দলিলসহ নামাজের মাসায়েল (পর্ব ৭৫) বিতর সালাত: পরিশিষ্ট (পঞ্চম-অংশ) | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

বিতর সালাত: পরিশিষ্ট (পঞ্চম-অংশ)

(ক) আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. এক রাকাত বিতর পড়তেন। তাই যদি হয়, তাহলে গ্রন্থকার কিতাবদুটি দেখার পরও কেন ‘তিন রাকাত বিতর এর দলিল হিসেবে’ এর বরাত উল্লেখ করলেন? আবার বর্ণনার শব্দও উল্লেখ করেননি?!

কেননা কিতাবদুটিতে বর্ণনাটির শব্দ যথাক্রমে:

এক. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর এক রাকাতে বিতর পড়তেন। আর দুই রাকাত ও এক রাকাতের মাঝে কথা বলতেন। আরবী শব্দ: (كان يوتر بركعة وكان يتكلم بين الركعتين والركعة)(সিলসিলা হা.২৯৬২)

দুই. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর দুই রাকাত নামায পড়লেন, অতঃপর সালাম ফিরালেন। তারপর বললেন, অমুকের বাবাকে নিয়ে আস। অতঃপর দাড়ালেন এবং এক রাকাতে বিতর পড়লেন। আরবী শব্দটি: (أن ابن عمر صلى ركعتين ثم سلم، ثم قال: ادخلوا إلى بأبى فلانة، ثم قام فأوتر بركعة) (ইরওয়াউল গালীল ২/১৪৮) আলবানী সাহেব বলেন, এটি ‘আবু দাউদ’ তার ‘সুনানে’ এ শব্দে বর্ণনা করেছেন: (مثنى مثنى، والوتر ركعة من آخر الليل) অর্থাৎ ‘রাতের নামায দুই দুই রাকাত, আর বিতর হল শেষ রাতের এক রাকাত’।

(খ) যদি গ্রন্থকার উপরোক্তকিতাব দুটির বরাত থেকে তিন রাকাত বিতর পড়ার কথা বুঝে থাকেন এভাবে যে,(أوتر بركعة) অর্থ হল: ‘পূর্বের (দুই) রাকাতের সাথে এক রাকাত মিলিয়ে (তিন রাকাত) বিতর পড়েছেন’, তাহলে সবকিছু সহজ হয়ে যায়। অর্থাৎ যত বর্ণনায় (أوتر بركعة/يوتر بركعة) ‘ এক রাকাতে বিতর পড়া’ শব্দে নবীজীর বিতরের কথা এসেছে, সবগুলোতেই উদ্দেশ্য পূর্বের দুই রাকাতের সাথে মিলিয়ে তিন রাকাত বিতর পড়েছেন। এক রাকাত বিতর পড়ার হাদীসকে আমরা যেভাবে বুঝেছি, হযরত ইবনে উমরের বর্ণনাটিকে গ্রন্থকার ঠিক সেভাবেই ব্যাখ্যা করলেন। তাই এ ধরণের হাদীস দ্বারা এক রাকাত বিতর প্রমাণ করার আর কোন সুযোগ গ্রন্থকারের বাকী থাকছে না। এখানে গ্রন্থকারকে দুটির একটি পথ অবশ্যই ধরতে হবে। কেননা, দুটি বর্ণনাকেই আলবানী সাহেবও সহীহ বলেছেন এবং গ্রন্থকার এ মত গ্রহণপূর্বক তার বরাত দিয়েছেন।

৫. সবশেষে যদি বলি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. দুই সালামে তিন রাকাত বিতর পড়তেন, তবুও নবীজীর আমল কি ছিল এর দ্বারা তা বুঝা যায় না। কারণ তাঁর চেয়েও বড় ফকীহ ও রাসূলের নিকটতম সাহাবীরা এক সালামে তিন রাকাত বিতর পড়েছেন। তাই বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত হাসান বসরীকে যখন জিজ্ঞেস করা হল: (قيل للحسن: إن ابن عمر كان يُسلم في الركعتين من الوتر؟ فقال : كان عمرُ أفقه منه - كان ينهض في الثالثة بالتكبير):‘আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. (তিন রাকাত) বিত্রের দুই রাকাতে সালাম ফেরান? তিনি উত্তরে বললেন, উমর রা. তাঁর থেকে বেশী প্রজ্ঞাবান ছিলেন। তিনি (দ্বিতীয় রাকাতে স্বাভাবিক নিয়মে বৈঠক শেষে সালাম না ফিরিয়েই) তাকবীর বলে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন।

[বরাত সহ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে]

৬. শেষে গ্রন্থকার বলেন: “দেখুনঃ আলবানী, কিয়ামু রামাযান, পৃঃ২২”; কিন্তু কিয়ামু রামাযান কিতাবের এ পৃষ্ঠায় আলবানী সাহেব কোন হাদীস উল্লেখ না করে কেবল তিন রাকাত বিতরের দুটি তরীকা উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে একটি গ্রন্থকারের উল্লিখিত পন্থা। তিনি এ পদ্ধতির স্পষ্ট কোন দলিল উল্লেখ করেননি। বরং মাগরিবের নামাযের সাথে সাদৃশ্য করতে নিষেধাজ্ঞা মর্মে বর্ণিত হাদীস থেকে এটি তিনি ‘বের’ করেছেন। একেই বলে ‘ইজতিহাদ’। প্রশ্ন হয় আলবানী সাহেবের ইজতিহাদকে কি গ্রন্থকার হাদীসের মর্যাদা দিচ্ছেন? আলবানী সাহেবের ইজতিহাদ অনুসরণ করলে তাকলীদ হয় না, হয় ‘হাদীসের অনুসরণ’?

(দুই) আয়শার রা. এর বর্ণনা

গ্রন্থকার টীকার দ্বিতীয় অংশে ইবনে আবী শাইবার বরাতে একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন এভাবে: “... মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ হা/৬৮৭১, ৬৮৭৪ : ( عن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يوتر بركعة وكان يتكلم بين الركعتين والركعة.)”

