দলিলসহ নামাজের মাসায়েল : (পর্ব ৪১)বৈঠক সম্পর্কিত হাদীসটির জবাব: | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

বৈঠক সম্পর্কিত হাদীসটির জবাব:

মালেক ইবনুল হুয়ায়রিছ রা. এর হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বসার যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে সে হাদীস সম্পর্কে ইমাম আহমদ রহ. বলেছেন:ليس لهذا الحديث ثان يعنى أنه لم ترو هذه الجلسة في غير هذا الحديث অর্থাৎ মালেক ইবনুল হুওয়াইরিছ রা. এর হাদীসটি এমন যার সমর্থনে দ্বিতীয় কোন হাদীস নেই। অর্থাৎ এই বৈঠকটির কথা অন্য কোন হাদীসে উদ্ধৃত হয় নি। ইবনে রজব রহ. ফাতহুল বারী গ্রন্থে একথা উল্লেখপূর্বক লিখেছেন:

وهذا يدل على أن ما روي في هذه الجلسة من الحديث غير حديث مالك بن الحويرث ، فانه غير محفوظ. (৪/৩০০)

অর্থাৎ এ বক্তব্য নির্দেশ করে যে, মালেক ইবনুল হুওয়াইরিছ রা. বর্ণিত হাদীস ছাড়া এ বৈঠক সম্পর্কে অন্য যেসকল হাদীস বর্ণিত হয়েছে সেগুলো সঠিক নয়। (৪/৩০০)

ইমাম তাহাবী র. বলেন:

فلما تخالف الحديثان احتمل أن يكون ما فعله رسول الله صلى الله عليه و سلم في الحديث الأول لعلة كانت به فقعد من أجلها لا لأن ذلك من سنة الصلاة وقال: ولو كانت هذه الجلسة مقصودة تشرع لها ذكر مخصوص. (باختصار ٢/٣٧٦)

অর্থাৎ যখন দু’টি হাদীসের মধ্যে বৈপরিত্য দেখা যাচ্ছে, তখন ধরে নিতে হবে, মালেক ইবনুল হুয়ায়রিছ রা. এর হাদীসে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলটি কোন উযরের কারণে হয়ে থাকবে। নামাযের সুন্নত হিসাবে করা হয়নি । তিনি আরো বলেন, এই বৈঠক যদি উদ্দেশ্য হতো, তাহলে এতে বিশেষ কোন যিকিরের বিধান অবশ্যই রাখা হতো। (তাহাবী, ২খ. ৩৭৬পৃ.)

আল্লামা ইবনুল কায়্যিম র.ও তাঁর যাদুল-মাআদ গ্রন্থে বলেছেন,

ولو كان هديُه صلى الله عليه وسلم فعلَها دائماً، لذكرها كلُّ من وصف صلاته صلى الله عليه وسلم ومجردُ فعله صلى الله عليه وسلم لها لا يدلُّ على أنها من سنن الصلاة، إلا إذا علِمَ أنه فعلها على أنها سنَّة يُقتدى به فيها، وأما إذا قُدِّر أنه فعلها للحاجة، لم يدل على كونها سنة من سنن الصلاة،

অর্থাৎ এটা যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়মিত আমল হতো তবে তাঁর নামাযের বিবরণ দানকারী প্রত্যেক সাহাবী তা উল্লেখ করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুধু কোন কাজ করাই একথা প্রমাণ করে না যে, এটা নামাযের একটি অনুসৃত আমল। তবে হ্যাঁ, যদি জানা যায় এটাকে তিনি অনুসরণযোগ্য সুন্নত আখ্যা দিয়েছেন তবে সেটা নামাযের সুন্নত বলে গন্য হবে। কিন্তু যদি (কোন দলিলপ্রমাণের ভিত্তিতে) ধরে নেয়া হয় যে, তিনি বিশেষ প্রয়োজনে সেটা করেছেন, তাহলে তা নামাযের সুন্নত বলে প্রমাণিত হবে না। (দ্র. ১খ. ২৪০ পৃ.)

উল্লেখ্য যে, ইমাম শাফেঈ রহ. এর একটি মত তো হলো, এ বৈঠক করা মুস্তাহাব। তাঁর আরেকটি মত হলো বৈঠক করবে না, যেমনটি বলেছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেম ও ফকীহ।

ইবনে রজব হাম্বলী রহ. লিখেছেন,

وحمل أبو إسحاق المروزي القولين للشافعي على اختلاف حالين ، لا على اختلاف قولين ، وحملوا حديث مالك بن الحويرث على مثل ذلك ، وان النبي ( كان يقعد أحيانا لمّا كبر وثقل بدنه ؛ فإن وفود العرب إنما وفدت على النَّبيّ ( في آخر عمره . ويشهد لذلك ، أن أكابر الصحابة المختصين بالنبي لم يكونوا يفعلون ذلك في صلاتهم ، فدل على أنهم علموا أن ذلك ليس من سنن الصلاة مطلقاً .

অর্থাৎ আবু ইসহাক মারওয়াযী রহ. ইমাম শাফেঈ রহ. এর দু’টি বক্তব্যকে দুটি অবস্থার সঙ্গে ফিট করেছেন। দুটি মত হিসাবে ধরেন নি। মালেক ইবনুল হুয়াইরিছ রা.এর বর্ণনাকে আলেমগণ একইভাবে গ্রহণ করেছেন। নবী করীম সা. যখন বৃদ্ধ হলেন এবং দেহ মুবারক ভারি হয়ে গেল তখন অনেক সময় তিনি এই বৈঠক করেছেন। মালেক রা.এর ঘটনাটি যে শেষ দিকের ছিল তার প্রমাণ, উফূদ বা আরবের বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিদল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে তাঁর শেষ বয়সেই এসেছিল। (আর এ বৈঠক যে শেষ আমলে উযরের কারণে ছিল) তার বড় প্রমাণ, রাসূল সা. এর বিশিষ্ট সাহাবী ও শীর্ষ সাহাবীগণের কেউ তাঁদের নামাযে এ বৈঠক করেন নি। বোঝা গেল, তাঁরা জানতেন, এটা সাধারণ অবস্থায় নামাযের সুন্নত নয়।