আন নাবী আল উম্মী - রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি লিখতে জানতেন? | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

প্রিয় নবী ﷺ এর রোগ যখন বেড়ে গেল তখন তিনি বললেনঃ আমার কাছে কাগজ কলম নিয়ে এস, আমি তোমাদের এমন কিছু লিখে দিব যাতে পরবর্তীতে তোমরা ভ্রান্ত না হও। ‘উমর (রাঃ) বললেন, রাসূল ﷺ এঁর রোগ যন্ত্রণা প্রবল হয়ে গেছে (এমতাবস্থায় কিছু বলতে বা লিখতে তাঁর কষ্ট হবে)। আর আমাদের কাছে তো আল্লাহর কিতাব রয়েছে, যা আমাদের জন্য যথেষ্ট। এতে সাহাবীগণের মধ্য মতবিরোধ দেখা দিল এবং শোরগোল বেড়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে যাও। আমার কাছে ঝগড়া-বিবাদ করা উচিত নয়। এ পর্যন্ত বর্ণনা করে ইবনে আব্বাস (রাঃ) (যেখানে বসে হাদীস বর্ণনা করছিলেন সেখান থেকে) এ কথা বলতে বলতে বেরিয়ে গেলেন যে, ‘হায় বিপদ, সাংঘাতিক বিপদ! রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর লেখনীর মধ্যে যা বাধ সেধেছে। (সহীহ বুখারী ১১৪)
 
অন্য বর্ণনায় এভাবেও এসেছে-

ইবনে ‘আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর ওফাতের সময় যখন ঘনিয়ে এলো এবং ঘরে ছিল লোকের সমাবেশ, তখন নবী ﷺ বললেন, তোমরা এসো, আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দেই, যেন তোমরা পরবর্তীতে পথভ্রষ্ট না হয়ে যাও। তখন তাদের মধ্যকার কিছুলোক বললেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর রোগ-যন্ত্রণা কঠিন হয়ে গেছে, আর তোমাদের কাছে তো কুরআন মওজুদ আছে। আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এ ব্যাপারে নবী ﷺ এঁর পরিবারের লোকজনের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয় এবং তারা পরস্পর বাক-বিতন্ডা করতে থাকেন। তাদের কেউ বললেন, তোমরা তার নিকট যাও, তিনি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দিবেন। যাতে তোমরা তাঁর পরে কোন বিভ্রান্তিতে না পড়। আবার কেউ বললেন অন্য কথা। বাক-বিতন্ডা ও মতভেদ যখন চরমে পৌঁছল, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তোমরা উঠে চলে যাও। ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) বলেন, ইবনে ‘আববাস (রাঃ) বলতেন, এ ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবীগণের (রাঃ) জন্য কিছু লিখে দেয়ার ব্যাপারে তাদের মতবিরোধ ও চেঁচামেচিই মূলত প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। 

(সহীহ বুখারী ৪৪৩২)

এই ছিল প্রিয় নবী ﷺ এঁর কিছু লেখা দেয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কারণে সাহাবায়ে কেরামের আফসোস, অথচ তাঁর এমন উম্মতও রয়েছে যারা তাঁকে কুরআন হাদিসের অপব্যাখ্যা করে হলেও নিরক্ষর প্রমাণ করতে চায়...(নাউজুবিল্লাহ)  শতকোটি আফসোস ঐসকল নির্বোধদের জন্য, আল্লাহ তায়ালা এদের হেদায়েত দিক।