পর্যালোচনা

এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়:

১. হাদীসটি হুবহু একই সনদে ইবনে আবী শাইবা সূত্রে বর্ণনা করেছেন, ইমাম ইবনে মাজাহ তার ‘সুনানে’ দুই স্থানে: (হা.১১৭৭ ও হা. ১৩৫৮)। তদ্রƒপ হাদীসটি একই সনদে ইবনে আবী যীব্ থেকে বর্ণিত হয়েছে: মুসনাদে আহমদ (হা.২৫১০৫) আবু দাউদ (হা.১৩৩০, ১৩৩১) সুনানে নাসায়ী (হা.১৬৪৯) সহীহ ইবনে হিব্বান (হা.২৪২২)। এবং যুহরী থেকে একই সনদে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে মুয়াত্তা মালেক (হা. ১২০) ও সহীহ মুসলিম গ্রন্থে (হা. ১৭৫২)। অর্থাৎ এ বর্ণনাটি হদীসের প্রসিদ্ধ ৭টি কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু কোথাও হাদীসটি এভাবে নেই। এমনকি ইমাম ইবনে মাজা তাঁর ‘সুনানে’ খোদ ইবনে আবী শাইবা থেকেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, সেখানে বর্ণনাটি এসেছে এভাবে: (يسلم في كل ثنتين ويوتر بواحدة) অর্থাৎ ‘নবীজী প্রতি দুই রাকাতে সালাম ফেরাতেন এবং এক রাকাতে বিতর পড়তেন’। আর শায়খ নাসীরুদ্দীন আলবানী সাহেব (রহ.) তার ‘সিলসিলাতুস সহীহায়’ ইবনে আবী শাইবার বর্ণনাটি উল্লেখ করে এর সমর্থনে এ শব্দে একটি বর্ণনাও দেখাতে পারেননি।

২. সুতরাং উল্লিখিত বর্ণনাটি শায্ ও দলবিচ্ছিন্ন। ফলে সনদ সহীহ হওয়া সত্ত্বেও এটি সহীহ নয়। কারণ এটি একই হাদীসের আরো আট-দশটি বর্ণনার বিরোধী।

৩. এটিকে সহীহ বলতে হলে এর ব্যাখ্যা করতে হবে এ হাদীসের অন্য সকল বর্ণনার আলোকে। আর তা হলে তিন রাকাত বিতরে দুই রাকাতে সালাম ফিরানোর বিষয়টি অন্তত এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় না।

৪. গ্রন্থকার নাসীরুদ্দীন আলবানী সাহেবের যে বরাত উল্লেখ করেছেন, সেখানে শায়খ আলবানী বর্ণনাটি উল্লেখ করে বলেন,

قلت : و هذا إسناد عزيز صحيح على شرط الشيخين، وأصله في " صحيح مسلم " (২/ ১৬৫) من طريق أخرى عن الزهري به أتم منه دون قوله : " و كان يتكلم .. " . و كذلك رواه ابن حبان ( ৪/৬৯/২৪২২) ، و غيره ، وهو مخرج في صلاة التراويح ( ص ১০৬ ). و روى ابن حبان ( ৪/৬৬ و ৬৭ و ৬৬৮ ) من طريق ابن أبي ذئب و غيره الطرف الأول منه . و الحديث شاهد قوي لما رواه نافع : ...

অর্থাৎ, “এ সনদ বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ, মূল বর্ণনাটি সহীহ মুসলিমে (২/১৬৫) অন্য সূত্রে যুহরী থেকে আরো বিস্তারিতভাবে এসেছে। তবে মুসলিমে ‘তিনি দুই ও এক রাকাতের মাঝে কথা বলতেন’ অংশটি নেই। তদ্রƒপ ইবনে হিব্বান প্রমুখ এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান ইবনে আবী-যীব সূত্রেও হাদীসটির কেবল প্রথম অংশটি (অর্থাৎ (كان يوتر بركعة) নবীজী এক রাকাতে বিতর পড়তেন) উদ্ধৃত করেছেন। ...”

অর্থাৎ মুসলিম ও ইবনে হিব্বানের কোন বর্ণনায়ই দ্বিতীয় অংশটি নেই। তবুও আলবানী সাহেব এ হাদীসের সনদকে সহীহ বলেছেন।

একই হাদীসে একদিকে ইবনে আবী শাইবায় এসেছে, ‘দুই রাকাত ও এক রাকাত (তিন রাকাত বিতরে) এর মাঝে কথা বলতেন’; আর মুসলিম, ইবনে হিব্বানসহ অন্যান্য কিতাবে এসেছে, ‘এক রাকাতে বিতর পড়তেন’। মুসলিমের যে বর্ণনার বরাত তিনি উল্লেখ করেছেন এর শব্দ হল: (إحدى عشرة ركعة يسلم بين كل ركعتين ويوتر بواحدة) ‘... প্রতি দুই রাকাতে সালাম ফিরাতেন, আর এক রাকাতে বিতর পড়তেন’ (মুসলিম হা.১৭৫২)। অর্থাৎ ইবনে আবী শাইবার বর্ণনা দ্বারা বুঝা যায় তিন রাকাত বিতর পড়তেন, আর মুসলিমসহ অন্যদের বর্ণনা দ্বারা স্পষ্টত বুঝা যায়, এক রাকাত বিতর পড়তেন। এক হাদীসের দুটি বর্ণনায় এমন পরস্পর বিপরীতমুখী বক্তব্য থাকার পরও দুটি একই সাথে সহীহ, নাকি দুটির একটি? বিষয়টি আলবানী সাহেব পরিস্কার করেননি।

৫. শায়খ আলবানী যদি দুটি দ্বারা একই অর্থ বুঝে থাকেন, অর্থাৎ উভয় বর্ণনায় ‘নবীজী তিন রাকাত বিতর পড়তেন’, তাহলে আমার কোন আপত্তি নেই। তখন যত বর্ণনায় ‘এক রাকাত’ বিতরের কথা এসেছে সবগুলি দ্বারাই তিন রাকাত বিতর পড়া প্রমাণ হয়ে যাবে । আলবানী সাহেব হয়ত তাই বুঝেছেন। কেননা তিনি এখানে এ বর্ণনাটিকে ইবনে উমরের আমলের সমর্থক ধরেছেন। ইবনে উমরের আমল দিয়েই তিনি তার ‘কিয়ামু রামাযান’ কিতাবে দুই সালামে তিন রাকাত বিতর প্রমাণ করেছেন। কিন্তু যদি তিনি একটি দিয়ে এক রাকাত বিতর, আর অপরটি দিয়ে তিন রাকাত বিতর প্রমাণ করতে চান তাহলে আপত্তি থাকবে একই হাদীসের বিপরীতমুখী দুটি বর্ণনা এক সাথে সহীহ হয় কি করে?

