প্রথমে হাউজে কাউসারের পানি পান করবেন কারা? | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

মহাত্যাগী       দরিদ্র       মুহাজিরগণ        সর্বপ্রথম        হাউজে  কাউছারের পানি পান করার সুযোগ পাবেন।
এ   প্রসঙ্গে   হযরত  সাওবান  রাদিয়াল্লাহু     আনহু   থেকে একখানা হাদিস বর্ণিত হয়েছে-

خرج  ابن  ما   جة   عن  ثوبان   مولى   رسول  الله  صلى  الله عليه وسلم قال:  ان  حوضى ما بين عدن  الى   ايلة-  اشد  بياضا من  اللبن  واحلى  من  العسل-  اكاويبه  كعدد نجوم  السماء- من شرب منه لم يظمأ بعدها ابدا-  واول  الناس   من    يرد   على   الحوض      فقراء   المهاجرين    الدنس     ثيابا والشعث رءوسا- الذين   لاينكحون  لمتنعمات   ولاتفتح  لهم ابواب  السدد-   قال:  فبكى   عمر  حتى  ابتلت  لحيته  فقال  لكنى نكحت المتنعمات وفتحت لى ابواب السدد- لاجرم انى لا اغسل  ثوبى الذى يلى جسدى حتى   ينسخ-  ولا  ادهن رأسى حتى تشعث-

অর্থ:   রাসূলুল্লাহ   সাল্লাল্লাহু   আলাইহি   ওয়াসাল্লাম   এর  আযাদকৃত  গোলাম  হযরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ইবনে   মাজাহ বর্ণনা করেছেন। হযরত সাওবান  রাদিয়াল্লাহু    আনহু    বলেন-    রাসূলে    খোদা    সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন- আমার হাউজে কাউছারের   পরিধি   হবে   এডেন   থেকে   আয়লা   পর্যন্ত  (ইয়ামেন)।  উহার পানি দুধের চেয়ে  সাদা, মধুর চেয়ে মিষ্টি।    তার   গ্লাসসমূহ   হবে    আকাশের   তারকারাজির সমান। যারাই   উক্ত পানি   পান করবে-  কোনদিন আর পিপাসিত হবে না।  আর আমার উক্ত হাউজে সর্বপ্রথম  প্রবেশাধিকার  পাবে  গরিব মুহাজিরীন (যারা   বাড়িঘর আত্মীয়-স্বজন      ছেড়ে      মদিনায়      হিজরত      করেছেন  একমাত্র আল্লাহ  ও রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য)  তাঁদের বস্ত্র ছিল    ধুলামলিন    ও    পুরাতন    এবং    মাথার    চুল    ছিল  তৈলবিহীন   উসকো   খুসকো।   তাঁরা    (মদিনায়    গিয়ে)  কোন    ধনবতী  মহিলাকে  বিবাহ  করতে  পারেনি,  আর কোন ধনাঢ্য  ব্যক্তির দরজাও তাদের জন্য খোলা   ছিল না।’ (এত কষ্ট করেছেন তাঁরা)

হযরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু  বলেন- একথা শুনে হযরত  ওমর  রাদিয়াল্লাহু আনহু কেঁদে ফেললেন।  তাঁর চোখের  পানিতে  দাঁড়ি ভিজে   গেলো। তিনি  বললেন- আমি   ধনবতী   মহিলাকে   বিবাহ   করেছি   এবং   ধনাঢ্য  ব্যক্তিদের     দরজাও      আমার     জন্য      খোলা।     তাহলে অবশ্যই  আমি আমার   শরীরের  কাপড়  চোপড়  আর ধৌত  করবে   না-  যে,   পর্যন্ত   না  তা   ছিরে    যায়।  আর মাথায়    তৈলও    মালিশ    করবো      না।    যাতে     উসকো খুসকো হয়ে যায়। (ইবনে মাজাহ)

ব্যাখ্যা: গরিব মুহাজিরদের ফজিলত শুনে হযরত ওমর ঐ     ফজিলত     পাওয়ার    জন্যই      এই     আরজু     প্রকাশ করেছিলেন।   পূর্ব   হাদিসে   তো   প্রমাণিত   হয়েছে   যে,  তিনি হাউজে কাউছারের দায়িত্বে ও কর্তৃত্বে নিয়োজিত থাকবেন।   কিন্তু   তিনি   ঐ    দায়িত্বের   চেয়ে    গরিবদের সম্মানের   অধিকারী  হতেও    ইচ্ছাপোষণ   করেছিলেন। এটা        হলো         সাহাবায়ে         কেরামের        বিনয়        এবং রাসূলেপাকের      ঘোষণার    প্রতি     আকুলতা    ও    আগ্রহ প্রকাশ। (হায়াত মউত কবর হাশর)