হযরত সালেহ(আঃ) হাউজে কাউসার হবে উঠের স্থন | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

হযরত    সালেহ   আলাইহিস    সালাম    ব্যতীত    প্রত্যেক  নবীগণের  জন্য  হাউজ    থাকবে।  কিন্তু   হযরত   সালেহ  আলাইহিস সালাম এর হাউজের পরিবর্তে উনার উটের স্তন হবে উনার উম্মতের জন্য হাউজ।

এ প্রসঙ্গে হযরতুল আল্লামা হাফেজ   মোহাম্মদ   আব্দুল   জলিল  (রহ.) কর্তৃক লিখিত ‘হায়াত মউত কবর হাশর’ নামক       স্বীয়      গ্রন্থে      তিনি      একটি      চমৎকার     বর্ণনা দিয়েছেন। নিম্নে তা প্রদত্ত হলো-

خرج  الترمذى  عن  سمرة    قال  قال   رسول  الله  صلى    الله عليه   وسلم   ان    لكل   نبى   حوضا-   وانهم   يتباهون    ايهم اكثر   واردها- وانى  ارجوا ان اكون اكثر   هم واردة- هذا  حديث   حسن  غريب-   وقال      البكرى  المعروف  بابن الواسطى-  لكل نبى  حوض-   الا   صالحا عليه  السلام- فان  حوضه ضرع ناقته-

অর্থ:   হযরত  ছামুরা   ইবনে   জুনদুব  রাদিয়াল্লাহু  আনহু হতে     বর্ণিত,     তিনি     বলেন-     নবী     করিম     সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক নবীর উম্মতের জন্যই হাউজ থাকবে এবং নবীগণ পরস্পর এ বিষয়  নিয়ে  গৌরব    করবেন-    কার  বেশি  উম্মত   তাঁর হাউজ হতে পানি পান করবে। আর আমি আশা করছি- আমার উম্মতই হবে সবচেয়ে বেশি।’ উক্ত হাদিসখানা   হাসান বা   মধ্যম  পর্যায়ের, তবে  তার রাবী কম-  তাই   গরিব। (তিরমিজি)

মোহাদ্দেস    বাকারী    ইবনে   ওয়াসেতা    (রহ.)   এভাবে হাদিস      বর্ণনা     করেছেন-      ‘প্রত্যেক     নবীরই      হাউজ থাকবে- কিন্তু সালেহ  আলাইহিস সালাম  এর  হাউজের পরিবর্তে তাঁর উটের স্তন হবে তাঁর উম্মতের হাউজ।

ব্যাখ্যা: হাশরের ময়দানে ও জান্নাতে নবীগণ নিজ নিজ উম্মতের   সংখ্যা  নিয়ে  গৌরব  করবেন  এবং   হাউজের ব্যাপারেও   গৌরব  করবেন। হুজুর   সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিনয়ের সাথে  বললেন- আমার   আশা যে,  আমার  উম্মতই  হবে   সবার   চেয়ে   অধিক।   ইতোপূর্বে বর্ণিত       হয়েছে     যে,      হাউজে     কাউছারের     পেয়ালার সংখ্যাই হবে আকাশের সমস্ত গ্রহ-নত্রের চেয়েও বেশি। তাহলে উম্মতের সংখ্যা  কত  হতে  পারে-   তা  সহজেই অনুমেয়।   হাদিসে   এসেছে  ‘হাশরবাসীর  কাতার   হবে  ১২০টি। তার মধ্যে ৮০টি কাতারই নবীজির উম্মতের। বাকী       ৪০      টি      কাতার      হবে      অন্যান্য      নবীগণের  উম্মতের।

জান্নাতে  অন্যান্য  নবীদেরকে এক একটি করে   হাউজ  দেয়া   হবে।  কিন্তু  সালেহ   আলাইহিস  সালামকে  দেয়া হবে তাঁর মুজিযার  উটনীটি। ঐ  উটনীটি জান্নাতে যাবে এবং  তার    দুধপান  করবে  সালেহ  আলাইহিস   সালাম এর উম্মতগণ।  তাহলে   বুঝা যাচ্ছে অন্যান্য  নবীগণের হাউজ হবে যত বড়- উক্ত উটনীর স্তনও হবে তত বড় এবং দুধও হবে সে পরিমানেই।’

বিঃ  দ্রঃ-  জান্নাতে  ৪টি   নহর  দিয়ে  ৪  প্রকার   নিয়ামত নবীজির হাউজে কাউছারে পড়বে  বলে ২৬ পারা সূরা ‘মুহাম্মদ’  এ  বর্ণিত  হয়েছে।  একটি  নহর  হবে  দুধের,  আরেকটি   হবে     মধুর,    আরেকটি   হবে   সুস্বাদু   পবিত্র  শরাবের, আরেকটি হবে নির্মল পানির।

এই ৪টি নহরের উৎসমূল হবে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ এর মধ্যে ৪টি  শব্দের শেষের চার হরফ   থেকে অর্থাৎ-   বিছমি    শব্দের  শেষের   (মীম)  আল্লাহ   শব্দের  শেষের (হা)  রাহমান  শব্দের (নুন)   এবং  রাহীম শব্দের শেষের  (মীম)।  এই  ৪টি  হরফ  থেকে  ৪টি  নহর  বের  হয়ে  হাউজে  কাউছারে পতিত  হবে।   মিরাজ রজনীতে জিব্রাইল আলাইহিস সালাম  নবীজিকে জান্নাতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে হাউজে কাউছারের উৎসমূল ৪ প্রকারে পানীয় পান   করার   পাত্রসমূহ,     হাউজে   কাউছারের   মূল্যবান  পাথরসমূহ ও গ্লাসসমূহ সবকিছু দেখিয়েছিলেন।

নবীজি বলেছেন- ‘যারা প্রত্যেক ভালকাজে নিয়ত করে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির  রাহীম’ পড়বে- তাদেরকে ঐ ৪টি     নহরের   পানি,   দুধ,    মধু   ও   পবিত্র   শরাব   পান করানো হবে।’

এছাড়াও    অন্যান্য   নহরের    ভিন্ন   ভিন্ন   নাম   রয়েছে। যেমন- একটি নহরের নাম হবে  ‘রজব’।  যারা রজবের চাঁদের ২৭ তারিখ নফল   রোযা  রাখবে,  তাঁদেরকে  ঐ  রজব   নহরের পানি পান করানো  হবে। যার  স্বাদ হবে  মধুর চেয়ে বেশি মিষ্ট- রং হবে দুধের চেয়ে বেশি সাদা এবং  শীতল  হবে   বরফের  চেয়েও বেশি।’  (গুণিয়াতুত তালেবীন,   তামবিহুল   গাফিলীন,   দুররাতুন   নাসিহীন- প্রভৃতি ফাযায়েল গ্রন্থ) (হায়াত মউত কবর হাশর)