৬. আলবানী সাহেব বর্ণনাটির বরাতে মুসলিম, ইবনে হিব্বান ও অন্যান্য কিতাবের নাম উল্লেখ করেছেন। কিন্তু হুবহু ইবনে আবী শাইবার সনদে তার থেকেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ তার ‘সুনানে’ (হা.১১৭৭ ও হা. ১৩৫৮)। কিন্তু তিনি কুতুবে সিত্তার অংশ ইবনে মাজার বরাত উল্লেখ করেননি কেন? অথচ ইবনে মাজা এটি ইবনে আবী শাইবা থেকেই বর্ণনা করেছেন।

হাদীসটি একই সনদে ইবনে আবী শাইবায় এসেছে এক শব্দে, আর একে আলবানী সাহেব বলেছেন: এ সনদ বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। ঠিক এ সনদটিতেই ইবনে মাজায় বর্ণনাটি এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন শব্দে এভাবে:“ (يسلم في كل ثنتين ويوتر بواحدة) অর্থাৎ ‘নবীজী প্রতি দুই রাকাতে সালাম ফেরাতেন এবং এক রাকাতে বিতর পড়তেন”। যেহেতু সনদ হুবহু এক, তাই এখানেও আলবানী সাহেবকে বলতে হবে: এ সনদ বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।

৭. এখানে আলবানী সাহেবের তাহকীক মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ বা একেবারেই অসম্পূর্ণ। আর এ অপূর্ণাঙ্গ বা ত্রুটিপূর্ণ তাহকীকের তাকলীদ করেই গ্রন্থকার এমন বেড়াজালে আটকা পড়েছেন। কোন বর্ণনার কি অর্থে ধরবেন, তা ঠিক করতে পারছেন না।

৮. আবার গ্রন্থকার টীকায় ইবনে আবী শাইবার দ্বিতীয় যে নম্বরটি দিয়েছেন (হা.৬৮৭৪) সেখানেও ইবনে উমর (রা.) এর নিজস্ব আমলের বিবরণ এসেছে, (ثم قام فأوتر بركعة) ‘অতঃপর ইবনে উমর দাড়ালেন এবং এক রাকাতে বিতর পড়লেন’। এতে কি তিন রাকাত বিতরের কথা আছে না এক রাকাতের কথা? গ্রন্থকারের উদ্দেশ্যের সাথে এ বর্ণনা এবং পূর্বের বর্ণনাটির কি আদৌ কোন সামঞ্জস্য আছে? এটিকি দলিলের নামে ধোঁকা নয়?

গ্রন্থকার - ২৫

গ্রন্থকার বলেন: “উল্লেখ্য যে, তিন রাক‘আত বিতরের মাঝে সালাম দ্বারা পার্থক্য করা যাবে না মর্মে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তা যঈফ।” টীকা. ১২৯০. ইরওয়াউল গালীল হা/৪২১, ২/১৫০ পৃঃ; আহমদ হা/২৫২৬৪”

পর্যালোচনা

এক স্থানে সহীহ বলে নিজেই আবার হাদীসটিকে যঈফ বললেন!

বর্ণনাটিকে যঈফ প্রমাণ করার জন্য গ্রন্থকার আলবানী সাহেবের ‘ইরওয়াউল্গালীলে’র বরাত দিয়েছেন। আলবানী সাহেব তার ‘ইরওয়াউলগালীল’ গ্রন্থে বলেন: ইমাম আহমদ এটিকে যঈফ বলেছেন যা ‘আল-মুনতাকা’ ও ‘নাইলুল আওতার’ গ্রন্থে এসেছে। এটি মূলত সেই হাদীস যা দিয়ে গ্রন্থকার ‘এক সালামে ও একই বৈঠকে তিন রাকাত বিতর’ প্রমাণ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন এবং সহীহ সাব্যস্ত করে এসেছেন (পৃ.৩৩১)। আলবানী, শাওকানী, ইবনে তাইমিয়া আল-জাদ্দ ও ইমাম আহমদের মতে দুটি একই বর্ণনা। তাই তাদের মতে দুটোই যঈফ। গ্রন্থকার এ হাদীসকেই এক স্থানে সহীহ বলে এসে এখানে আবার যঈফ সাব্যস্ত করছেন! এ কেমন বৈপরিত্য।

কুনূত পড়ার পূর্বে তাকবীর বলা ও হাত উত্তোলন করে হাত বাঁধা

গ্রন্থকার - ২৬

গ্রন্থকার বলেন: “বিতর ছালাতে কিরাআত শেষ করে তাকবীর দিয়ে পুনরায় হাত বাঁধার যে নিয়ম সমাজে চালু আছে তা ভিত্তিহীন।” (পৃ.৩৩৪)

পর্যালোচনা

তাকবীর দিয়ে পুনরায় হাত বাঁধার এ নিয়ম ভিত্তিহীন নয়, বরং সুন্নাহ সম্মত। প্রকৃতপক্ষে গ্রন্থকারের কথাই বাতিল ও ভিত্তিহীন। বিষয়টি স্পষ্ট করতে আগে গ্রন্থকারের কুনূত পড়ার সহীহ নিয়ম কি ও এর দলিল কি তা পর্যালোচনা করে নেয়া দরকার।

গ্রন্থকার বলেন: “কুনূত পড়ার ছহীহ নিয়ম’: শিরোনামে লেখেন: “বিতরের কুনূত দুই নিয়মে পড়া যায়। শেষ রাক‘আত শেষ করে হাত বাঁধা অবস্থায় দু‘আয়ে কুনূত পড়া। অথবা ক্বিরাআত শেষে হাত তুলে দু‘আয়ে কুনূত পড়া।” (পৃ. ৩৩৬)

প্রথম নিয়মের দলিল

গ্রন্থকার উপরোক্তনিয়মে কুনূত পড়ার কোন দলিল উল্লেখ না করে প্রথম পদ্ধতি আলোচনার পর টীকায় কেবল একটি বরাত উল্লেখ করেছেন এভাবে: “আলবানী, ইরওয়াউল গালীল ২/৭১ পৃঃ, ২/১৮১ পৃঃ”। অর্থাৎ এ বরাতেই তার দলিল রয়েছে। বরাত অনুযায়ী তালাশ করে দেখা গেল সেখানে কুনূত পড়ার নিয়ম সম্পর্কে কোন হাদীসও নেই, কোন সাহাবী, তাবেয়ীর কোন বক্তব্য বা আমলের উল্লেখও নেই। এতে কেবল ইস্হাক ইবনে রাহুয়াহ’র (জন্ম-১৬১ মৃত্যু-২৩৮) আমলের উল্লেখ রয়েছে। শায়খ আলবানীর বক্তব্য:

قد ذكر المروزى فى " المسائل " (ص ২২২): " كان إسحاق يوترُ بنا... ويرفع يديه فى القنوت ويقنت قبل الركوع، ويضع يديه على ثدييه، أو تحت الثديين(

“মারওয়াযী উল্লেখ করেছেন: ইসহাক আমাদেরকে নিয়ে বিতর পড়তেন। ... আর তিনি কুনূতে হাত উঠাতেন, রুকুর পর কুনূত পড়তেন এবং বুকের উপর বা বুকের নিচ বরাবর হাত রাখতেন”।

অধিকন্তু গ্রন্থকার বলেছেন, সঠিক নিয়ম ‘হাত বাঁধা অবস্থায় কুনূত পড়া’। অর্থাৎ তার আপত্তি হাত বাঁধা অবস্থায় কুনূত পড়ার উপর নয়, বরং কুনূতের শুরুতে তাকবীর বলে হাত উঠানোর উপর। কিন্তু তার উল্লিখিত বরাতে আলবানী সাহেব ইসহাক ইবনে রাহুয়ার যে আমল উল্লেখ করেছেন, তাতে রয়েছে ‘তিনি কুনূতে দুই হাত উঠাতেন’। এতে হাত উত্তোলন করাটাই প্রমাণিত হয়ে যায়, যাকে তিনি বাতিল বলে এসেছেন।

