান দিয়ে যাচ্ছিলো। তাঁকে দেখে, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হেসে বললেন,'দেখ, দেখ, জান্নাতির কাঁধে জাহান্নামী যাচ্ছে! একথা শোনার পর সভাসদস্যদের মধ্যে উপস্থিত মাওলা আলী (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, কী করে এজিদ জাহান্নামি হবে? উত্তরে এরশাদ হলো, এই বদবখত আমার ইমাম হাসান, ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁদের বংশদেরও শহীদ করবে।" 
হযরত মাওলা আলী (রা.) এই কথা শোনে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তলোয়ার উন্মুক্ত করে বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনি নির্দেশ দিন আমি ওকে শেষ করে দেই।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন না তা হয় না। এটা আল্লাহরই বিধান এবং বলেন, কারো ভাগ্যের উপর হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।" 👉(হযরত খাজা নিজাম উদ্দীন আওলিয়াঃ রাহাতিল কুলুব, পৃঃ ১৩৭-১৩৮) 

◼ ৬৫৬হিজরি ৯ মুহর্রম হযরত খাজা শেখ ফরিদুদ্দিন গন্জেশকর (রহ.) তাঁর মুরীদ খলিফাদের উদ্দেশ্যে আশুরা প্রসঙ্গে উক্ত বক্তব্যগুলো রাখেন যা সেখানে উপস্হিত শ্রোতাদের পক্ষে কলমবন্দি করেন তাঁরই প্রধান খলিফা হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া। বুঝা যায় যে, আমাদের পথ প্রদর্শক আউলিয়ায়ে কেরামগনের আক্বিদা এটি, যা সুন্নি সমাজেও প্রচলিত কিন্তু বর্তমান কিছু দরবার গুলিতে সুফিবাদ নামে বিভিন্ন কূকর্ম করে থাকে যা ভাষায় বলে প্রকাশ করার মত নয়..তাই তাদের থেকে সাবধান থাকার অনুরোধ।