ইয়াজিদের ঘৃণ্যতম অপরাধ | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

১/ আল্লাহর প্রতিষ্ঠিত বিধান যদি কেও পরিবর্তন করার মত দুঃসাহস দেখায় তবে তাকে কি মুসলমান বলা যাবে? 
২/ আল্লাহ তাআলা মদ পান করাকে হারাম করেছেন এখন কেও যদি আল্লাহর এই নিষেধকে অমান্য করে বলে মদ খাওয়া হালাল তাহলে তাকে মুসলমান বলা যাবে? 
৩/ আল্লাহ তাআলা মুসলিম পুরুষদের জন্য যেসব মহিলা বিবাহ হারাম করেছেন যেমন- মা,বোন,খালা,ফুফু,মেয়ে ইত্যাদি রকমের মহিলা যাদের বিয়ে করা ইসলামে অবৈধ যদি কেও বলে আজ থেকে এদের বিয়ে করা জাইজ তবে সে কি মুসলমান থাকবে? 
এখন হয়তো ওহাবীরা প্রশ্ন করতে পারেন যে ইয়াজিদ এগুলো করেছে কে বল্লো? 
উত্তর -  
১/ ইয়াজিদ মদ হালালের ব্যাপারে তার জঘন্য উক্তি-
সে বলে, মদ যদি দ্বীনে মুহাম্মাদিতে হারাম হয়ে থাকে তবে ঈসা ইবনে মারিয়মের ধর্ম তথা খ্রিস্টান ধর্মের আলোকে হালাল হিসেবে খাও!!! (তাফসিরে ইবনে মাজহারি, খ-৫, পৃ-২১১-১২)
২/ ইয়াজিদ সম্পর্কে ইমাম দাহাবী(রাহ) অভিমত - তিনি বলেন- 
ﻭﻛﺎﻥ ﻧﺎﺻﺒﻴﺎ ﻓﻈﺎ ﻏﻠﻴﻈﺎ ﺟﻠﻔﺎ ﻳﺘﻨﺎﻭﻝ ﺍﻟﻤﺴﻜﺮ ﻭﻳﻔﻌﻞ ﺍﻟﻤﻨﻜﺮ ﺍﻓﺘﺘﺢ ﺩﻭﻟﺘﻪ ﺑﻤﻘﺘﻞ ﺍﻟﺸﻬﻴﺪ ﺍﻟﺤﺴﻴﻦ ﻭﺍﺧﺘﺘﻤﻬﺎ ﺑﻮﺍﻗﻌﺔ ﺍﻟﺤﺮﺓ ﻓﻤﻘﺘﻪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻭﻟﻢ ﻳﺒﺎﺭﻙ ﻓﻲ ﻋﻤﺮﻩ ﻭﺧﺮﺝ ﻋﻠﻴﻪ ﻏﻴﺮ ﻭﺍﺣﺪ ﺑﻌﺪ ﺍﻟﺤﺴﻴﻦ ﻛﺄﻫﻞ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻗﺎﻣﻮﺍ ﻟﻠﻪ
- ইয়াজিদ অত্যন্ত মারাত্মক চরিত্রের অধিকারী ছিলো সে পবিত্র আহলে বায়েতকে ঘৃণা করতো। এছাডাও সে মদ পানকে হালাল মনে করতো এবং বিভিন্ন অশালীন কাজে অভ্যস্ত ছিলো। সে প্রথম তার খিলাফত সুরু করে ইমাম হোসাইন(রা) এর শাহাদাত দিয়ে। এবং শেষ করে পবিত্র কাবা শরীফে হামলার মাধ্যমে। তৎকালীন মদিনার সবাই তাকে লানত দিয়েছিলো যা হাদীস দ্বারাও প্রমানিত। এবং সবাই তাকে ঘৃণারপাত্র হিসেবে লানত দিতে থাকে। 
( দলিল- কিতাব সিয়ার আলাম আন নুবালা/৪র্থ খন্ড/৩৭.৩৮) 
[ [Siyar A'lam an Nubala, Volume No. 4, Page No. 37-38 - Screen page-]

বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও মুফাচ্ছির ইমাম আল্লামা জালালুদ্দী সুয়ূতী(রাহ) এজিদের এই তিনটি চরিত্র নিয়ে তার বিখ্যাত কিতাব " তারিখে খুলাফা " মধ্যে বলেন - 
ইয়াজিদের অহরহ মারাত্মক চরিত্রের মধ্যে তিনটি মারাত্মক ও অশালীন চরিত্র ছিলো।
১/ সে মদ পানকে হালাল করে দিয়েছিলো।
২/ সে আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরুষদের জন্য হারামকৃত মহিলাদের সে বিয়ে করা হালাল করে দিয়েছিলো।
৩/ সে তার মহলে দিনরাত  মহিলাদের দ্বারা অশালীন নৃত্য করাতো। (দলিল- তারিখে খুলাফা / ৩য় খন্ড) 
[ Traikh R Khulafa /Volume No. 3,Screen page-)