২. ইস্হাক ইবনে রাহুয়ার কথাই যদি গ্রন্থকারের দলিল হয়, তাহলে দোয়ায়ে কুনূত শেষে চেহারা হাত দিয়ে মাসাহও করতে হবে। কেননা ইসহাক ইবনে রাহুয়াহ্ দুআয়ে কুনূত শেষে হাত দ্বারা চেহারা মাসাহ করতেন (ইরওয়াউলগালীল ২/১৮০)। কিন্তু গ্রন্থকার তার বইয়ের ৩৩৪-৩৩৫ পৃষ্ঠায় কুনূত পড়ার পর মুখে হাত মাসাহ করা থেকে নিষেধ করেছেন। অথচ এর বিপরীত কোন হাদীসও নেই। উপরন্তু এর পক্ষে যঈফ সনদে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৩. ইসহাক ইবনে রাহুয়ার আমল কুনূত পড়ার সময় হাত বেঁধে রাখা নয়। বরং দোয়ার মত হাত উঠিয়ে রাখা। বুঝা গেল এ বরাতে গ্রন্থকারের বক্তব্যের পক্ষে কোন দলিল নেই।

৪. দ্বিতীয় বরাতে (ইরওয়াউলগালীল ২/১৮১ পৃঃ) বাইহাকী ও আলবানীর দুজনের বক্তব্যেই এসেছে দোয়ার মত হাত তুলে রাখার কথা। অথচ গ্রন্থকার এ বরাতটি উল্লেখ করেছেন, তাকবীরের সময় হাত না উঠিয়ে হাত বেঁধে দোয়ায়ে কুনূত পড়ার দলিল হিসেবে। সুতরাং তার দাবির সাথে দলিলের কোন মিল নেই।

৫. আলবানী সাহেব বলেছেন, হযরত আনাস রা. সূত্রে বর্ণিত হাদীসে কুনূতে নাযেলায় (দোয়ার মত) হাত উঠানোর বিষয় প্রমাণিত। কুনূতে বিতর বিষয়ে নয়।

৬. বাইহাকী রহ. পূর্বসুরীদের থেকে কুনূতে নামাযের মত হাত উঠানোর কথা বললেও কারো বর্ণনা উল্লেখ করেননি।

৭. অতঃপর আলবানী সাহেব বলেন, (وثبت مثله عن عمر، وغيره فى قنوت الوتر) :“বিতরের কুনূত বিষয়েও অনুরূপ (দোয়ার মত করে) হাত তোলা উমর প্রমুখ থেকেও প্রমাণিত আছে।” কিন্তু আলবানী সাহেব আনাস রা. এর বর্ণনার বরাত উল্লেখ করলেও, উমরের বর্ণনাটি কোথায় রয়েছে এর কোন ইঙ্গিতও দেননি। তৎপ্রণীত ‘আসলু ছিফাতিস সালাত’ এ (পৃ.৩/৯৫৭-৯৫৯) খুলে দেখলাম সেখানে তিনি উমর রা. এর বর্ণনাটি এনেছেন, কিন্তু তা ফজরের নামাযের কুনূতে, অর্থাৎ কুনূতে নাযেলায়। সুতরাং বিতরের কুনূতে হাত উঠানোর বিষয়টি তিনি প্রমাণ করতে পারেননি।

দ্বিতীয় নিয়মেরও দলিল নেই

প্রথম নিয়মে তো দলিল উল্লেখ না করলেও অন্ততঃ একটি বরাত উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় নিয়ম উল্লেখ করার পর না তিনি কোন দলিল উল্লেখ করেছেন, আর না কোন বরাত উল্লেখ করেছেন। এমনকি এর কোন টীকাও দেননি।

তাকবীর দিয়ে হাত বাঁধার দলিল ও গ্রন্থকারের বক্তব্যের অসারতা

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বিতর নামাযের শেষ রাকাতে কুনূতের জন্য তাকবীর বলে হাত উঠাতেন। এ বিষয়ে ইবনে মাসউদ রা. থেকে বিশুদ্ধসূত্রে একাধিক বর্ণনা হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে এসেছে। (টীকা-১) ইমাম বুখারী একে সহীহ বলেছেন। [দেখুন: শরহু মুশকিলিল আসার ১১/৩৭৪, শায়খ শুআইব বলেন: এর সনদ হাসান। আলমু‘জামুল কাবীর, তাবারানী ৯/২৪৩ হা.৯১৯২, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৪/৫৩০ হা. ৭০২১, জুয্উ রাফইল ইয়াদাইন: ইমাম বুখারী পৃ.১৪৬ হা. ১৬৩]

অনুরূপ তাবেয়ী ইবরাহীম নাখাঈ থেকেও সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। (টীকা-২) [দেখুন: মুছান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৪/৫৩১ হা.৭০২৩, মুছান্নাফে আব্দুর রায্যাক হা.৫০০১, কিতাবুল আসার, মুহাম্মদ রহ. এর বর্ণনা পৃ.২০৭, আবু ইউসুফ রহ. এর বর্ণনা ৬৬, কিতাবুল হুজ্জা আলা-আহলিল মদীনা, পৃ.৫৬ শারহু মাআনিল আসার ১/৩৯১]

এ ছাড়া মারওয়াযী তাঁর ‘কিয়ামুল লায়ল’ গ্রন্থে [পৃ.২৯৪] হযরত উমর, আলী ও বারা ইবনে আযিব রা. থেকেও তাকবীরের কথা উল্লেখ করেছেন। (টীকা-৩)

হযরত সুফয়ান সাউরী রহ. তাঁর পূর্বসুরী তাবেঈ ও তাবে তাবেঈদের থেকেও কুনূতের শুরুতে তাকবীর বলে হাত উঠানোর কথা বর্ণনা করেছেন। [মুখাতাছারু কিয়ামিল লাইল, ২৯৪, ২৯৬] ইমাম আহমদ রহ. বলেন, রুকুর পূর্বে যদি কুনূত পড়া হয় তাহলে তাকবীর দিয়ে কুনূত শুরু করবে। [মুখাতাছারু কিয়ামিল লাইল, ইবনে নছর মারওয়াযী, ২৯৪]

গ্রন্থকার - ২৮

অতঃপর গ্রন্থকার ইবনে মাসউদ রা. এর হাদীসটি সম্পর্কে বন্তব্য করেছেন যে, “বর্ণনাটি ভিত্তিহীন। আলবানী (রহঃ) বলেন, لم أقف على سند عند الأثرم، لأنني لم أقف على كتابه ... وغالب الظن أنه لا يصح : আছরামের সনদ সম্পর্কে অবগত নই। এমনকি তার কিতাব সম্পর্কেও অবগত নই। ... আমার একান্ত ধারণা, এই বর্ণনা সঠিক নয়।” (অর্থাৎ ১. আসরাম বর্ণিত এ হাদীসের সনদ পাওয়া যায়নি কেননা কিতাবটিই তিনি পাননি ২. তিনি ধারণা করলেন এটি সহীহ নয়)

পর্যালোচনা

১.ভুল তরজমা

তিনি লেখেছেন: “এমনকি তার কিতাব সম্পর্কেও অবগত নই ” এটি আলবানী সাহেবের বক্তব্যের ভুল তরজমা। বিশুদ্ধ তরজমা হল: ‘কেননা আমি তার কিতাবের সন্ধান পাইনি’।

২. নিজের থেকে সনদবিহীন হাদীস উল্লেখ করে তাকে যঈফ সাব্যস্ত করা?

