নবীজীর নবুয়ত প্রাপ্তির সময়কাল | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস


الحمد لله  رب  العالمين والصلوة  والسلام على  رسوله  من  كان نبيا وادم بين الماء والطين-

নবুয়ত প্রাপ্তির সময়কাল

আমাদের  প্রিয়  নূর   নবী   দুজাহানের  বাদশা    নাবিউল  আম্বিয়া    শাফিউল    মুযনিবীন    রাহমাতুল্লিল    আলামীন  হযরত      মুহাম্মাদুর        রাসূলুল্লাহ      সাল্লাল্লাহু      আলাইহি ওয়াসাল্লাম   হলেন   সর্বশেষ   নবী    এবং   শেষ    রাসূল।  মানবজাতির    আদি    পিতা   হযরত    আদম   আলাইহিস সালামকে সৃষ্টির  হাজার  হাজার  বছর পূর্বে আল্লাহপাক আমাদের নবীজীকে সৃষ্টি করে নবুয়ত দান করেন। এই নশ্বর  পৃথিবীতে   শুভাগমনের    ৪০   বছর  পর   নবীজীর উপর ওহি    অবতরণ  হয়।  জানা আবশ্যক  যে,  নবুয়ত প্রদান আর ওহি অবতরণ এক জিনিস নয়। নবুয়ত দান করা     হয়েছে    পৃথিবীতে   আগমনের   পূর্বে   এবং     ওহি নাজিল  হয়েছে  পৃথিবীতে  আগমনের  ৪০  বছর  পরে।  সুতরাং আমাদের প্রিয় নবী ওহি নাজিল হওয়ার পূর্বেও ছিলেন নবী। এটাই আহলে  সুন্নাত  ওয়াল  জামায়াতের আক্বিদা।

পরিতাপের    বিষয়   কথিত    মাওলানা   হামিদী      সাহেব ‘মিলাদুন্নবী    সিরাতুন্নবী   ও   ঈসালে    সওয়াব    কিভাবে উদযাপন করবেন?’ প্রবন্ধে  শানে   নবুয়ত ও রিসালাত সম্পর্কে  এমন   বিভ্রান্তিকর   বক্তব্য  প্রদান  করেছেন  যা নবী প্রেমিক মুমিন মুসলমানদের ঈমানের পরিপন্থী।

আমি   প্রথমে   তার   বক্তব্যটি   হুবহু   তুলে   ধরব     এবং   ধারাবাহিকভাবে এর জবাব প্রদান করব ইনশাআল্লাহ।

হামিদী সাহেব লিখেছেন-

‘নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে এই  ৪০ বৎসর পর্যন্ত যদিও তিনি উম্মতের    জন্য   অনুকরণীয়    আদর্শ    ছিলেন    না    তবে  একজন আদর্শ  মহামানব ও নবী হওয়ার  জন্য যতটুকু যোগ্যতার     প্রয়োজন    ছিল,    এই    সময়ে    তিনি    তাহা  সম্পূর্ণরূপে     অর্জন   করে  নিয়েছিলেন।  তাই  এই    ৪০ বছরের জীবন ছিল তাহার নবুয়তের যোগ্যতা অর্জনের সময়কাল। ’

কয়েক লাইন পরে আবার লেখেছেন-

‘জন্ম    থেকে  ৪০  বছর  কাল    এই   সময়ে  যদিও  তিনি নবুয়তপ্রাপ্ত       হননি        এবং       আমাদের        জন্য        তিনি অনুকরণীয়   আদর্শ  ছিলেন   না।   তবুও  তাহার   জীবনী  সম্বন্ধে   জানা   এবং   তাহার   আলোচনা   উম্মতের   জন্য  অনেক সওয়াবের কাজ। ’

অন্য জায়গায় লেখেছেন-

‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্ম থেকে নিয়ে ৪০     বছর     পর্যন্ত,     এই     দীর্ঘ     সময়ের     মধ্যে     তিনি  রিসালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত হননি এই  সময়ে তিনি  নিজেই জানতেন না ঈমান কাহাকে বলে? এবং কোরআন কি? ধর্ম কি? (নাউজুবিল্লাহ)।

তার    এই  বক্তব্যে  নিম্নলিখিত  কয়েকটি   বিভ্রান্তি     ধরা পড়েছে-

১।    জন্ম   থেকে   ৪০    বছর    পর্যন্ত    মুহাম্মদ    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবী ছিলেন না।

২।  ৪০  বছর পর্যন্ত উম্মতের   জন্য  অনুকরণীয়   আদর্শ ছিলেন না।

৩।    একজন    আদর্শ    নবী    হবার    যতটুকু    যোগ্যতার  প্রয়োজন  এই   ৪০  বছরে  তিনি  তা   সম্পূর্ণরূপে  অর্জন করেছেন।   তাই   এই   ৪০   বছর   সময়   হলো   মুহাম্মদ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নবী হবার যোগ্যতা অর্জনের সময়কাল।

৪।     ৪০      বছর      পর্যন্ত    মুহাম্মদ     সাল্লাল্লাহু    আলাইহি ওয়াসাল্লাম  নিজেই   জানতেন   না  ঈমান    কাকে   বলে, কোরআন কি এবং ধর্ম কি?

নিম্নে  কোরআন  ও   সুন্নাহভিত্তিক    এ  বক্তব্যের  জবাব   প্রদান করা হলো-