যারা বলেন ৩ মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন জায়গা যিয়ারত করা যাবেন এবং রওযা যিয়ারতের সূন্নত | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস


Top of Form
আজকাল একদল লোকবিশেষ করে ইবনেতাইমিয়া তারসমর্থকরা নিয়ত করেমাজার জিয়ারতের জন্যসফর করার ব্যাপারে হাদীসশরীফের ভুল বামনগড়া ব্যাখ্যা করেথাকে। এমনকি ইবনেতাইমিয়া তার ফতওয়ায়ে কোররাতে হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম এররওজা শরীফও নিয়তকরে জিয়ারতের জন্যসফর করা নিষেধকরেছে। (অথচ তাদেরব্যক্তিগত আমল ছিলএর বিরোধী)
তারা ব্যাপারে নিম্নোক্ত হাদীসশরীফ বর্ণনা করেথাকে॥

হযরত আবু সাঈদখুদরী রাদিআল্লাহু আনহুবলেন, হুজুর পাকসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তিনমসজিদ ছাড়া সফরকরো না, মসজিদুল হারাম, মসজিদুল আক্বছা আমার এই মসজিদ।
অথচ উপরোক্ত হাদীসশরীফ কবর বামাজার শরীফ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফরকরা সংক্রান্ত নয়, ইহা মসজিদে সফরকরা সম্পর্কিত। আমাদেরফতওয়ার বিষয়ে অপ্রাসঙ্গিক।
উক্ত হাদীস শরীফেরব্যাখ্যায় নিম্নোক্ত হাদীসশরীফে হুজুর পাকসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন॥
:
হযরত আনাস ইবনেমালিক রাদিআল্লাহু আনহুহতে বর্ণিত যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম বলেনকোন ব্যক্তি যদিঘরে নামাজ পড়েতবে তার একনামাজে॥ এক নামাজের সওয়াবপাবে। আর যদিপাঞ্জেগানা মসজিদে নামাজপড়ে তবে একনামাজে॥ পঁচিশ নামাজের সমানসওয়াব পাবে। আরযদি জুমুআর মসজিদেএক নামাজ পড়েতবে পাঁচশ নামাজের সওয়াবপাবে আর যদিমসজিদুল আক্বছায় একনামাজ পড়ে তবেপঞ্চাশ হাজার নামাজের সওয়াবপাবে। আর মসজিদুল নববীতেযদি এক নামাজপড়ে তবেও পঞ্চাশহাজার নামাজের সওয়াবপাবে। এবং যদিক্বাবা শরীফে একনামাজ পড়ে তবেএক লাখ নামাজের সওয়াবপাবে। (ইবনে মাজা, মেশকাত)

উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় আল্লামা মুহম্মদ ইউসুফবিন নূরী বলেন:
জমহুর উম্মত এরমাযহাব হল রওজামোবারক জিয়ারত করাউত্তম ইবাদত, আরনিয়ত করে সফরকরা শুধু জায়েজইনয় বরং মোস্তাহাব হওয়ারব্যাপারে সকলেই একমতএতে কোন প্রকারঅসুবিধা নাই। (মাআরিফুস সুনান, শরহেতিরমিযী, খন্ড , পৃঃ৩২৯)

এই হাদীসের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনেহাযার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহিবলেন, উক্ত হাদীসদ্বারা সাধারণভাবে সফরনিষিদ্ধ হওয়া বুঝায়না। কেননা কোনকোন সফর ওয়াজিবযেমন॥ হজ্বের নিয়তেসফর করা, জ্বিহাদের জন্যসফর, ইলম অর্জনের জন্যসফর, হিজরতের জন্যসফর এবং আরোওঅন্যান্য সফর সকলের মতে জায়েজহয়। তা হলহুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম এররওজা মোবারক জিয়ারতকি করে নাজায়েজ হবে? (ফতহুল বারী ৩য়খন্ড, পৃঃ৫০, উমদাতুল ক্বারী খন্ড পৃঃ২৫৩)