ক. নবীজীর নামায ও দলিলসহ নামাযের মাসায়েল বই দুটি গ্রন্থকারের সামনে রয়েছে। আর দুটি বইতেই হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) এর বর্ণনাটি উদ্ধৃত হয়েছে মুছান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ও শরহু মুশকিলিল আসার গ্রন্থদ্বয়ের বরাতে। এর সনদ সহীহ। কিন্তু আফসোসের কথা, গ্রন্থকার সহীহ সনদ বিশিষ্ট বর্ণনাটি না এনে আলবানী সাহেবের কিতাব থেকে আস্রামের বর্ণনা উল্লেখ করলেন: যে কিতাবটি পাওয়া যায় না। তারপর বর্ণনাটিকে সহীহ নয় বলে তার বক্তব্যকে প্রমাণ করে দিলেন!

খ. আলবানী সাহেবের ‘ইরওয়াউল গালিল’ কিতাবের যে পৃষ্ঠা থেকে (২/১৬৯) গ্রন্থকার এ তাহক্বীকটি পেশ করেছেন সেখানেই আলবানী সাহেব বলেছেন, এটি ইবনে আবী শাইবা, তাবারানী ও বাইহাকীর বর্ণনায়ও এসেছে। কিন্তু তিনি তাহক্বীক করতে যেয়ে উক্ত হাদীস গ্রন্থ সমূহ ও সেগুলির সনদের প্রতি কোন ইঙ্গিতও দেননি।

গ. গ্রন্থকার নিজেও পূর্বের টীকায় ইবনে আবী শাইবা (হা.৭০২১-৭০২৫) ও আব্দুর রাযযাকের (হা.৫০০১) বরাত উল্লেখ করেছেন। তার টীকায় হা. ৭০২১-৭০২৫ পর্যন্ত ইবনে মাসউদ রা., ইবরাহীম নাখায়ী, হাকাম, হাম্মাদ ও আবু ইসহাক থেকে মোট ছটি বর্ণনার বরাত দিয়েছেন। কিন্তু তাহক্বীকের সময় কেবল আসরামের বর্ণনা সম্পর্কিত আলবানীর বক্তব্য উল্লেখ করে ক্ষান্ত রইলেন। আর এ ছটি বর্ণনা সম্পর্কে কিছুই বললেন না। আবার তিনি ইবনে মাসউদ রা. এর বর্ণনা সম্পর্কে টীকায় দ্বিতীয় নাম্বারে আব্দুর রাযযাকের যে (হা.৫০০১) বরাত উল্লেখ করেছেন, তাতে বর্ণনা আছে ইবরাহীম নাখাঈ থেকে, ইবনে মাসউদ থেকে নয়।

ঘ. ইমাম বুখারী রহ. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর এ বর্ণনাটিকে সহীহ বলেছেন। তিনি জুয্উ রাফইল ইয়াদাইন গ্রন্থে (পৃ.১৪৬ হা. ১৬৩) এ বর্ণনাটি এবং অনুরূপ আরো কিছু বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন: (هذه الأحاديث كلها صحيحة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا يخالف بعضها بعضا، وليس فيها تضاد لأنها في مواطن مختلفة،) : ‘এ সব বর্ণনাগুলোই সহীহ ...’। ইমাম তাহাবী রহ. ও হাদীসটিকে সহীহ ধরে নিয়েই দলিল পেশ করেছেন তাঁর ‘শরহু মুশকিলুল আসার’ গ্রন্থে। শায়খ শ‘আইব আরনাউত বলেন: ‘হাদীসটি হাসান, কেবল হুদাইজ ইবনে মুআবিয়া ব্যতিত সকলেই বুখারী মুসলিমের বর্ণনাকারী ...’। [মুশকিলিল আসার ১১/৩৭৪] মুছান্নাফে ইবনে আবী শাইবার সনদটিও ছহীহ লিগাইরিহি বা হাসান। তাছাড়া ইবনে মাসউদ রা. এর শিষ্যদের কাছ থেকেই ইবরাহীম নাখাঈ ইলম শিখেছেন। তিনি এ তরীকাই তাদের থেকেই গ্রহণ করেছেন। সুতরাং এতে বর্ণনাটি আরো শক্তিশালি হয় বৈকি।

ঙ. আলবানী সাহেবও এ বর্ণনা বিষয়ে দুটি বড় ধরণের আপত্তিকর কাজ করেছেন। আর গ্রন্থকার এক্ষেত্রে তার অন্ধ তাকলীদ করেছেন।

(এক) তিনি আছরামের বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেন, এর সনদ তার জানা নেই। কিন্তুযে হাদীসের সনদ সম্পর্কে তিনি জানতে পারেননি, সে সম্পর্কে তার উচিত ছিল: মন্তব্য থেকে বিরত থাকা। অথবা মন্তব্য করলেও সম্ভাবনা ব্যক্ত করে বলা। কিন্তু তিনি বলে দিলেন: “আমার প্রবল ধারণা যে, এটি সহীহ নয়”! তিনি যখন বর্ণনাটি তিনটি কিতাবে একই সনদে পেয়েছেন তখনি তাঁর ধারণা জন্মেছে যে, হয়ত সেখানেও সেই একই সনদ হয়ে থাকবে। আর যে সনদ পাওয়া গেছে সেটি লাইছ ইবনে আবী সুলাইম এর কারণে ‘তার দৃষ্টিতে’ যঈফ, সুতরাং তিনি বলে দিলেন সবই যঈফ! কিন্তু তিনি কি করে ভাবলেন যে, আছরামের কিতাবেও এর একই সনদ হবে? অথচ তাঁর হাতের নাগালের কিতাব ‘শরহু মুশকিলিল আসারে’ই এ বর্ণনাটি উক্ত লাইছ ইবনে আবী সুলাইম ব্যতিত ভিন্ন সনদে এসেছে যে সম্পর্কে তার খবরই নেই! তাই এরও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে যে, আছরামের কিতাবে বর্ণনাটি তৃতীয় কোন সনদেও থাকতে পারে। বা অন্তত মুশকিলুল আসারে যে সহীহ সনদে এসেছে তাও হতে পারে। সুতরাং এমন চোখ বুঝে একটি সনদকে যঈফ বলে দেয়া যায় কি?

