দলিলসহ নামাজের মাসায়েল : (পর্ব ৪৯)সাহাবীগণের আমল | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

সাহাবীগণের আমল

১. আলকামা ও আসওয়াদ বলেছেন,

كان ابن مسعود رض جالسا وعنده حذيفة وأبو موسى الاشعري رض فسالهما سعيد بن العاص عن التكبير في الصلاة يوم الفطر والاضحى ، فجعل هذا يقول : سل هذا ، وهذا يقول : سل هذا فقال له حذيفة :سل هذا - لعبد الله بن مسعود - فساله ، فقال ابن مسعود : يكبر اربعا ، ثم يقرا ، ثم يكبر ، فيركع ، ثم يقوم في الثانية فيقرا ثم يكبر اربعا ، بعد القراءة. أخرجه عبد الرزاق عن معمر عن أبي إسحاق عنهما. ٣/٢٩٣-٢٩٤ وإسناده صحيح. وهذا وان كان موقوفا لكنه في حكم المرفوع لان مثل هذا لا يكون من جهة الرأي والقياس وقد وافق ابن مسعود جماعة من الصحابة.

অর্থ: ইবনে মাসউদ রা. বসা ছিলেন। তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলেন হুযায়ফা রা. ও আবূ মূসা আশআরী রা.। তাঁদের দুজনকে সাঈদ ইবনুল আস রা. ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযে তাকবীর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। ইনি বলতে লাগলেন, ওনাকে জিজ্ঞেস করুন। আর উনি বললেন, এনাকে জিজ্ঞেস করুন। অবশেষে হুযায়ফা রা. তাঁকে বললেন, তাঁকে জিজ্ঞেস করুন। এই বলে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কে দেখিয়ে দিলেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। ইবনে মাসউদ রা. তখন বললেন, চার তাকবীর দেবে। অতঃপর কেরাত পড়বে। আবার তাকবীর বলে রুকু করবে, এরপর দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবে ও কেরাত পড়বে। কেরাতের পরে চার তাকবীর দেবে।

মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, ৩খ. ২৯৩-৯৪পৃ.। এর সনদ সহীহ।

এটি সাহাবীর বক্তব্য হলেও মূলত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই বক্তব্য। কারণ কিয়াস ও যুক্তি দ্বারা এমনটা বলা অসম্ভব।

তাছাড়া এক্ষেত্রে হযরত ইবনে মাসউদ রা. একা নন। অনেক সাহাবী তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন।

২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন,

التكبير في العيدين اربعا كالصلاة على الميت. رواه الطبراني في الكبير وقال الهيثمي: رجاله ثقات.

অর্থ: জানাযার নামাযের মতো দুই ঈদে (প্রতি রাকাতে) চার তাকবীর হবে। তাবারানী র. এটি উদ্ধৃত করেছেন। (হা. ৯৫২২) হায়ছামী র. বলেছেন, এর বর্ণনাকারীগন সকলে বিশ্বস্ত। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ২/৩৬৮)

৩. মাসরূক বলেন,

كان عبد الله يعلمنا التكبير في العيدين تسع تكبيرات خمس في الاولى واربع في الآخرة ويوالى بين القراءتين . أخرجه ابن أبي شيبة – وإسناده حسن.

অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে দুই ঈদের তাকবীর শেখাতেন, মোট নয় তাকবীর। প্রথম রাকাতে পাঁচ ও দ্বিতীয় রাকাতে চার। উভয় রাকাতের কেরাত একাধারে পড়বে। ইবনে আবী শায়বা এটি উদ্ধৃত করেছেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৪৬)। এটির সনদ হাসান।

৪. কুরদুস ইবনে আব্বাস বলেন, (টীকা-১)

لما كان ليلة العيد أرسل الوليد بن عقبة إلى ابن مسعود وأبي مسعود وحذيفة والأشعري فقال لهم إن العيد غدا فكيف التكبير فقال عبد الله يقوم فيكبر أربع تكبيرات ويقرأ بفاتحة الكتاب وسورة من المفصل ليس من طوالها ولا من قصارها ثم يركع ثم يقوم فيقرأ فإذا فرغ من القراءة كبر أربع تكبيرات ثم يركع بالرابعة. أخرجه ابن أبي شيبة عن هشيم عن أشعث عن كردوس عنه (٥٧٥٤)

