হুদায়বিয়ার সন্ধির পটভূমি | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

প্রাসঙ্গিকক্রমে  হুদায়বিয়ার  সন্ধির  পটভূমি    আলোচনা  করা     আবশ্যক।  তাহলে  একথা    স্পষ্ট  হয়ে    যাবে  যে মুশরিকগণ     কিভাবে     এ     কালিমাকে     অহংকারবশত  অস্বীকার      করেছিল।     আল্লামা   ইবনে   কাছির   البداية والنهاية গ্রন্থে এ প্রসঙ্গটি সুন্দর করে তুলে ধরেছেন-

ثم دعا رسول الله صلى الله عليه  وسلم على ابن ابى طالب فقال  اكتب  "بسم الله الرحمن الرحيم"  فقال   سهيل  لا  اعرف هذا ولكن اكتب باسمك اللهم-  فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اكتب   باسمك اللهم- فكتبها- ثم قال اكتب-  هذا ما صالح  عليه محمد رسول الله  سهيل بن   عمرو-    فقال   سهيل   لو   شهدت   انك   رسول   الله   لم   اقاتلك-  ولكن اكتب   اسمك واسم  ابيك- فقال    رسول الله  صلى  الله  عليه  وسلم  اكتب  هذا  ما  صالح   عليه  محمد بن عبد الله سهيل بن عمرو-

অর্থ:    হুদায়বিয়ার     সন্ধির     দিন    রাসূলুল্লাহ    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ঢেকে বললেন- তুমি লিখ- বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। এ কথা শুনে সুহাইল বলল- রাহমানুর রাহিম কি সেটাতো আমরা   জানি না।  বরং লিখুন  ‘বি  ইসমিকা  আল্লাহুম্মা’  তখন      রাসূলুল্লাহ      সাল্লাল্লাহু       আলাইহি       ওয়াসাল্লাম বললেন-      ঠিক     আছে-     আলী     লিখ-       ‘বি     ইসমিকা আল্লাহুম্মা’ আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাই লিখলেন।

অতঃপর   রাসূলুল্লাহ   সাল্লাল্লাহু   আলাইহি     ওয়াসাল্লাম   বললেন-  এবার লিখ   ‘মুহাম্মাদুর  রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সুহাইল ইবনে আমরের মধ্যে সন্ধিচুক্তি  করা  হল।  তখন  সুহাইল    বলল-  আমি  যদি  একথা   স্বীকার   করতাম     যে    আপনি   আল্লাহর   রাসূল তাহলে    আপনার    সাথে    যুদ্ধ     করতাম      না।    সুতরাং ‘মুহাম্মাদুর    রাসূলুল্লাহ’  লিখা  যাবে  না।  বরং   আপনার নাম ও আপনার পিতার নাম লিখুন।

তখন      রাসূলুল্লাহ      সাল্লাল্লাহু       আলাইহি       ওয়াসাল্লাম বললেন-    ঠিক  আছে,   আলী   তুমি   লিখ  ‘মুহাম্মদ  বিন আব্দুল্লাহ  ও  সুহাইল  বিন    আমর   এর  মধ্যে  সন্ধিচুক্তি করা     হল।      ইহাই     ছিল      হুদায়বিয়ার     সন্ধির     দিনে  কাফিরদের কালিমাকে অস্বীকার করা।

অতএব      আজকে    যারা   কালিমার   বাক্যে   ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’  যুক্ত করাকে শিরকের ফতোয়া  প্রদান করে ইহাকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে তারাও প্রকৃতপক্ষে সুহাইল ইবনে আমরের উত্তরসুরী।

খ.     আল্লাহতা’য়ালা    সূরা    কাফিরুনের    মধ্যে     ইরশাদ করেন-
ولا انتم عابدون ما اعبد
অর্থ: আমি যার ইবাদত করি তোমরা তার ইবাদতকারী নও।

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে কাছির বলেন-
بان العابد لا  بد  له من معبود  يعبده  وعبادة  يسلكها   اليه فالرسول صلى الله عليه وسلم  واتباعه يعبدون  الله بما شرعه-  ولهذا   كان كلمة   الاسلام لا اله الا الله  محمد رسول الله-

অর্থ: প্রত্যেক  ইবাদতকারীরই মাবুদ বা  উপাস্য আছে  এবং উপাসনা পদ্ধতি রয়েছে। অতএব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি      ওয়াসাল্লাম       ও     তাঁর     উম্মতগণ      শুধুমাত্র আল্লাহর  ইবাদত   করেন   যা  তিনি   নির্দেশ   করেছেন।  এজন্য ইসলামের মূল কালিমা হল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদু রাসূলুল্লাহ’।