দুই) আলবানী সাহেব ইবনে আবী শাইবায় বর্ণিত হাদীসের বর্ণনাকারী ‘লাইছ ইবনে আবী সুলাইমকে’ যঈফ বলেই বর্ণনাটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু লাইছ এর কারণে হাদীসকে যঈফ বলে দেওয়া যায় না।

লাইছ সম্পর্কে হাদীসবিদগণর মতামত নিম্নরূপঃ

লাইছ ইবনে আবী সুলাইম রহ. এর বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। কারণ, ইমাম বুখারী সহীহ বুখারীর ‘তালীকাতে’ তাঁর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। ইমাম মুসলিম রহ. সহীহ মুসলিমের ভূমিকায় তাকে আতা ইবনুস সাইব এর মত দ্বিতীয় পর্যায়ের বর্ণনাকারী গণ্য করেছেন। এবং তাকে সত্যবাদিতা, দোষ মুক্ততা ও ইলমে হাদীসের সাথে ঘনিষ্টতার গুণে গুণান্বিত করেছেন। (টীকা-৪)

আবুদাউদ তিরমিযী নাসাঈ ইবনে মাজা চারটি কিতাবেই তাঁর হাদীস রয়েছে। তাঁর সম্পর্কে ইমাম বুখারী রহ. বলেন: (صدوق يهم) ‘বিস্বস্ত, কখনো ভুল করে থাকেন’। ইমাম ইবনে আদী রহ. তার বর্ণিত কিছু (মুনকার) আপত্তিকর বর্ণনা উল্লেখ করার পর বলেন: (لَهُ أَحَادِيْثُ صَالِحَةٌ غَيْرُ مَا ذَكَرتُ، وقد روى عنه شعبة والثوري وَغَيْرُهُمَا مِنَ الثِّقَاتِ، وَمَعَ الضَّعفِ الَّذِي فِيْهِ يُكْتَبُ حَدِيْثُه) : অর্থাৎ ‘এছাড়া তার কিছু ভাল হাদীসও রয়েছে। শোবা, ছাউরী প্রমুখ নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর মধ্যে যে দূর্বলতাটুকু রয়েছে তা সত্ত্বেও তার হাদীস লিপিবদ্ধ করা যায়’।

ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন: (وليث وإن كان ضعيف الحفظ فإنه يعتبر به ويستشهد فيعرف أن له من رواية عبد الرحمن بن الأسود عن أبيه أصلا، وقال أيضا: ... وتابع أبا إسحاق على روايته عن عبد الرحمن المذكور ليث بن أبي سليم وحديثه يستشهد به) : ‘অর্থাৎ ‘যদিও লাইছ দূর্বল স্মৃতি শক্তির অধিকারী তবুও অন্য বর্ণনা সহায়ক ও সমর্থক হিসেবে গ্রহণযোগ্য .... ।’ অন্যত্র বলেন: ‘আব্দুর রহমান থেকে আবু ইসহাকের সমর্থন করেছেন লাইছ। আর তার বর্ণনা সমর্থক হিসেবে উল্লেখযোগ্য। [ফাতহুল বারী: ভূমিকা ৩৪৯, ১/২৫৮]

ইমাম যাহাবী রহ. বলেন: (قُلْتُ: بَعْضُ الأَئِمَّةِ يُحَسِّنُ لِلَّيْثِ، وَلاَ يَبلُغُ حَدِيْثُه مَرتَبَةَ الحَسَنِ بَلْ عِدَادُه فِي مَرتَبَةِ الضَّعِيْفِ المُقَاربِ، فَيُرْوَى فِي الشَّوَاهِدِ وَالاعْتِبَارِ، وَفِي الرَّغَائِبِ، وَالفَضَائِلِ، أَمَّا فِي الوَاجِبَاتِ، فَلاَ.) : ‘কোন কোন ইমাম লাইছের হাদীসকে হাসান গণ্য করেছেন। কিন্তু তার হাদীস হাসান পর্যায়ের নয়। বরং তা হাসানের নিকটবর্তী যঈফরূপে গণ্য। তাই তা (অন্য বর্ণনার) সহায়ক ও সমর্থকরূপে বর্ণনা করা যাবে। এবং ফযীলতের বিষয়েও বর্ণনা করা যাবে। কিন্তু ওয়াজিব বিধান সাব্যস্ত করতে তা বর্ণনা করা যাবে না’। [সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/১৭৯]

সুতরাং তাঁর বর্ণনা সাধারণ সকল যঈফের মত নয়, বরং হাসানের কাছাকাছি পর্যায়ের। ফযীলতের ক্ষেত্রে তাঁর বর্ণনায় নির্ভর করা যায়। অন্য বর্ণনার সমর্থন পেলেই তা হাসান স্তরে উন্নীত হয়। তখন বিধানের ক্ষেত্রেওতো প্রযোজ্য হবে। একারণে আলবানী সাহেবও ‘সিলসিলতুস্-সহীহা’ গ্রন্থে (হা.৫৮৬) লাইছের একটি বর্ণনাকে সালামা ইবনে ওয়ারদান সূত্রে বর্ণিত আরেকটি যঈফ বর্ণনার সমর্থনে হাসান বলেছেন। আলোচ্য হাদীসেও লাইছের বর্ণনার সমর্থনে রয়েছে, তাহাবীর শারহু মুশকিলিল আসারের বর্ণনা। তাই আলবানী সাহেবের যুক্তিতেই একে হাসান বলতে হবে।

লাইছ রহ. এর স্মৃতিশক্তির দূর্বলতা কখন থেকে

লাইছের যঈফ হওয়ার মূল কারণ ইঙ্গিত করে ইমাম ইবনে হিব্বান রহ. বলেন: (اخْتُلِطَ فِي آخِرِ عُمُرِهِ، ... كُلُّ ذَلِكَ كَانَ مِنْهُ فِي اخْتِلاَطِه.) : অর্থাৎ ‘শেষ বয়সে তার ইখতিলাত: স্মৃতি শক্তির মধ্যে পরিবর্তন দেখা দিয়েছিল’। আর এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন লাইছ থেকে দুজন নির্ভরযোগ্য রাবী।

