" প্রসঙ্গ মোনাজাত বা সম্মিলিত মোনাজাত " | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস








শরু করছি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ সুবাহানু তাআলা তার পেয়ারে হাবীবআহমদ মোস্তফা মুহাম্মদ মোস্তফা (সা:) উনার উপর দুরুদ পেশ করে এবং আমার দয়ালমোখলেছ সাই এর সরণে...
" প্রসঙ্গ মোনাজাত বা সম্মিলিত মোনাজাত "
লেখার প্রথমে একটি কবিতার কথা মনে পড়ে গেল ছোটবেলায় এই কবিতাটি আমাদের শিক্ষক আমাদের শিখাতে বাধ্যকরতেন এখন তো দেখিনা কবিতা টি হল সূফিয়া কামালের সাথে আমার কিছুকথা যোগ করেছিভূল হলে মাফ করবেন---------
তুলি দুই হাত করি মোনাজাত--হে রহিমরহমান--কত সুন্দর করিয়া ধরণী মোদের করেছ দান--মোরাআজ সেই ধরণীতে সৃষ্টি করিয়াছী হিংসার গ্রাণ--এক দলে বলি মোনাজাত ম্লান--আরেক দলে বলি মোনাজাত অম্লান-- থেকে উদ্ধার কর দয়াময় হাবীব রহমান...আজ দু: ভরা ক্রান্ত হৃদয়েলেখছি খোদার কাছেদুহাত তুলে মোনাজাত করবো তা নাকি বেদাত কোন যুগে বাস করছি সরল প্রাণমুসলমানরা দেখি এখন মসজিদে নামায শেষেউঠে চলে যায়...উনারা যে খোদার কাছে নামায পরল সেই নামায হল কিনা ভূল হল কিনা নিজের জন্যবা পরিবারের জন্য বা দেশের জন্যহাত তুলে মোনাজাত করবে সেই জিনিসটা পারছে না কেন এই অনিহা .আল্লাহর হাবীব কি নামাযশেষে দু হাত তুলে মোনাজাত করেন নি.আসুন দেখেনেই. প্রত্যেকটা ইবাদতের সকল অংশ কোন একটাআয়াত বা হাদীসদ্বারা প্রমাণিত হতে হবে নতুবা তা অগ্রহণযোগ্য হবে
عنالضحاک فإذا فرغت قال من الصلاۃ المکتوبۃ، وإلی ربک فارغب، قال في المسئلۃ والدعاء۰ (الدر المنثور : ۶/۳۶۵

- হযরত যাহ্হাক (রাঃ) সূরা ইনশিরাহ তথা আলাম নাশরাহ এর উক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেন, যখন তুমিফরজ নামায থেকেফারেগ হবে তখন আল্লাহর দরবারে দুআতে মশগুল হবে (তাফসীরে দূররে মানছূর /৩৬৫)

(إذا فرغت من الصلاۃ المکتوبۃ فانصب في الدعاء۰ (تفسیر ابن عباس : ۵۱۴

-হযরত ইবনে আব্বাস- (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনিউক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেন, “যখন তুমি ফরজ নামায হতে ফারেগ হও, তখন দুআয় মশগুলহয়ে যাবে (তাফসীরে ইবনে আব্বাস (রাঃ), ৫১৪ পৃঃ ) قال ابن عباس وقتادۃ والضحاک ومقاتل والکلبي : إذا فرغت من الصلاۃ المکتوبۃ أو مطلق الصلاۃ فانصب إلی ربک والدعاء، وار غب إلیہ في المسئلۃ۰
(تفسیر مظہري : ۱/۲۹۴)

-হযরত কাতাদাহ, যাহহাক কালবী (রাঃ) হতে উক্ত আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত আছে, তাঁরা বলেন-‘ফরজ নামায সম্পাদন করারপর দুআয় লিপ্তহবে
(তাফসীরে মাযহারী, ১০/২৯৪ পৃঃ)


