দলিলসহ নামাজের মাসায়েল : (পর্ব ৩২)রফয়ে ইয়াদায়নের হাদীস সংখ্যা | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

রফয়ে ইয়াদায়নের হাদীস সংখ্যা

মুযাফফর বিন মুহসিন লিখেছেন, ‘ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেন,

وذكر البخاري أيضا أنه رواه سبعة عشر رجلا من الصحابة وذكر الحاكم وأبو القاسم بن منده ممن رواه العشرة المبشرة وذكر شيخنا أبو الفضل الحافظ أنه تتبع من رواه من الصحابة فبلغوا خمسين رجلا.

ইমাম বুখারী ১৭ জন ছাহাবী থেকে রফউল ইয়াদায়েনের হাদীছ বর্ণনা করেছেন। হাকেম ও আবুল কাসেম ইবনু মান্দাহ জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত দশজন ছাহাবী থেকে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। আর হাফেয আবুল ফাযল অনুসন্ধান করে ছাহাবীদের থেকে যে সমস্ত বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, তার সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছেছে।

এখানে লেখক অনুবাদে মারাত্মক ভুল করেছেন। তিনি যে আরবী বোঝেন না তার এটিও একটি প্রমাণ। সঠিক অনুবাদ হবে, বুখারী রহ. এও উল্লেখ করেছেন যে, ১৭ জন সাহাবী রাফউল ইয়াদায়নের হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাকেম ও আবুল কাসেম ইবনে মান্দাহ উল্লেখ করেছেন যে, তন্মধ্যে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনও আছেন। আর আমাদের উস্তাদ হাফেয আবুল ফাযল উল্লেখ করেছেন যে, যে সব সাহাবী রফয়ে ইয়াদাইনের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাদের ব্যাপারে তিনি অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছেন, তাদের সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছেছে।

হাফেয আবুল ফাযল ইরাকীর এই বক্তব্য উল্লেখ করতে গিয়ে আবার আসাদুল্লাহ গালিব সাহেব নিজের পক্ষ থেকে ‘অন্যুন’ শব্দ যোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, রুকুতে যাওয়া ও রুকু থেকে ওঠার সময় রাফউল ইয়াদায়েন করা সম্পর্কে চার খলীফাসহ প্রায় ২৫ জন ছাহাবী থেকে বর্ণিত ছহীহ হাদীছসমূহ রয়েছে। একটি হিসাব মতে রাফউল ইয়াদায়েন এর হাদীছের রাবী সংখ্যা আশারায়ে মুবাশশারাহসহ অন্যুন ৫০ জন সাহাবী। এবং সর্বমোট ছহীহ হাদীছ ও আছারের সংখ্যা অন্যূন চারশত।

লক্ষ করুন, অতিশয়োক্তি কাকে বলে? মাজদুদ্দীন ফিরোজাবাদী বলেছেন, হাদীস ও আছার মিলে চারশত। এটাই অতিশয়োক্তির সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তার ওপর গালিব সাহেব যোগ করলেন ছহীহ হাদীস ও আছারের সংখ্যা অন্যুন চারশত। তার মানে আরো বেশিও হতে পারে। সুবহানাল্লাহ।

গালিব সাহেবের মতে চার খলীফাসহ প্রায় ২৫ জন সাহাবীর হাদীস ছহীহ। তার অর্থ দাঁড়ায় কমপক্ষে ৩৭৫টি আছার রয়েছে এ বিষয়ে। এসব কি মানুষকে প্রভাবিত করার জন্য প্রতারণা নয়! তিনশটিই বাদ দিলাম, ৭৫টি আছারও কি দেখাতে পারবেন গালিব সাহেবরা?

তাছাড়া তারা যে বলেছেন ‘চার খলীফাসহ জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন থেকে এ হাদীস বর্ণিত আছে’ এটা শোনা কথা। কারণ এই দশজনের মধ্যে চার খলীফাসহ কারো থেকেই সহীহ সনদে এই হাদীস বর্ণিত হয়নি। ইমাম বুখারী তো এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থই রচনা করে ফেলেছেন। কিন্তু সেখানে এই দশজনের মধ্যে শুধুমাত্র আলী রা. বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। বাকি নয়জনের কারো বর্ণনাই তিনি উল্লেখ করতে পারেন নি। হ্যাঁ, উমর রা.এর বর্ণনার প্রতি তিনি ইঙ্গিত করেছেন। যেমন ইঙ্গিত করেছেন ইমাম তিরমিযীও।

