পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী মাহফিল | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

ঈদে       মিলাদুন্নবী       সাল্লাল্লাহু       আলাইহি      ওয়াসাল্লাম উদযাপন ও  মিলাদ   শরীফের মাহফিল  সম্বন্ধে  হামিদী সাহেব  যে  বক্তব্য  প্রদান করেছেন তা  এত জঘন্য যে, একজন   নাস্তিককেও     হার    মানায়।   তিনি   মিলাদুন্নবী  সাল্লাল্লাহু  আলাইহি   ওয়াসাল্লামকে  নাজায়েজ   ও  মন্দ  বিদআত প্রমাণ করার ব্যর্থ চেষ্টা করতে গিয়ে অশালীন কটুক্তি    করেছেন।   এমনকি     মিথ্যাচার   ও    প্রতারণার মাধ্যমে সরলপ্রাণ মুসলমানদেরকে ধোকা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

এবার    তার  বিকৃত    মস্তকপ্রসূত  দুর্গন্ধময়  উক্তিটি    ল্য করুন; তিনি লিখেছেন-

‘যে   মজলিসে    ৯৯%    বাংগালীদের   উপস্থিতি,   যাদের ৯৫% আরবী ভাষা জানে না তাদের সামনে আরবী  বা ফারসী    ভাষায়   ‘ওয়ালাম্মা   তাম্মা   মিন    হামলিহী’বলে রাসূলের   মিলাদ  পাঠ  করা  হিন্দু  বাবনের  মন্ত্র  পড়ার  সাদৃশ্য। ’ (নাউজুবিল্লাহ)

(এখানে বাবন  শব্দটি অভিধান  বহির্ভুত।  প্রকৃত শব্দটি ব্রা‏‏‏হ্মণ হওয়া উচিত ছিল। )

পর্যালোচনা

আরবি  ভাষা  না   বুঝার   কারণে  যদি   রাসুল    সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিলাদ শরীফ পাঠ করা হিন্দু ব্রা‏‏হ্মণের  মন্ত্র পড়ার   সাদৃশ্য হয়ে যায়, তাহলে  আমি   বলব    আমাদের    ইবাদত    বন্দেগি    যেগুলো    অবশ্যই   আরবীতে        পড়তে        হয়,           হামিদী         সাহেব        কি সেগুলোকেও    ব্রা‏‏হ্মণের      মন্ত্র     পড়ার      সাথে      তুলনা   করবেন?   যেমন  নামাযের               কিরাত,               কোরআন               তিলাওয়াত,            আযান-ইকামত,            দরূদশরীফ,  জুমুয়ার      খুৎবাহ     ইত্যাদি।     কারণ        এগুলোর       অর্থ   অধিকাংশ    লোক    বুঝতে    অম।   আসলে    ইহা    তার      মিলাদশরীফের     প্রতি   বিদ্বেষেরই  বহি:প্রকাশ।

অথচ    ولما       تم     من     حمله    সংক্রান্ত    মিলাদশরীফের রেওয়ায়েত       বর্ণনা       যিনি      করেছেন       তিনি      হলেন   জগৎবিখ্যাত আলিম সৈয়দ জাফর ইবনে হাসান ইবনে আব্দুল  করীম  আল  বরযিঞ্জি।   ওফাত  ১১৮৪  হিজরি।  তিনি  মদিনাশরীফে শাফেয়ী মাযহাবের  মুফতি ছিলেন  এবং   মসজিদে   নববীতে   দরস   দিতেন।   তাঁর     রচিত ‘আল ইকদুল জাওহার ফি মাওলিদি নাবিয়্যিল আযহার’ সংেেপ        মওলুদে       বরযিঞ্জি         নামে       সারা       বিশ্বে সুপরিচিত।

উক্ত  কিতাবে   তিনি   মিলাদ  শরীফের  কিয়াম   সম্পর্কে হাদিস ও ফিকাহ বিশারদগণের ফতোয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে এভাবে উল্লেখ করেছেন-

واستحسن القيام عند  ذكر    مولده الشريف   ائمة ذو رواية ودراية فطوبى لمن كان تعظيمه صلى الله عليه وسلم غاية مرامه ومرماه-

অর্থ:  নবী  করিম  সাল্লাল্লাহু  আলাইহি   ওয়াসাল্লাম   এর বেলাদত  শরীফ    বর্ণনাকালে  দাঁড়িয়ে   সম্মান   প্রদর্শন করাকে হাদিস ও ফিকাহ বিশারদ   ইমামগণ মুস্তাহসান বা  উত্তম বলেছেন। অতএব  তাদের  জন্য  শুভ  সংবাদ নবীজীর   প্রতি  তা’জিম   প্রদর্শন  যাদের  চূড়ান্ত    ল্য  ও উদ্দেশ্য। (সুন্নী বার্তা- ৫৬ সংখ্যা)

তাছাড়া হামিদী সাহেবের পূর্বসূরী দেওবন্দীদের নেতা মাওলানা   রশিদ   আহমদ    গাঙুহী   তদীয়    ‘ফতোয়ায়ে   মিলাদ  শরীফ  ওয়া  গায়রা’   নামক  পুস্তকেও    এ  রকম বেআদবিমূলক উক্তি করে গেছেন- তিনি লিখেছেন-

پس یہ  ہر روز اعادہ ولادت مثل ھنود کے سانکہ  کنھیا کی ولادت کا ہر سال کرتے ہیں-

অর্থ: প্রতি বৎসর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর    মিলাদশরীফের     আয়োজন    করা     হিন্দুদের    ছাং কানাইয়ার          জন্মানুষ্ঠানের          মতো।            নাউজুবিল্লাহ (হাকিকতে মিলাদ)