দলিলসহ নামাজের মাসায়েল : (পর্ব ৩)বেজোড় ইকামতের আরো কতিপয় হাদীস ও সেগুলোর মান : | ইসলামী বিশ্বকোষ ও আল-হাদিস

বেজোড় ইকামতের আরো কতিপয় হাদীস ও সেগুলোর মান :

১. ইবনে উমর রা. বর্ণিত হাদীস। এটি উদ্ধৃত করেছেন আবূ দাউদ, হা. ৫১০; নাসাঈ, হা. ৬২৮, ৬৬৮; ইবনে খুযায়মা, হা. ৩৭৪। এর একজন রাবী আবূ জাফর আল মুয়াযযিন এর নাম ও বংশ পরিচয় নিয়ে মুহাদ্দিসগণের প্রচ- দ্বিমত রয়েছে। তার বিশ্বস্ততা নিয়েও রয়েছে দ্বিমত। আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। ইবনে আদী তার ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন নি। যারা তার বিশ্বস্ততার পক্ষে, তারাও তাকে উচ্চ মানসম্পন্ন রাবী মনে করতেন না। তাছাড়া ইবনে হিব্বান ও ইবনে হাজারের মতে তিনি ভুলেরও শিকার হতেন। এ হাদীসের আরেক রাবী আবুল মুছান্না মুসলিম ইবনুল মুছান্না। তার সম্পর্কে ইবনে হিব্বান বলেছেন, ربما وهم في الشيء بعد الشيء على ابن عمر তিনি মাঝেমধ্যে ইবনে উমর রা.এর হাদীসে ভুল করতেন। সুতরাং এ হাদীসকে বড় জোর হাসান বলা যায়, সহীহ বলার সুযোগ নেই। কেউ কেউ তো যঈফও মনে করতেন।

২. আবু রাফে রা. বর্ণিত হাদীস। এটি উদ্ধৃত করেছেন ইবনে মাজাহ, হা. ৭৩২; দারাকুতনী, হা. ৯৩৪। এটি সকলের মতেই যঈফ। কারণ এর দুজন রাবী মা’মার ইবনে মুহাম্মাদ ও তার পিতা মুহাম্মাদ ইবনে উবায়দুল্লাহ মুহাদ্দিসগণের নিকট চরম দুর্বল।

৩. আম্মার ইবনে সা’দ বর্ণিত হাদীস। এটি উদ্ধৃত করেছেন ইবনে মাজাহ, হা. ৭৩১ ও তাবারানী মু’জামে কাবীরে, ৬/৩৯। এটিও সকলের মতে জঈফ। কারণ এতে দুজন যঈফ রাবী আছেন। এক. আব্দুর রহমান ইবনে সাদ, দুই. সাদ ইবনে আম্মার।