জিহ্বা'র ক্ষেত্রে সতর্কতা! | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস



হযরত আব্দুল্লাহ ইবন সুফিয়ান রাযিআল্লাহু আনহু'র পিতা রাসূলে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে উপস্থিত হলেন। আরজ করলে— ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে এমন কিছু বলে দিন যেন, আপনার পরে আর কারো নিকট কিছু জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন বোধ না করি।

রাসূলে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন— 'বল, আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম। অতঃপর এই ঈমানের ওপর কায়েম থাক।'

তিনি পুনঃ আরজ করলেন— ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কোন বিষয় হতে বেঁচে থাকব? জবাবে রাসূলে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহ্বা'র দিকে ইশারা করে বললেন, 'এটা থেকে বেঁচে থাক।' [১]

নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন, জিহ্বা'র হিফাজত কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ? এই জিহ্বা আল্লাহর এক বড় নিয়ামত। এ দিয়ে যেভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা যায়, আল্লাহর যিকর করা যায় তদ্রূপ এর থেকে বের হওয়া কিছু বাক্য মানুষের অন্তরকে ছিন্ন-ভিন্নও করে দিতে পারে। শুধু মানুষ নয়, এক সময় নিজের হৃদয়কেও পাষাণ করে তুলতে সক্ষম।

এর উদাহরণ— ধনুকের ন্যায়। যার থেকে বের হওয়া তীর আর ফিরিয়ে আনা যায় না। তাই রাসূলে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে অসংখ্য হাদীসে আমাদেরকে সতর্ক করেছেন। আসুন সতর্ক থাকি, এ জিহ্বা যেন আবার আমাদেরকে জাহান্নামের অংশীদার না করে! অনর্থক আর অশ্লীল কথা-বার্তায় লিপ্ত থেকে যেন জীবনের মূল্যবান সময়গুলো চলে না যায়।

Reference:
[১] তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, মুসলিম।