وأخرجه بنحوه الإمام محمد في كتاب الآثار صـ ٢٠٥ وفي الحجة على أهل المدينة صـ ٨٥ من طريق أبي حنيفة عن حماد عن إبراهيم عن عبد الله بن مسعود

ورواه الطبراني في الكبير من طريق ابن أبي زائدة (يحيى بن زكريا بن أبي زائدة) عن أشعث عن كردوس (৯৫১৪) ، وفيه : فقال : يقوم فيكبر أربعا ثم يقرأ بفاتحة الكتاب وسورة من المفصل ثم يكبر ويركع فتلك خمس ثم يقوم فيقرأ بفاتحة الكتاب وسورة من المفصل ثم يكبر أربعا يركع في آخرهن فتلك تسع في العيدين فما أنكره واحد منهم. قال الهيثمي: رجاله ثقات،

ورواه الطحاوي في شرح معاني الآثار من طريق أبي بكر ثنا أبو داود قال ثنا هشام بن أبي عبد الله عن حماد عن إبراهيم عن علقمة بن قيس قال خرج الوليد بن عقبة بن أبي معيط على ابن مسعود وحذيفة والاشعري رضي الله عنهم فقال ان العيد غدا فكيف التكبير فقال ابن مسعود رضي الله عنه فذكر نحو ذلك وزاد فقال الاشعري وحذيفة رضي الله عنهما صدق أبو عبد الرحمن. ذكره ابن كثير بإسناد الطحاوي (تحت قوله: ان الله وملائكته يصلون على النبي) وقال: إسناد صحيح.

অর্থ: ওয়ালীদ ইবনে উকবা ঈদের রাতে ইবনে মাসউদ রা., আবূ মাসউদ রা., হুযায়ফা রা. ও আবূ মূসা আশআরী রা. এর কাছে লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আগামী কাল তো ঈদ, তাকবীর কিভাবে দিতে হবে? হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন, নামাযে দাঁড়িয়ে চার তাকবীর দেবে, পরে সূরা ফাতিহা এবং মুফাসসাল থেকে এমন একটি সূরা পড়বে যা বড়ও নয়, ছোটও নয়। এরপর রুকু করবে। পরে (রাকাত শেষ করে) পুনরায় দাঁড়াবে। এবং কেরাত পাঠ করবে। কেরাত পাঠ শেষ হলে চারটি তাকবীর দেবে এবং চতুর্থ তাকবীর বলে রুকুতে যাবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৫৪; ইমাম মুহাম্মদ র. এর কিতাবুল আসার, পৃ,২০৫; কিতাবুল হুজ্জাহ , পৃ ৮৫; তাবারানী, আলমুজামুল কাবীর, (দ্র, মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ২/৩৬৭) হায়ছামী বলেছেন, এর বর্ণনাকারীগন বিশ্বস্ত; তাহাবী শরীফ ১খ, ৩১৯পৃ,। তাহাবীর সনদে ইবনে কাছীর র. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে। ইবনে কাছীর বলেছেন, সনদটি সহীহ। (৩খ, ৫৬৪পৃ)

হযরত ইবনে মাসউদ রা. যেমন ফতোয়া দিতেন, নিজেও ঠিক সেভাবে আমল করতেন। নিম্নের হাদীসটি তার প্রমাণ।

৫. আলকামা র. ও আসওয়াদ র. বলেন,

ان ابن مسعود كان يكبر في العيدين تسعا تسعا اربعا قبل القراءة ثم كبر فركع وفي الثانية يقرا فإذا فرغ كبر اربعا ثم ركع . أخرجه عبد الرزاق ٣/٢٩٣ (٥٦٨٦) عن الثوري عن أبي إسحاق عنهما وابن أبي شيبة نحوه عن الشعبي (٥٧٤٧) والإمام محمد في الحجة صـ ٨٥

ورواه الطبراني في الكبير (৯৫১৮) من طريق زهير عن أبي إسحاق عن الأسود وعلقمة ومسروق عن عبد الله أنه كان يكبر بتسع في الأضحى والفطر يقوم فيكبر أربعا ثم يقرأ ثم يكبر واحدة فيركع بها ثم يقوم فيقرأ ويكبر أربعا يركع بواحدة