হাফিজে হাদীস শায়েখআল্লামা ইবনে হাযারআসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহিবলেন॥
:
হুকুমের উদ্দেশ্য হলোশুধু মসজিদের সাথেসস্পৃক্ত। মসজিদত্রয় ব্যতীতঅন্যান্য মসজিদে নামাজের জন্যসফর করা নিষিদ্ধ। তবেযদি মসজিদ ব্যতীতসালেহগণের (কবর) জিয়ারত, জীবিত-গণের সাথেসাক্ষাৎ, ইলম অর্জন, ব্যবসায় ভ্রমনের জন্যসফর করে তা হাদীসের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবেনা। (ফতহুল বারী৩য় খন্ড, ৬৫পৃষ্ঠা)

শায়েখ আব্দুল হকমোহাদ্দেস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহিবলেন॥
অর্থঃ কতক আলেমেরমতে, এখানে মসজিদের কথাবলা হয়েছে অর্থাতিন মসজিদ ব্যতীতঅন্য কোন মসজিদের দিকেভ্রমন করা জায়েজনহে, মসজিদ ব্যতীতঅন্যত্র ভ্রমন হুকুমের অন্তর্ভূক্ত নহে।(আশআতুল লোমআত ১মখন্ড ৩২৪ পৃঃ

তাই আমরা এখানেবিস্তারিত দলিল॥আদিল্লাসহ নিয়তকরে কবর বামাজার শরীফ জিয়ারতকরার জন্য সফরকরার উপর ফতওয়াপ্রকাশ করলাম।

(
) কবর জিয়ারতসম্বন্ধে হাদীস শরীফেআছে
(
): হযরত বুরহিদাহ্ রাদিআল্লাহু আনহুহতে বর্ণিত রসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবরজিয়ারত করতে নিষেধকরেছিলাম, এখন তোমরাতা করতে পারো(মুসলিম শরীফ)
(
) অন্য হাদিসশরীফ উনার মধ্যেআছে: হযরত ইবনেমসউদ রাদিআল্লাহু আনহুহতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবরজিয়ারত করতে নিষেধকরেছিলাম, এখন তোমরাতা করতে পার।কেননা উহা দুনিয়ার আসক্তিকে কমায়এবং আখিরাতকে স্মরণকরায়। (ইবনে মাযাহ)

(
) কবর জিয়ারতের বৈধতাপ্রসঙ্গে বিভিন্ন হাদীসপরিলক্ষিত হয়, আর সমস্ত হাদীসের ব্যাখ্যা হাফেজেহাদীস আল্লামা ইবনেহাযার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহিউনি দিয়েছেন এভাবে:
জেনে রাখুন পুরুষ মহিলাদের জন্যকবর জিয়ারত করা সমস্ত হাদীসের রায়অনুযায়ী মোস্তাহাব প্রমাণিত, তবেমহিলাদের ব্যাপারে মতানৈক্য আছে।(ফতহুল বারী ফিশরহে বোখারী ৩য়খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা)

বিখ্যাত হাদীস বিশারদআল্লামা বদরুদ্দিন আইনীরহমতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখকরেন: সাইয়্যিদাহ্ ফাতিমারাদিআল্লাহু আনহু প্রতিশুক্রবার হযরত হামযাহ্ রাদিআল্লাহু আনহুএর কবর জিয়ারতকরতে যেতেন, অনুরূপভাবে হযরতআয়েশা সিদ্দীকা রাদিআল্লাহু আনহুস্বীয় ভ্রাতা আবদুররহমান রাদিআল্লাহু আনহুএর কবর জিয়ারতকরার জন্য মক্কাশরীফ যেতেন। (উমদাতুল ক্বারীফি শরহে বোখারী)

তাবেয়ী মুহম্মদ বিননোমান রহমতুল্লাহি আলাইহিহতে বর্ণিত রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম বলেছেন॥ যেব্যক্তি প্রত্যেক শুক্রবার আপনমা॥বাপের অথবা তাঁদেরমধ্যে একজনের কবরজিয়ারত করবে, তাকেক্ষমা করে দেয়াহবে এবং মা॥বাপের সহিতসদ্ব্যব্যবহারকারীবলে লেখা হবে।(বায়হাকী)