আব্দুস সালাম ইবনে হারব ও যায়েদা ইবনে কুদামা। তন্মধ্যে যায়েদা একদিকে লাইছের এলাকার লোক এবং তার প্রবীণ শিষ্য। আবার তার স্বভাব ছিল কারো কাছ থেকে হাদীস নেয়ার সময় এবং তা বর্ণনা করার সময় ভাল রকম যাচাই-বাছাই করা। এ কারণেই ইমাম আহমদ বলেন: ‘যায়েদা ও যুহাইর থেকে কোন হাদীস শুনলে, তা আর কারো কাছ থেকে না শুনলেও কোন সমস্যা নেই। তবে আবু ইসহাকের হাদীস ব্যতিত’। তিনি আরো বলেন: ‘চারজন বর্ণনাকারী হলেন, মুতাসব্বিত [নির্ভুল বর্ণনাকারী] সুফইয়ান, শুবা যুহাইর ও যায়েদা। [সিয়ারু আলামিন নুবালা] তিনি আরো বলেন: ‘যায়েদা কোন হাদীস বর্ণনাকালে ইত্কান তথা দৃঢ়তা ও যতেœর সাথে করত’। একবার এক উপলক্ষে সুফইয়ান যায়েদাকে বললেন: ‘নিশ্চয় আপনি সিকাহ তথা নির্ভরযোগ্য এবং সিকাহ বর্ণনাকারী থেকেই আমাদেরকে হাদীস শুনিয়ে থাকেন ...’। (যায়েদা এতে মৌন সমর্থন ব্যক্ত করলেন)। [ইলাল]।

সুতরাং যায়েদা ইবনে কুদামা হলেন লাইছের যে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন তা হয়ত তার ইখতিলাত তথা স্মৃতিশক্তি দূর্বল হওয়ার আগের, অথবা পরের হলেও তা ছিল নির্ভুল। আব্দুস সালামও লাইছ থেকে একই হাদীস বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এ বর্ণনায় লাইসের কোন ভুল হয়নি। সম্ভবত একারণেই ইমাম বুখারী রহ. যায়েদা সূত্রে লাইছের এ বর্ণনাটিকে স্পষ্ট ভাষায় সহীহ বলে দিয়েছেন।

চ. গ্রন্থকার আলবানী সাহেবের এমন দলিলবিহীন ও অনুমান নির্ভর হুকুমের অন্ধ তাকলীদই করেছেন। তার মাথায় এতটুকু কথাও আসেনি যে, আছরামের সনদকে তিনি কিভাবে যঈফ বলছেন অথচ তিনি তা দেখেনইনি।

গ্রন্থকার - ২৯

বাতিল কথার পুনরাবৃত্তি!

গ্রন্থকার বলেন: “আরো উল্লেখ্য যে, উক্ত বর্ণনার মধ্যে পুনরায় হাত বেঁধে কুনূত পড়ার কথা নেই। এ মর্মে কোন দলীলও নেই। অথচ এটাই সমাজে চলছে। বরং এটাকে ওয়াজিব বলা হয়েছে।”

পর্যালোচনা

এক. ‘হাত বেঁধে’ কুনূত পড়াকে ওয়াজিব বলা হয়নি। বরং শুধু কুনূত পড়াকেই ওয়াজিব বলা হয়েছে। হানাফী মাযহাবের ফিকহের কিতাবে যা স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। তাই এখানে গ্রন্থকার নিজে ভুল বুঝে অন্যের উপরে দোষ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এটা তার অন্যায় আপত্তি।

দুই. “এ মর্মে কোন দলীলও নেই।” একথা দ্বারা গ্রন্থকার কি ধরণের দলিল চান? নবীজীর বক্তব্য বা আমল, সাহাবী বা তাবেয়ীর ফতোয়া বা আমল, না কোন ইমামের কথা বা আমল? গ্রন্থকার তার বইয়ে কুনূত পড়ার ছহীহ নিয়মের যে দলিল দিয়েছেন তাতে পাওয়া গেছে শুধু ইমাম ইসহাক ইবনে রাহুয়ার আমল বা কর্ম (দেখুন:পৃ.৩৩৬ টীকা-১৩০৪, ইরওয়াউল গালীল ২/৭১)। এ থেকে তো বুঝা যায় কোন ইমামের কথা বা আমল পাওয়া গেলেই ছহিহ দলিল হয়ে যায়।

তাই যদি হয় তাহলে হাত বেঁধে কুনূত পড়ার কথা বর্ণিত হয়েছে মহান ফকীহ তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী (মৃ.৯৬ হি.) থেকে। যিনি মূলত ইলম শিখেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর প্রধান শিষ্যদের কাছ থেকে। সুতরাং এটা সুস্পষ্ট যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে তাকবীর বলা ও হাত উঠানোর যে সহীহ বর্ণনা রয়েছে এরই বাস্তবরূপ ও সহীহ ব্যাখ্যা হল ইবরাহীম নাখাঈর কথা ও আমল। কারণ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর প্রধান ফকীহ শিষ্য হলেন আলকামা। আলকামার প্রধান ফকীহ শিষ্য হলেন ইবরাহীম নাখাঈ। [সিয়ারু আলামিন নুবালা] তাই এটি নিঃসন্দেহে গ্রন্থকারের দলিলের চেয়ে বহু গুণে শক্তিশালী। [দেখুন: কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মদীনা, ইমাম মুহাম্মদ পৃ. ২০০ (পৃ.৫৫ পুরাতন ছাপা) কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মদের বর্ণনা পৃ.২০৭]

তিন. গ্রন্থকারের উপরিউক্ত দৃষ্টিকোণ থেকে বরং ইমাম আবু হানীফার (মৃত.১৫০ হি.) ফতোয়া ও আমলই এ বিষয়ে দলিল হওয়ার জন্য যথেষ্ট। কেননা ইসহাক ইবনে রাহুইয়া (মৃত.২৩৮ হি.):এর আমল এর চেয়ে তার আমলের গুরুত্ব অবশ্যই বেশি। আবু হানীফা রহ. ছিলেন তাবেঈ। আবার তিনি সাহাবীদের থেকে সরাসরি শিক্ষাপ্রাপ্ত বহু বড় বড় তাবেঈ থেকেই নামায শিখেছেন। যে সুযোগ ইসহাক ইবনে রাহুয়া রহ. এর হয়নি।

চার. গ্রন্থকার বলেন: “আরো উল্লেখ্য যে, উক্ত বর্ণনার মধ্যে পুনরায় হাত বেঁধে কুনূত পড়ার কথা নেই। ” আমি বলব এ বর্ণনা দ্বারা যদি এতটুকু প্রমাণিত হয় যে, কুনূতের শুরুতে তাকবীর বলবে আর হাত উঠাবে তাতেই যথেষ্ট। কেননা কুনূত পড়ার সময় হাত কিভাবে থাকবে বিষয়টি গ্রন্থকার নিজেই ‘কুনূত পড়ার ছহীহ নিয়ম’ শিরোনামে বলে দিয়েছেন। তিনি বলেন: (পৃ.৩৩৬) “শেষ রাক‘আতে হাত বাঁধা অবস্থায় দু‘আয়ে কুনূত পড়া”। ব্যস, কুনূত পড়ার আগে তাকবীর বলা ও হাত উঠানোর দলিলতো আছেই। এখন কুনূত পড়ার সময় হাত বেঁধে রাখার দলিল কি তা গ্রন্থকার বলুন! আমরাত ইবরাহীম নাখাঈর আছার উল্লেখ করেছি।

