কিতাবঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নূর [ইমাম আহমদ শেহাবউদ্দীন আল-কসতলানী (রহঃ)] | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস



কিতাবঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নূর
[ইমাম অাহমদ শেহাবউদ্দীন আল-কসতলানী (رحمة الله) প্রণীত ‘আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়া’ গ্রন্থের ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নূর’ অধ্যায় হতে অনূদিত।]
প্রকাশক: অাস্ সুন্নাহ ফাউন্ডেশন অফ আমেরিকা; 

[Imam Qastalani's book 'al-Mawahib al-Laduniyya' ('Light of the Prophet' chapter); from As-Sunnah Foundation of America; translated by K.S.Hossain]

বঙ্গানুবাদঃ কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন 
প্রকাশনায়ঃ সঞ্জরী পাব্লিকেশন
টিকা ও রেফারেন্স সংযোজনঃ মাসুম বিল্লাহ সানি

উৎসর্গ 
আমার পীর ও মোর্শেদ আউলিয়াকুল শিরোমণি হযরতুল আল্লামা শাহ সূফী সৈয়দ এ, জেড, এম, সেহাবউদ্দীন খালেদ সাহেব (رحمة الله)-এর পুণ্যস্মৃতিতে....। 
- অনুবাদক  

ইমাম মুহাম্মদ যুরকানী মালেকী (رحمة الله) ’আল-মাওয়াহিব’ বইটির ওপর ৮ খণ্ডের একটি ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। ইমাম কসতলানী (رحمة الله) ’আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়া’ গ্রন্থে বলেন:

اِسْمُ "مُحَمَّدٌ" مُطَابِقٌ لِمَعْنَاهُ، وَاللهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالىَ سَمَّاهُ بِهِ قَبْلَ أَنْ يُّسَمَّى بِهِ، عَلِّمَ مِنْ أَعْلَامِ نُبُوَّتِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ؛ إِذْ كَانَ اِسْمُهُ صَادِقًا عَلَيْهِ، فَهُوَ صَلىَّ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَحْمُوْدٌ فِيْ الدُّنْيَا بِمَا هُدًى لَهُ وَنَفَعَ بِهِ مِنَ الْعِلْمِ وَاْلحِكْمَةِ، وَهُوَ مَحْمُوْدٌ فِيْ الْآَخِرَةِ بِالشَّفَاعَةِ.

মহা বরকতময় নাম ‘মুহাম্মদ’ (ﷺ) ওই নামের অর্থের সাথে যথাযথভাবে মিলে যায় এবং আল্লাহ তা’য়ালা মানুষের দ্বারা তাঁর প্রতি ওই মোবারক নামকরণের আগেই নিজ হতে ওই পবিত্র নাম তাঁর প্রতি আরোপ করেন। এটি তাঁর নবুয়্যতের একটি প্রতীকী-চিহ্ন প্রতিষ্ঠা করে, কারণ তাঁর নাম তাঁরই (নবুয়্যতের) সত্যতাকে নিশ্চিত করে। অতএব, তিনি যে জ্ঞান-প্রজ্ঞা দ্বারা (সবাইকে) হেদায়াত দান করেছেন এবং (সবার জন্যে) কল্যাণ এনেছেন, সে কারণে তিনি এই দুনিয়ায় প্রশংসিত (মাহমূদ)। আর পরকালে শাফায়াত তথা সুপারিশ করার সুউচ্চ মকামে অধিষ্ঠিত হবেন বলেও তিনি প্রশংসিত (মাহমূদ)।
[১].[যুরকানী রচিত ’শরাহ’ বা ব্যাখ্যা, ৩:১৭৪]

[আল্লাহ তা’য়ালা সাইয়্যেদুনা মুহাম্মদ (ﷺ)-এর নবুয়্যতকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে কীভাবে তাঁকে মহাসম্মানিত করেছেন, তার বর্ণনা; এতে আরও বর্ণিত হয়েছে তাঁর বংশপরিচয়, ঔরস, বেলাদত (ধরাধামে শুভাগমন) ও (ছেলেবেলার) শিক্ষাদীক্ষা]  

আশীর্বাদধন্য রূহের সৃষ্টি

❏ আল্লাহ তা’য়ালা সৃষ্টিকুলকে অস্তিত্বশীল করার এরাদা (ঐশী ইচ্ছা) পোষণ করার পর তিনি নিজ ‘নূর’ হতে নূরে মুহাম্মদী (ﷺ)কে সৃষ্টি করেন। এরপর তিনি মহানবী (ﷺ)-এর নূর হতে বিশ্বজগত ও আসমান-জমিনের তাবৎ বস্তু সৃষ্টি করেন। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর রেসালাত সম্পর্কে অভিহিত করেন; ওই সময় হযরত আদম (عليه السلام) রূহ এবং দেহের মধ্যবর্তী (ঝুলন্ত) অবস্থায় ছিলেন। হুযূর পূর নূর (ﷺ) হতেই তখন সমস্ত রূহ অস্তিত্বশীল হন, যার দরুন তিনি সকল সৃষ্টির চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে সাব্যস্ত হন এবং সকল অস্তিত্বশীল বস্তুর উৎসমূলে পরিণত হন।

❏ সহীহ মুসলিম শরীফে, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেন যে, 
كَتَبَ اللهُ مَقَادِيرَ الْخَلَائِقِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ.
"আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগেই আল্লাহ পাক সৃষ্টিকুলের ভাগ্য (তাকদীর) লিপিবদ্ধ করেছিলেন। অধিকন্তু, (হাদীসে) আরও বলা হয় যে, 
وَعَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ.
আল্লাহ তা’য়ালার আরশ-কুরসি ছিল পানির উপর।"
[২].
১.মুসলিমঃ আস সহীহ, বাবু হিজাজি আদম ওয়া মূসা আলাইহিমাস সালাম, ১৩:১১৭, হাদিস নং : ৪৭৯৭। ২.ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ১১/১৪৪ পৃ . হা/৬৫৭৯,
৩.ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান, ৪/২৮ পৃ . হা/২১৫৬ ৪.সহীহ ইবনে হিব্বান, ১৪/৫ পৃ . হা/৬১৩৮ 

এবং যিকির তথা উম্মুল কেতাবে যা কিছু লেখা হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল সাইয়্যেদুনা মুহাম্মদ (ﷺ)-এর "’খাতামুন্ নাবিয়্যিন’" হওয়ার বিষয়টি। 
[৩]. সূরা আহযাব, আয়াত নং-৪০ । 

❏ হযরত এরবায ইবনে সারিয়্যা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে মহানবী (ﷺ) ইরশাদ ফরমান, 

إِنِّي لَخَاتَمُ النَّبِيِّينَ وَإِنَّ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلَام لَمُنْجَدِلٌ فِي طِينَتِهِ.

“(আল্লাহ বিবৃত করেন যে) আমি তখনো আম্বিয়া (عليه السلام)-এর মোহর ছিলাম, যখন আদম (عليه السلام) রূহ ও দেহের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন (মানে সৃষ্টি হননি)।” 
[৪].
১.মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ২৮তম খণ্ড, পৃ . ৩৭৯, হা/১৭১৫০।