বাস্তব কথা হলো চার খলীফার কারো থেকেই সহীহ সনদে রফয়ে ইয়াদায়নের হাদীস বর্ণিত হয়নি। হযরত উছমান রা. থেকে তো যঈফ সনদেও কোন হাদীস নেই। আবু বকর সিদ্দীক রা. এর হাদীসটি তো দীর্ঘ চারশত বছর পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল। এ সময়ে হাদীসের প্রসিদ্ধ ছয় কিতাবসহ শতাধিক হাদীসগ্রন্থ রচিত ও সংকলিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের জানামতে কোন হাদীস গ্রন্থেই এটি উদ্ধৃত হয়নি। এমনকি কেউ ইশারাও করেন নি। ইমাম বুখারী এ বিষয়ে স্বতন্ত্র পুস্তক রচনা করলেও এর প্রতি ইঙ্গিত পর্যন্ত করেন নি। সর্বপ্রথম ইমাম বায়হাকী রহ. (শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী, মৃত্যু ৪৫৮ হি.) এটি উদ্ধৃত করেছেন। তিনি না হলে মনে হয় এটি আড়ালেই থেকে যেত। তদুপরি এর সনদও ঝামেলা মুক্ত নয়। (দ্র. নায়লুল ফারকাদাইন, পৃ. ৫৬, ৫৭)

হযরত উমর রা.এর হাদীসটির প্রতি অবশ্য ইমাম বুখারী ও তিরমিযী ইঙ্গিত করেছেন। তবে এটি উদ্ধৃত করেছেন বায়হাকী রহ. আসসুনানুল কুবরা গ্রন্থে (২/৭৪, হাদীস ২৫২১)। খতীব বাগদাদী আল জামে লি আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে’ গ্রন্থে (নং ১০১) ও ইবনুল আ’রাবী তার মু’জাম গ্রন্থে (নং ১১৪৭, ২৩১) তিনজনই শো’বার সূত্রে হাকাম থেকে, তিনি বলেছেন, আমি তাউসকে দেখলাম, তিনি (প্রথম) তাকবীরের সময়, রুকুর সময় ও রুকু থেকে মাথা তোলার সময় কাঁধ পর্যন্ত হাত উত্তোলন করলেন। আমি তার জনৈক ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন, তিনি (তাউস) এটি বর্ণনা করেন ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর রা.এর সূত্রে নবী সা. থেকে। এরপর বায়হাকী রহ. হাকেম আবু আব্দুল্লাহর এ উক্তিও উল্লেখ করেছেন, দুটি হাদীসই সঠিক। ইবনে উমর রা. উমর রা.এর সূত্রে নবী সা. থেকে এবং ইবনে উমর রা. (সরাসরি) নবী সা. থেকে।

কিন্তু বাস্তবে উমর রা.এর সূত্রে হাদীসটি সহীহ নয়। হাকেম রহ. যদিও এটিকে সঠিক আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু তারই উস্তাদ দারাকুতনী রহ. স্পষ্ট বলেছেন, শো’বা থেকে এটি এভাবে বর্ণনা করেছেন আদম ইবনে আবু ইয়াস ও আম্মার ইবনে আব্দুল জাব্বার মারওয়াযী। আর তারা দুজনই ভুলের শিকার হয়েছেন। সঠিক বর্ণনা হলো, ইবনে উমর নবী সা. থেকে। শুধু দারাকুতনীই নন, তার অনেক পূর্বে ইমাম আহমদও তাই বলেছেন। খাল্লাল রহ. তার ইলাল গ্রন্থে আহমদ ইবনে আসরাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমি আবূ আব্দুল্লাহ অর্থাৎ আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.কে এ হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, শোবা থেকে এভাবে কে বর্ণনা করেছেন? আমি বললাম, আদম ইবনে আবু ইয়াস। তিনি বললেন, ‘এটা কোন কিছুই নয়। এটি আসলে হবে ইবনে উমর রা. নবী সা. থেকে।’

তাছাড়া তাউসের জনৈক ছাত্র কে: তার কোন পরিচয় পাওয়া যায় নি। এমন অজ্ঞাত ব্যক্তির বর্ণনা প্রামাণ্য হতে পারে না।