দু‘আয়ে কুনূত

গ্রন্থকার - ৩০

গ্রন্থকার বলেন: “(৫) বিতরের কুনূতে ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ও নাস্তাগফিরুকা ... মর্মে ‘কুনূতে নাযেলার’ দু‘আ পাঠ করা: অধিকাংশ মুছল্লী বিতরের কুনূতে যে দু‘আ পাঠ করে থাকে, সেটা মূলতঃ কুনূতে নাযেলা। (টীকা:১৩০৯. ...) রাসূল (ছাঃ) বিতর ছালাতে পড়ার জন্য হাসান (রাঃ) কে যে দু‘আ শিক্ষা দিয়েছিলেন, তা মুছল্লীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। অতএব বিতরের কুনূত হিসাবে রাসূল (ছাঃ) - এর শিক্ষা দেওয়া দু‘আ পাঠ করতে হবে। ... (তরজমা) ...রাসূল (ছাঃ) আমাকে কতিপয় বাক্য শিক্ষা দিয়েছেন সেগুলো আমি বিতর ছালাতে বলি। ...।”

পর্যালোচনা

কোন কুনূতকে প্রত্যাখ্যান করা হয়নি

হানাফী মাযহাবের যে কোন নির্ভরযোগ্য কিতাব খুললেই দেখা যাবে যে, কুনূতের জন্য কোন একটি দুআকে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি (আল-মাবসূত লি মুহাম্মদ ১/১৬৪)। বরং হাদীস ও আসারে কুনূত হিসেবে বর্ণিত সব দোয়াই যে পড়া যায় সে কথাই বলা হয়েছে। একথা সাধারণ পাঠকের জন্য লেখা ‘নবীজীর নামায’ (পৃ.২৪৩) বইয়ে এভাবে বলা হয়েছে, ‘বিতরের তৃতীয় রাকাতে রুকুর আগে দুআ কুনূত পড়া হবে। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন দুআ হাদীস শরীফে এসেছে। ..’। ‘দলিলসহ নামাযের মাসায়েল’ (প্রথম সংস্করণ) এ একথা স্পষ্ট বলা আছে। বরং হানাফী মাযহাবের বহু ফকীহ হাদীসে বর্ণিত প্রসিদ্ধ দুটি দুআই কুনূতে পড়ার কথা স্পষ্ট বলে দিয়েছেন। [দেখুন, বিতর সালাত প্রথম অধ্যায় দুআয়ে কুনূতের আলোচনা]

সুতরাং তার এ দাবী বাস্তবসম্মত নয়। তবে আমাদের দেশের জন সাধারণের জন্য সহজ করণার্থে অনেকে একটি দোয়াই উল্লেখ করে থাকেন। অপর দোয়াটি প্রত্যাখ্যান করার অর্থে কখনোই নয়।

গ্রন্থকার - ৩১

গ্রন্থকার বলেন “ বিতরের কুনূতে ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ও নাস্তাগফিরুকা ... অধিকাংশ মুছল্লী বিতরের কুনূতে যে দু‘আ পাঠ করে থাকে, সেটা মূলতঃ কুনূতে নাযেলা। (টীকা:১৩০৯. ...)” (পৃ. ৩৩৭)

পর্যালোচনা

‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ...’ দুআটি বিতরের কুনূতেও পড়া যায়

গ্রন্থকার তার দাবী অর্থাৎ ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা...’ দুআটি কুনূতে নাযেলা হওয়ার দলিল হিসেবে টীকায় একটি বরাত দিয়েছেন। সে বরাতে রয়েছে ‘হযরত উমর রা. ফজরের নামাযের কুনূতে এ দুআটি পড়তেন’। কুনূতে নাযেলার বিষয়ে কোন কথা বলা হয়নি। আলবানী সাহেব রহ. এটিকে কুনূতে নাযেলা সাব্যস্ত করেছেন। আর গ্রন্থকার তারই অনুসরণ করেছেন। [ইরওয়াউল গালীল ২/১৭১]

আর তাই যদি হয় তাহলে হযরত উমর রা. থেকেই একাধিক বর্ণনা আছে তিনি এ দুআটি বিতরের কুনূতেও পড়তেন। [আল-আউসাত, ইবনিল মুনযির ৫/২১৪, ছালাতুল বিতর, ইবনু নছর সাথে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, হযরত আনাস, উবাই ইবনে কাব, ইবরাহীম নাখাঈ, আতা, তাউস, সাঈদ ইবনুল মাসাইয়্যিব প্রমুখ বিতরে এ দুআটি পড়তেন। হাসান বছরী রহ. তাঁর দেখা সকল সাহাবীদের থেকেই এ দুআটি পড়ার কথা বর্ণনা করেছেন। হযরত উমর রা. ফজরে পড়েছেন বলে এটি কুনূতে নাযেলা হয়েছে, তাহলে তিনি যে বিতরেও পড়েছেন তাতে এটি বিতরের কুনূত হবে না কেন?

গ্রন্থকার - ৩২

গ্রন্থকার বলেন “অতএব বিতরের কুনূত হিসাবে রাসূল (ছাঃ) - এর শিক্ষা দেওয়া দু‘আ পাঠ করতে হবে। ... (তরজমা) ...রাসূল (ছাঃ) আমাকে কতিপয় বাক্য শিক্ষা দিয়েছেন সেগুলো আমি বিতর ছালাতে বলি। ...।”

পর্যালোচনা

‘আল্লাহুম্মাহ্দিনা ফীমান হাদাইতা ...’ দুআটি বিতরের মত ফজরেরও কুনূত:

যে দুআটি গ্রন্থকার শুধু বিতরের কুনূত বলে দাবী করছেন, সেটিই বরং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের কুনূত তথা কুনূতে নাযেলা হিসেবে সাহাবীদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। দেখুন ইমাম বাইহাকী রহ. বর্ণনাটি উল্লেখপূর্বক কত স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন:(فصح بهذا كله أن تعليم هذا الدعاء وقع لقنوت صلاة الصبح وقنوت الوتر) : অর্থাৎ ‘উপরোক্ত আলোচনায় বিশুদ্ধরূপে প্রমাণিত হয়ে গেল যে, এ দুআটি শিক্ষা দেয়া হয়েছে ফজর ও বিতর উভয় কুনূতের জন্য’। [আস-সুনানুল কুবরা ২/২১০ হা.৩২৬৬] সুতরাং এ দুআকে শুধু বিতরের দুআ হিসেবে নির্দিষ্ট করে ফেলা ঠিক নয়।