ورواه أيضا من طريق معاوية بن عمرو ثنا زائدة عن عبد الملك بن عمير عن كردوس قال : كان عبد الله بن مسعود يكبر في الأضحى والفطر تسعا تسعا يبدأ فيكبر أربعا ثم يقرأ ثم يكبر واحدة فيركع بها ثم يقوم في الركعة الآخرة فيبدأ فيقرأ ثم يكبر أربعا يركع بإحداهن (৯৫১৩)

অর্থ: ইবনে মাসউদ রা. দুই ঈদে নয়টি করে তাকবীর দিতেন। প্রথম রাকাতে কেরাতের পূর্বে চার তাকবীর বলতেন। অতঃপর তাকবীর বলে রুকুতে যেতেন। দ্বিতীয় রাকাতে আগে কেরাত পড়তেন। কেরাত শেষ হলে চার তাকবীর বলে রুকু করতেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং ৫৬৮৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৪৭; কিতাবুল হুজ্জাহ, ৮৫পৃ.; তাবারানী কাবীর, হাদীস নং ৯৫১৮।

এ বর্ণনায় আছে, দ্বিতীয় রাকাতে চতুর্থ তাকবীর দিয়ে রুকু করতেন।

৬. কাতাদা বলেন,

عن جابر بن عبد الله وسعيد ابن المسيّب قالا تسع تكبيرات ويوالي بين القراءتين أخرجه ابن أبي شيبة (٥٧٥٦)

অর্থ: জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. ও সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব দুজনই বলেছেন, তাকবীর হবে মোট নয়টি আর উভয় রাকাতের কেরাত হবে লাগাতার। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৫৬।

৭. আব্দর রাযযাক র. বলেছেন,

أخبرنا إسماعيل بن أبي الوليد قال حدثنا خالد الحذاء عن عبد الله بن الحارث قال شهدت ابن عباس كبر في صلاة العيد بالبصرة تسع تكبيرات والى بين القراءتين قال وشهدت المغيرة بن شعبة فعل ذلك أيضا فسالت خالدا كيف فعل ابن عباس ففسر لنا كما صنع ابن مسعود في حديث معمر والثوري عن أبي إسحاق سواء. أخرجه عبد الرزاق ( ٥٦٨٩) وأخرج نحوه ابن أبي شيبة عن هشيم عن خالد به (٥٧٥٧)

অর্থ: ইসমাঈল ইবনে আবিল ওয়ালিদ র. খালেদ আল হায্যা র. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল হারেছ র. থেকে, তিনি বলেছেন, ইবনে আব্বাস রা. বসরায় ঈদের নামাযে নয়টি তাকবীর দিয়েছিলেন এবং উভয় রাকাতের কেরাত লাগাতার পড়েছিলেন। ঐ নামাযে আমি তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম। মুগীরা ইবনে শো’বা রা.ও অনুরূপ করেছিলেন। সে নামাযেও আমি উপস্থিত ছিলাম। ইসমাঈল বলেন, আমি খালেদকে জিজ্ঞেস করলাম, ইবনে আব্বাস রা. কিরূপ করেছিলেন? তখন তিনি আমাদের সামনে ব্যাখ্যা করলেন। মা’মার ও ছাওরী কর্তৃক আবূ ইসহাকের সূত্রে বর্ণিত হাদীসে ইবনে মাসউদ রা. এর নামাযের যে বিবরণ এসেছে, ইবনে আব্বাস রা. এর নামাযও ছিল ঠিক তদ্রুপ। মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং ৫৬৮৯; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৫৭। সনদ সহীহ।

৮. মুহাম্মদ ইবনে সীরীন হযরত আনাস রা. সম্পর্কে বলেছেন,

انه كان يكبر في العيد تسعا فذكر مثل حديث عبد الله . أخرجه ابن أبي شيبة (٥٧٦٠)عن يحيى بن سعيد عن أشعث عنه. وإسناده صحيح.