হযরত আলী রা.বর্ণিত হাদীসটিতে চার জায়গায় রফয়ে ইয়াদায়ন এবং রুকু-সেজদা ও কওমা জলসার বিভিন্ন দুআ ও যিকিরের কথা এসেছে। এটি উদ্ধৃত করেছেন আবু দাউদ (৭৪৪) তিরমিযী (৩৪২৩), ইবনে মাজাহ (৮৪৬) ও আহমদ (৭১৭) প্রমুখ। কিন্তু ইমাম তিরমিযী এটিকে সহীহ আখ্যা দিলেও অন্যান্য অধিকাংশ মুহাদ্দিসের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে এটি সহীহ বা হাসান হতে পারছে না। কারণ :

ক. এর একাধিক সূত্র আছে। কিন্তু আব্দুর রহমান ইবনে আবুয যিনাদের সূত্রেই কেবল রফয়ে ইয়াদায়নের উল্লেখ এসেছে। এমনকি আব্দুর রহমানের উস্তাদ মূসা ইবনে উকবা থেকে ইবনে জুরাইজ, ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ও আসিম ইবনে আব্দুল আযীয আশযাঈ তিনজনই হাদীসট্ িবর্ণনা করেছেন। তাদের বর্ণনায় দুআ ও যিকির-আযকারের উল্লেখ এসেছে। রফয়ে ইয়াদায়নের উল্লেখ আসে নি।

খ. মূসা ইবন উকবার সঙ্গী আব্দুল আযীয মাজেশূন একই উস্তাদ আব্দুল্লাহ ইবনুল ফাযল থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণনায়ও রফয়ে ইয়াদায়েনের উল্লেখ নেই।

গ. আব্দুল্লাহ ইবনুল ফাযলের সঙ্গী ইয়াকুব আল মাজেশূন থেকে তার ছেলে ইউসুফ (এ বর্ণনাটি মুসলিম শরীফে এসেছে) ও ভাতিজা আব্দুল আযীয একই উস্তাদ আল আরাজ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণনায়ও রফয়ে ইয়াদায়নের উল্লেখ আসে নি। শুধু দুআ ও যিকির-আযকার প্রসঙ্গ উদ্ধৃত হয়েছে। সারকথা, হাদীসটি বহুসূত্রে বর্ণিত হলেও এতে রফয়ে ইয়াদায়নের কথা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে আব্দুর রহমান নিঃসঙ্গ।

ঘ. এই আব্দুর রহমান ইবনে আবুয যিনাদকে অধিকাংশ মুহাদ্দিস যঈফ বলেছেন। আলী ইবনুল মাদীনী বলেছেন,كان عند أصحابنا ضعيفا তিনি আমাদের উস্তাদগণের দৃষ্টিতে যঈফ ছিলেন। ইমাম আহমদ বলেছেন, ضعيف الحديثতিনি হাদীস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনে মাঈন, আবু হাতেম ও নাসাঈ বলেছেন, لا يحتج بحديثه তার হাদীস প্রমাণস্বরূপ পেশ করা যায় না। এ ছাড়াও আমর ইবনে আলী আল ফাল্লাস, যাকারিয়া আস সাজী, ইবনে আদী, জাওযাকানী, ইবনে হিব্বান ও ইবনুল জাওযী তার দুর্বলতার ব্যাপারে স্ব স্ব মত প্রকাশ করেছেন। যাহাবী রহ. অবশ্য তাকে মধ্যম স্তরের হাসানুল হাদীস আখ্যা দিয়েছেন। আর সেটিকেই গ্রহণ করে নিয়েছেন আলবানী সাহেব। তবে তিনি একথাও বলেছেন, فان عبد الرحمن مختلف فيه والمتقرر أنه حسن الحديث إذا لم يخالف কেননা আব্দুর রহমানের ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে। সিদ্ধান্তের কথা হলো, তিনি হাসানুল হাদীস (যার হাদীস হাসান মানের হয়), যদি না কারো বিরোধী বর্ণনা পেশ করেন। (সহীহা, নং ২৯২৪)

দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মতে আব্দুর রহমান দুর্বল হওয়ার কারণে এ হাদীসটি যঈফ। আবার অন্যদের বর্ণনা থেকে তার বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণেও এটি যঈফ। আলবানী সাহেবের উপরোক্ত বক্তব্যের আলোকেও এটি যঈফ। যদিও তিনি এ বক্তব্যের বাইরে গিয়ে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