হাদীসেও এককভাবে কবরজিয়ারত করার কথাবলা হয়েছে। যেব্যক্তি তাঁর মাতা॥পিতার কবরজিয়ারত করতে যাবেসে বাড়ী থেকেনিয়ত করেই রওয়ানাহবে অর্থাজিয়ারতকারী একমাত্র কবরজিয়ারত করার জন্যইকবরস্থানে গমন করবে।আর ক্ষেত্রে দূরবা নিকট এরকোন পার্থক্য নাই।নিকটের যে হুকুম, দূরেরও একই হুকুম।

প্রসঙ্গে ইমামশাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিবলেন:
অর্থঃ নিশ্চয়ই আমিইমাম আযম আবুহানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহিহতে বরকত হাসিলকরি। যখন আমারকোন সমস্যা দেখাদেয় আমি তাঁরমাজার শরীফে এসেপ্রথমে দুরাকাতনামাজ আদায় করি।অতঃপর তাঁর উসিলাদিয়ে আল্লাহ্ পাকেরনিকট সমস্যা সমাধানের জন্যপ্রার্থনা করি। তাঅতি তাড়া তাড়িসমাধান হয়ে যায়।(মুকাদ্দিমা,শামী ১মখন্ড ৫৫ পৃঃ)

হুযূর পাক (:) এরশাদ ফরমান: “আমিযদি সেখানে থাকতাম, তাহলে আমি তোমাদেরকে মূসা(:)-এর মাযারটি দেখাতাম, যেটিলাল বালির পাহাড়ের সন্নিকটে পথেরধারে অবস্থিত।
বোখারী শরীফ, ২য়খণ্ড, বই নং২৩, হাদীস নং৪২৩
এই হাদীস আবারওরাসূলে খোদা (:)-এর কাছথেকে একটিনস’ (স্পষ্ট দলিল) এইমর্মে যে তিনিআম্বিয়া (:)-গণেরমাযার-রওযা যেয়ারতপছন্দ করতেন; উপরন্ত, তিনি সাহাবা--কেরাম (রা:)-এর কাছেজোরালোভাবে তা ব্যক্তও করেছেন।

উপলব্ধির জন্যে নিম্নেপেশকৃত হাদীসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরএটি মাযার-রওযাযেয়ারতের আদব পালনেসাহাবা--কেরাম(রা:)-এর আকীদা-বিশ্বাসেরও প্রতিফলন করে।
হযরত সাইয়্যেদাহ আয়েশা(রা:) বর্ণনা করেন: “যে ঘরে মহানবী(:) আমারপিতা (আবূ বকর- রা:)-কে দাফনকরা হয়, সেখানেযখন- আমিপ্রবেশ করেছি, তখনআমার মাথা থেকেপর্দা সরিয়ে ফেলেছিএই ভেবে যেআমি যাঁদের যেয়ারতে এসেছিতাঁদের একজন আমারপিতা অপরজনআমার স্বামী। কিন্তুআল্লাহর নামে শপথ! যখন হযরত উমরফারূক (রা:) ওইঘরে দাফন হলেন, তখন থেকে আমিআর কখনোই ওখানেপর্দা না করেপ্রবেশ করি নি; আমি হযরত উমর(রা:)-এর প্রতিলজ্জার কারণেই রকম করতাম।” [মুসনাদে আহমদইবনে হাম্বল, ৬ষ্ঠখণ্ড, ২০২ পৃষ্ঠা, হাদীস # ২৫৭০১]