অর্থ: তিনি ঈদের নামাযে নয়টি তাকবীর বলতেন। এরপর ইবনে সীরীন র. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এর নামাযের মতো করে এর বিবরণ দিলেন। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৬০। এই হাদীসের সনদ সহীহ।

৯. আব্দুর রাযযাক রহ. ইবনে জুরায়জ থেকে বর্ণনা করেছেন:

ان يوسف بن ماهك أخبرني ان ابن الزبير كان لا يكبر إلا اربعا في كل ركعة سواء ، يكبرهن في كل ركعتين ، سمعنا ذلك منه. المصنف ٣/٢٩١ (٥٦٧٦)

অর্থ: ইউসুফ ইবনে মাহাক র. আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. প্রত্যেক রাকাতে চার তাকবীরই বলতেন, এর বেশী বলতেন না। এভাবে উভয় রাকাতেই তিনি তাকবীর বলতেন। আমরা তার কাছ থেকেই এটা শুনেছি। মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং ৫৬৭৬। এই হাদীসের সনদ সহীহ।

মোট ছয়জন সাহাবীর হাদীস সহীহ সনদে আমরা উল্লেখ করলাম। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা., আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের রা., আনাস রা., জাবের রা. ও মুগীরা ইবনে শো’বা রা.। আর তিনজন সাহাবী অর্থাৎ আবূ মাসউদ রা. আবূ মূসা আশআরী রা. ও হুযায়ফা রা. ইবনে মাসউদ রা. এর মতকে সমর্থন করেছেন। সুতরাং বলা চলে, নয় জন সাহাবী থেকে সহীহ সনদে ছয় তাকবীরের কথা বর্ণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, যেখানে নয় তাকবীর বলার কথা উল্লেখ আছে, সেখানে প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমা ও রুকুর তাকবীরসহ পাঁচ তাকবীর গণ্য করা হয়েছে। আর যে হাদীসে চার বলা হয়েছে সেখানে প্রথম রাকাতে শুরুর তাকবীর ও ২য় রাকাতে রাকাত রুকুর তাকবীরসহ চার ধরা হয়েছে।

ইবরাহীম নাখায়ী বলেছেন যে,

انكم معاشر اصحاب رسول الله صلى الله عليه و سلم متى تختلفون على الناس يختلفون من بعدكم ومتى تجتمعون على أمر يجتمع الناس عليه فانظروا أمرا تجتمعون عليه فكانما أيقظهم فقالوا نعم ما رأيت يا أمير المؤمنين فأشر علينا فقال عمر رضي الله عنه بل أشيروا انتم على فانما انا بشر مثلكم فتراجعوا الأمر بينهم فأجمعوا أمرهم على ان يجعلوا التكبير على الجنائز مثل التكبير في الأضحى والفطر اربع تكبيرات فأجمع أمرهم على ذلك . (الطحاوي - باب التكبير على الجنائز كم هو) صـ ١/٣١٩

অর্থাৎ আপনারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী। আপনাদের দ্বিমত পরবর্তীদের উপর প্রভাব ফেলবে। আর আপনাদের ঐকমত্যের ফলে অন্যরাও একমত থাকবে। সুতরাং ভেবে চিন্তে আপনারা একটি বিষয়ে একমত হোন। এ কথায় তিনি যেন তাঁদের জাগিয়ে তুললেন। তারা বললেন, হাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন, হে আমীরুল মুমিনীন। তবে এ বিষয়ে আপনি আপনার মতামত বলুন। তিনি বললেন, আপনারাই বরং আমাকে পরামর্শ দিন। কারণ, আমি তো আপনাদের মতোই একজন মানুষ। পরে তাঁরা মত বিনিময় করে এ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছলেন যে, যেভাবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় চার তাকবীর হয়ে থাকে, তেমনি জানাযার নামাযেও চার তাকবীর হবে। (তাহাবী শরীফ, ১খ, ৩১৯পৃ)

এ বর্ণনা থেকে বোঝা গেল, ঈদের নামাযে চার তাকবীর হওয়ার বিষয়টি ছিল সর্বজন স্বীকৃত।

তাবেয়ীগণের আমল:

১. সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব যিনি মদীনা শরীফে শীর্ষস্থানীয় তাবেয়ী ছিলেন, তার ফতোয়া ৮নং দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২. মাসরূক এর ফতোয়া :

عن الشعبي قال أرسل زياد إلى مسروق انا تشغلنا أشغال فكيف التكبير في العيدين قال تسع تكبيرات قال خمسا في الاولى واربعا في الآخرة ويوالي بين القراءتين . أخرجه ابن أبي شيبة عن هشيم عن خالد عنه وهذا إسناد صحيح (٥٧٥٨) وأخرجه عبد الرزاق نحوه عن معمر عن قتادة (٥٦٨٨) وهذا إسناد حسن.