/ -হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) নবী কারীম সল্লাল্লাহুআলাইহী ওয়া সাল্লাম থেকেবর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা তাকীদ করে বলেছেন যে, হে মুহাম্মাদ! যখন আপনিনামায থেকে ফারিগহবেন তখন দু করবেন, হে আল্লাহ আমি আপনার নিকট ভাল কাজের তৌফিক কামনাকরছি এবং মন্দকাজ থেকে বিরতথাকার ব্যাপারে সাহায্য চাচ্ছি এবং আপনার দরবারের মিসকীন অর্থা আল্লাহ ওয়ালাদের মুহাব্বত কামনাকরছি....
(তিরমিযী শরীফ /১৫৯ হাঃ নং ৩২৪৯)
হযরত মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, ‘আমি আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর (রাঃ) কে দেখেছি যে, তিনিএক ব্যক্তিকে সালাম ফিরানোর পূর্বে হাত তুলে মুনাজাত করতেদেখে তার নামাযশেষ হওয়ার পর তাকে ডেকে বললেন, ‘রাসূলে পাক সল্লাল্লাহুআলাইহী ওয়া সাল্লাম কেবল নামায শেষ করার পরই হস্তদ্বয় উত্তোলন করে মুনাজাত করতেন; আগে নয়
(লাউস সুনান, /১৬১)
হযরত সায়িব বিন য়াযীদ (রাঃ) স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন নবী কারীমসল্লাল্লাহুআলাইহী ওয়াসাল্লাম যখন দু করতেন তখন উভয় হাত উঠাতেন এবং দু শেষেহস্তদ্বয়কে চেহারায় মুছতেন
(আবু দাউদ শরীফ/২০৯ হাঃ নং ১৪৯২)
হযরত আবু মূসাআশআরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআর জন্যউভয় হাত উত্তোলন করেন যদ্দরুন আমি তাঁর বগলের সাদাঅংশ দেখতে পাই(বুখারী শরীফ /৯৩৮ হাঃ নং ৬৩৪১)
হযরত উমর ফারুক(রাঃ) বর্ণনা করেনযে, নবী কারীমসল্লাল্লাহুআলাইহী ওয়াসাল্লাম দুআর জন্যযখন হাত তুলতেন তখন চেহারায় মুছার পূর্বে হাত নামাতেন না
(বুখারী শরীফ /১৭৬ হাঃ নং ৬৩৪১)
হযরত মুআয বিন জাবাল (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী কারীম সল্লাল্লাহুআলাইহী ওয়া সাল্লাম তাকেবললেন, হে মুআয! আমি তোমাকে ওসীয়াত করছি যে, প্রত্যেক নামাযের পর দু পড়াকে তুমি কখনো ছাড়বে না-হে আল্লাহ! আমাকে তোমার জিকির, শোকর এবং উত্তমইবাদত করার জন্যসাহায্য কর
(নাসাঈ শরীফ /১৪৬, আবু দাউদশরীফ /২১৩ হাঃ নং ১৫২২)
সকল কোরানী আয়াত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হল যে, নবী কারীম সল্লাল্লাহুআলাইহী ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক নামাযের পর মুনাজাত করতেন, চাই ফরজ হোক বা নফল এবং মুনাজাত করার সময় দুআরআদব হিসাবে উভয়হাত তুলতেন এবং শেষে উভয় হাত চেহারার মধ্যে মুছতেন আর নবী কারীমসল্লাল্লাহুআলাইহী ওয়াসাল্লাম যখন এরূপআমল করতেন তাহলেসাহাবাগণও (রাঃ) আমল করতেন কারণ, নবী কারীম সল্লাল্লাহুআলাইহী ওয়া সাল্লাম এর আমল নির্দেশ-এর পরে সাহাবাগণ তার বিরুদ্ধাচারণ করতেপারেন না এরকমঅসংধ্য হাদিস আছে যা এই অধম লিখে শেষ করতেপারবেনা..তারপরেও কেন সরলপ্রাণ মুসলমানদেরকে একটি দল ধোকা দিয়েযাচ্ছে...আমরা যারা বুঝি তারাও চুপ করে বসে আছি..কোরানের আয়াত রাসূল (সা:) ওনারহাদীসকে বিকৃত করে সরলপ্রাণ মুসলমানদের যে ধোকা দিয়ে যাচ্ছে এবং প্রায়ই টেলিভিশনের পর্দায় তারা ভাষণদিয়ে যাচ্ছ সহিহআর জাল বলে..দেশের শিক্ষিত মানূষ এখন তাদেরদলে যোগ দিয়েফায়দা লূটছে...আসূনআমরা থেকেবেড়িয়ে আসি নিজেরবিবেক বুদ্ধি দিয়েকোরান হাদিসএবং আমাদের রাসূল(সা:)ওনার উত্তরশরীদের অনুসরণ করি তা না করে আমরাটেলিভিশনে সারাদিন বসে লেকচার শুনি আর হ্যা হ্যা বলে থাকি..আমাদের কান চোখ বিবেক এগুলিকি হ্যা হ্যাএর মধ্যে থাকবে....প্রশ্ন আপনাদের কাছে...আমি অধম পরিশেষে বলতে চায় জাগিয়ে তুলুন নিজের ভিতরটাকে অন্ধ আর বধির হয়ে থাকবেনা থাকলে আপনারবোঝা আপনারি বহন করতে হবে আমাকেনা..তাই এখনোসময় আছে পূর্ববতীগণদের অনুসরন করুন--যেমন চার খলীফা থেকে শূরুকরে..তাবেয়ীন তাবেতাবেয়ীন..ওলি আওলিয়া গউস কুতুব ওনাদের অনুসরণ করুন-আমিন-প্রচারে-মোখলেছিয়া সূন্নী খানকা শরীফ


-প্রচারে-মোখলেছিয়া সূন্নী খানকা শরীফ