উল্লেখ্য যে, ইমাম আহমদ রহ. স্পষ্টভাবে আব্দুর রহমানকে দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন। সুতরাং খাল্লালের ইলাল গ্রন্থে আহমদ কর্তৃক এ হাদীসকে সহীহ আখ্যা দেওয়া সম্পর্কে যে বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে তা মূলত দুআ ও যিকির-আযকার সম্বলিত হাদীসটি সম্পর্কে হবে। হাত উত্তোলন করা সম্বলিত হাদীসটি সম্পর্কে নয়। হযরত কাশ্মিরী রহ.ও এমত গ্রহণ করেছেন। (দ্র. নায়লুল ফারকাদাইন, পৃ. ৬০)

এবার লক্ষ করুন, রফয়ে ইয়াদাইনের মত অবলম্বনকারী উছমান দারিমী কিভাবে এই দুর্বল বর্ণনাটি দ্বারা নাহশালী কর্তৃক বর্ণিত ( যে নাহশালী অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট বিশ্বস্তও বটে) হযরত আলী রা.এর আমল সংক্রান্ত হাদীসটি (যা হানাফীদের দলিল)কে খ-ন করার চেষ্টা করেছেন। আর আমাদের লা-মাযহাবী বন্ধুরা অন্ধ অনুসরণ করে সেটাকেই এখনো উদ্ধৃত করে বেড়াচ্ছেন। এটা বড়ই লজ্জাজনক।

এ হলো চার খলীফা থেকে বর্ণিত হাদীসের অবস্থা। সুতরাং গালিব সাহেবসহ লা-মাযহাবী বন্ধুরা মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য ঢালাওভাবে এগুলোকে সহীহ বললেও প্রকৃত অবস্থা তাই, যা উপরে তুলে ধরা হলো।

সবশেষে মুযাফফর বিন মুহসিন শাহ ওয়ালীউল্লাহ রহ.এর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি রফয়ে ইয়াদাইনের আমলকারী সম্পর্কে বলেছেন, সে আমার নিকট অধিক প্রিয়। কেননা এ হাদীসের সংখ্যাও বেশি আবার তুলনামূলক মজবুতও বেশি।

কিন্তু লেখক এখানে ধোঁকা দিয়েছেন। শাহ সাহেবের পুরো বক্তব্য উদ্ধৃত করেন নি। শাহ সাহেব বলেছেন,

وهو من الهيئات التي فعلها النبي صلى الله عليه وسلم مرة وتركها أخرى والكل سنة وأخذ بكل جماعة من الصحابة والتابعين ومن بعدهم وهذا أحد المواضع التي اختلف فيها الفريقان أهل المدينة وأهل الكوفة ولكل واحد أصل أصيل والحق عندي في ذلك أن الكل سنة ونظيره الوتر بركعة واحدة أوبثلاث. والذي يرفع أحب إلي ممن لا يرفع فإن أحاديث الرفع أكثر وأثبت غير أنه لا ينبغي لإنسان في مثل هذه الصور أن يثير على نفسه فتنة عوام بلده.

অর্থাৎ রফয়ে ইয়াদাইনের আমল নবী সা. কখনো করেছেন, কখনো ছেড়ে দিয়েছেন। উভয় আমলই সুন্নত। সাহাবা তাবিঈন ও পরবর্তীগণের এক এক জামাত একেকটিকে গ্রহণ করেছেন। এটা সেইসব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যেসব বিষয়ে মদীনাবাসী ও কূফাবাসীর মধ্যে দ্বিমত রয়েছে, এবং প্রত্যেকের মতের পক্ষে মজবুত ভিত্তি রয়েছে। আমার দৃষ্টিতে এক্ষেত্রে সত্য হলো উভয় আমলই সঠিক। এর নজির হলো, এক রাকাত বা তিন রাকাত বেতের। তবে যে ব্যক্তি রফয়ে ইয়াদাইন করে সে আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। কেননা এ ব্যাপারে হাদীসও বেশি। সেগুলো মজবুতও অধিক। তবে এ ধরনের ক্ষেত্রে কারো জন্য উচিত হবে না, নিজের বিরুদ্ধে তার শহর বা দেশের জনগণের মধ্যে ফেতনা উসকে দেওয়া। (দ্র. ২/১৬)

মুযাফফর বিন মুহসিনগণ কি শাহ সাহেবের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত হবেন? হলে এত ফেতনা ছড়াচ্ছেন কেন? শাহ সাহেবের মতো উভয় আমলকে সুন্নত বলারও কি সৎসাহস হবে তার?