অর্থ : শা’বী র. বলেন, যিয়াদ লোক পাঠিয়ে মাসরূক র. এর নিকট জানতে চাইল। আমরা তো খুব কর্মব্যস্ত। ঈদের তাকবীর কিভাবে দিতে হবে? তিনি বললেন, নয়টি তাকবীর বলতে হবে। ৫টি প্রথম রাকাতে , চারটি ২য় রাকাতে। আর কেরাত পড়বে উভয় রাকাতে একটানা। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৫৮; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং ৫৬৮৮। সনদ সহীহ।

৩. আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ ও মাসরূক এর আমল:

عن إبراهيم عن الأسود ومسروق انهما كانا يكبران في العيد تسع تكبيرات . أخرجه ابن أبي شيبة (٥٧٥٩) عن غندر وابن مهدي عن شعبة عن منصور عنه

অর্থ: ইবরাহীম নাখায়ী র. থেকে বর্ণিত, তিনি আসওয়াদ র. ও মাসরূক র. সম্পর্কে বলেছেন, তারা দুজনই ঈদের নামাযে মোট নয় তাকবীর বলতেন। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৫৯। এর সনদ সহীহ।

৪. মুহাম্মদ ইবনে সীরীন ও হাসান বসরীর আমল:

عن هشام عن الحسن ومحمد انهما كانا يكبران تسع تكبيرات. أخرجه ابن أبي شيبة (٥٧٦٥) عن إسحاق الأزرق عنه.

অর্থ: হিশাম র. বলেন, হাসান বসরী র. ও মুহাম্মদ ইবনে সীরীন র. নয় তাকবীর বলতেন। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৬৫। সনদ সহীহ।

৫. শা’বী ও মুসায়্যাব ইবনে রাফে’র ফতোয়া:

عن الشعبي والمسيب قالا الصلاة يوم العيدين تسع تكبيرات خمس في الاولى واربع في الآخرة ليس بين القراءتين تكبيرة . أخرجه ابن أبي شيبة (٥٧٧٤) عن إسحاق بن منصور عن أبي كدينة عن الشيباني عنهما.

অর্থ: শা’বী ও মুসায়্যাব র. বলেন, উভয় ঈদের নামাযে তাকবীর হবে নয়টি। প্রথম রাকাতে ৫টি ও ২য় রাকাতে চারটি। উভয় রাকাতের মাঝে (অতিরিক্ত) তাকবীর হবে না। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৭৪।

৬. আবূ কিলাবার ফতোয়া:

أخرجه ابن أبي شيبة قال: حدثنا الثقفي عن خالد عن أبي قلابة قال التكبير في العيدين تسع تسع. (٥٧٦٢)

অর্থ: আবূ কিলাবা র. বলেন, দুই ঈদে তাকবীর হবে নয়টি করে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৬২। সনদ সহীহ।

৭. ইমাম বাকেরের ফতোয়া:

عن أبي جعفر انه كان يفتي بقول عبد الله في التكبير في العيدين. أخرجه ابن أبي شيبة عن شريك عن جابر عنه.(٥٧٦٣)

অর্থ: জাফর সাদেক র.এর আব্বা (ইমাম বাকের র.) উভয় ঈদের তাকবীর সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর মত অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৬৩। সনদ দুর্বল।

৮. হযরত ইবনে মাসউদ রা. এর শাগরেদগণের আমল:

عن إبراهيم ان اصحاب عبد الله كانوا يكبرون في العيد تسع تكبيرات . أخرجه ابن أبي شيبة عن إسحاق الأزرق عن الأعمش عنه. (٥٧٦١) وإسناده صحيح.

অর্থ: ইবরাহীম নাখায়ী বলেন, ইবনে মাসউদ রা. এর শাগরেদগণ দুই ঈদে নয়টি তাকবীর বলতেন। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৬১। এর সনদ সহীহ।