ইমাম নূরুদ্দীন হায়তামী (রহ:) এই হাদীসটি সম্পর্কে বলেন: “এটি ইমাম আহমদ(রহ:) কর্তৃক বর্ণিতএবং এর বর্ণনাকারীরা সবাইসহীহ মানব।” [মজমাউয্ যাওয়াইদ, :৪০, হাদীস# ১২৭০৪]
ইমাম আল-হাকিম(রহ:) এটি বর্ণনাকরার পর বলেন, “এই হাদীস বোখারী মুসলিমের শর্তঅনুযায়ী সহীহ।” [মোস্তাদরাক আল-হাকিম, হাদীস# ৪৪৫৮]
জরুরি জ্ঞাতব্য: প্রথমতঃ এইহাদীসে প্রমাণিত হয়যে শুধু আম্বিয়া (:)-এর মাযার-রওযা নির্মাণ-ইসলামে বৈধ নয়, পাশাপাশি সালেহীন তথাপুণ্যবান মুসলমানদের জন্যেওতা নির্মাণ করাবৈধ। লক্ষ্য করুনযে হাদীসেবায়তবাঘরশব্দটিউল্লেখিত হয়েছে। মানেমহানবী (:)-এররওযা শরীফের সাথেসর্ব-হযরত আবূবকর (রা:) উমর (রা:)-এরমাযার-রওযাওএকটিনির্মিত ঘরের অভ্যন্তরেঅবস্থিত ছিল।

দ্বিতীয়তঃ হযরত উমরফারূক (রা:)-এরউক্ত ঘরে দাফনেরপরে হযরত আয়েশাসিদ্দিকা (রা:) পূর্ণপর্দাসহ সেখানে যেয়ারতে যেতেন।এটি এতদসংক্রান্ত বিষয়েহযরতে সাহাবা--কেরাম (রা:)-এর আকীদা-বিশ্বাস প্রতিফলনকারী স্পষ্টদলিল, যাতেবোঝা যায় তাঁরামাযারস্থদের দ্বারা যেয়ারতকারীদের চিনতেপারার ব্যাপারটিতে স্থিরবিশ্বাস পোষণ
করতেন। হাদীসটির স্পষ্টবর্ণনার দিকে লক্ষ্যকরুন। তাতে বলাহয়েছেহায়া মিনউমর’, মানে হযরতউমর (রা:)-এরপ্রতি লজ্জার কারণেহযরত আয়েশা (রা:) ওখানে পর্দা করতেন।

*
তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ্ বলেছেন,‘আমরা রাসুলের সাথেশহীদদের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদীনাহতে বের হলাম।যখন আমরাহাররেওয়াকিমনামক স্থানেপৌঁছালাম কয়েকটি কবরলক্ষ্য করে তাঁকেবললাম : হে আল্লাহর নবী! এগুলো কি আমাদেরমুসলিম ভ্রাতাদের কবর? তিনি বললেন : কবরগুলো আমার সাহাবীদের। যখনআমরা শহীদদের কবরেরনিকট পৌঁছালাম তিনিবললেন : কবরগুলো আমাদেরভ্রাতৃবর্গের।
সুনানে ইবনে দাউদ,২য় খণ্ড,পৃ..২১৮,হাদীস নং৩৫৭,কিতাবুল মানাসিক,জিয়ারতে কবরঅধ্যায়।

*
মুসলিম হযরত আয়েশাহতে বর্ণনা করেছেনযে,মহানবী (সা.) শেষ রাত্রে জান্নাতুল বাকীরগোরস্তানে যেয়ে এভাবেসালাম করতেনআস্সালামু আলা দারেকাওমি মুমিনীন।
সহীহ মুসলিম,২য়খণ্ড,পৃ. ৩৬৩,হাদীস নং১০২,কিতাবুল জানায়িয।

*
ইবনে আবি শাইবাহবলেছেন,‘মহানবী (সা.) প্রতি বছরের শুরুতেওহুদের শহীদদের কবরেরনিকটে গিয়ে এভাবেসালাম দিতেন,‘আসসালামু আলাইকুম বিমাসাবারতুম ফানিমাউকবাদ্দার।
মুসতাদরাকে হাকিম,১মখণ্ড,পৃ. ৫৩৩,হাদীস নং১৩৯৬।
---------
কবর জিয়ারত বিষয়েবিস্তারিত একটি ওয়েবসাইট লিন্ক:
http://alhassanain.org/bengali/?com=content&id=404
Bottom of Form